৪/৩৫. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮ - মযী বের হলে ওযুর বিধান

সামনের এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ব্যতীত অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না।

وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ﴿আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর কারণে: “অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার হতে আসে।” (সূরা আন-নিসা ৪/৪৩)وَقَالَ عَطَاءٌ فِيمَنْ يَخْرُجُ مِنْ دُبُرِهِ الدُّودُ أَوْ مِنْ ذَكَرِهِ نَحْوُ الْقَمْلَةِ يُعِيدُ الْوُضُوءَ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, যার পেছনের রাস্তা দিয়ে পোকা বের হয় অথবা যার পুরুষাঙ্গ দিয়ে উকুনের ন্যায় কিছু বের হয়, তার পুনরায় ওযু করতে হবে。وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِذَا ضَحِكَ فِي الصَّلَاةِ أَعَادَ الصَّلَاةَ وَلَمْ يُعِدِ الْوُضُوءَ وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ أَخَذَ مِنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ أَوْ خَلَعَ خُفَّيْهِ فَلَا وُضُوءَ عَلَيْهِ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ الرِّقَاعِ فَرُمِيَ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَنَزَفَهُ الدَّمُ فَرَكَعَ وَسَجَدَ وَمَضَى فِي صَلَاتِهِ وَقَالَ الْحَسَنُ مَا زَالَ الْمُسْلِمُونَ يُصَلُّونَ فِي جِرَاحَاتِهِمْ وَقَالَ طَاوُسٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ وَعَطَاءٌ وَأَهْلُ الْحِجَازِ لَيْسَ فِي الدَّمِ وُضُوءٌ وَعَصَرَ ابْنُ عُمَرَ بَثْرَةً فَخَرَجَ مِنْهَا الدَّمُ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَبَزَقَ ابْنُ أَبِي أَوْفَى دَمًا فَمَضَى فِي صَلَاتِهِ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَالْحَسَنُ فِيمَنْ يَحْتَجِمُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا غَسْلُ مَحَاجِمِهِ.জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কেউ সালাত অবস্থায় হেসে ফেললে পুনরায় শুধুমাত্র সালাতই আদায় করবে, পুনঃ ওযু করবে না। হাসান (রহঃ) বলেন, কেউ যদি চুল অথবা নখ কাটে অথবা তার মোজা খুলে ফেলে তবে তার পুনরায় ওযু করতে হবে না। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, ‘হাদাস’ ব্যতীত অন্য কিছুতে ওযুর প্রয়োজন নেই। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ‘যাতুর রিকা’-এর যুদ্ধে ছিলেন।সেখানে জনৈক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হলেন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল, কিন্তু তিনি (সে অবস্থায়ই) রুকু করলেন, সিজদা করলেন এবং সালাত আদায় করতে থাকলেন। হাসান (রহঃ) বলেন, মুসলিমগণ সব সময়ই তাদের যখম অবস্থায় সালাত আদায় করতেন এবং তাউস (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী (রহঃ), ‘আত্বা (রহঃ) ও হিজাযবাসীগণ বলেন, রক্তক্ষরণে ওযু করতে হয় না। ইবন ‘উমার (রাঃ) একদা একটি ছোট ফোঁড়া টিপ দিলেন, তা থেকে রক্ত বের হল, কিন্তু তিনি ওযু করলেন না। ইবন আবূ আওফা (রাঃ) রক্ত মিশ্রিত থুথু ফেললেন কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে থাকলেন। ইবন ‘উমার (রাঃ) ও হাসান (রহঃ) বলেন, কেউ শিঙ্গা লাগালে কেবল তার শিঙ্গা লাগানো স্থানই ধুয়ে ফেলা দরকার।

মযী বের হলে কী করতে হয়: ওযুর বিধান নিয়ে হাদিস

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُنْذِرٍ أَبِي يَعْلَى الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدٍ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً، فَاسْتَحْيَيْتُ أَنْ أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ «فِيهِ الْوُضُوءُ». وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنِ الأَعْمَشِ.

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমার অধিক পরিমাণে মযী বের হতো। কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তাই আমি মিকদাদ ইব্‌নু আসওয়াদ (রাঃ) কে অনুরোধ করলাম, তিনি যেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-নিকট জিজ্ঞেস করেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বলেনঃ এতে শুধু উযূ করতে হয়। হাদীসটি শু’বাহ (রহঃ) আ’মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: মযী। আলী (রাঃ) বলেন, তাঁর বেশি মযী বের হতো। তিনি লজ্জার কারণে সরাসরি আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করতে পারছিলেন না। তাই মিকদাদ ইবন আসওয়াদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে বললেন। তিনি প্রশ্ন করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, এতে ওযু করতে হয়। এই হাদিসে মযী বের হলে করণীয় বিষয়টি সরাসরি এসেছে। একই সঙ্গে এখানে দ্বীনি জ্ঞান শেখার সুন্দর পদ্ধতিও আছে। লজ্জা থাকলেও প্রয়োজনীয় মাসআলা জেনে নেওয়া দরকার। কেউ নিজে জিজ্ঞেস করতে না পারলে বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে জিজ্ঞেস করাও একটি পথ হতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মযী বের হলে ওযু করার নির্দেশ এসেছে।
  • প্রয়োজনীয় দ্বীনি প্রশ্ন লজ্জার কারণে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
  • সরাসরি জিজ্ঞেস করতে না পারলে বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে জানা যায়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন