৩০/৪০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৫০ - রমজানের কাজা সাওম ও শা'বান
রমজানের কাজা কখন আদায় করতে হবে?
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَا بَأْسَ أَنْ يُفَرَّقَ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ﴿ وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ فِي صَوْمِ الْعَشْرِ لَا يَصْلُحُ حَتَّى يَبْدَأَ بِرَمَضَانَ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ إِذَا فَرَّطَ حَتَّى جَاءَ رَمَضَانُ آخَرُ يَصُومُهُمَا وَلَمْ يَرَ عَلَيْهِ طَعَامًا وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مُرْسَلًا وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ يُطْعِمُ وَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهُ الْإِطْعَامَ إِنَّمَا قَالَ ﴾فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ﴿ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, পৃথক পৃথক রাখলে কোনো ক্ষতি নেই। কেননা, আল্লাহ বলেছেন, ﴾فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ﴿ ‘অন্যদিনে এর সংখ্যা পূর্ণ করবে’ (আল-বাকারা (২) : ১৮৪)। সা‘ঈদ ইবন মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেছেন, রমযানের কাযা আদায় না করে যুলহজ্জ মাসের প্রথম দশকে সওম পালন করা উচিত নয়। ইবরাহীম নাখ‘ঈ (রহঃ) বলেন, অবহেলার কারণে যদি পরবর্তী রমযান এসে যায় তাহলে উভয় রমযানের সওম এক সাথে আদায় করবে। মিসকীন খাওয়াতে হবে বলে তিনি মনে করেন না। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একটি মুরসাল হাদীসে এবং ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সে খাওয়াবে; অথচ আল্লাহ তা‘আলা খাওয়ানোর কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং তিনি বলেছেন, ‘অন্যদিনে এর সংখ্যা পূর্ণ করবে’ (আল-বাকারা: ১৮৪)।"
রমজানের কাজা সাওম: আয়িশা রাঃ-এর আমল থেকে শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৯৫০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯৫০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ كَانَ يَكُونُ عَلَيَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَ إِلاَّ فِي شَعْبَانَ قَالَ يَحْيَى الشُّغْلُ مِنْ النَّبِيِّ أَوْ بِالنَّبِيِّ ﷺ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার উপর রমযানের যে কাযা হয়েছে তা পরবর্তী শা’বান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না। ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, নবী (ﷺ)-এর ব্যস্ততার কারণে কিংবা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ব্যস্ততার কারণে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৫০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: কাজা সাওম। এই হাদিসে আয়িশা রাঃ বলেন, তাঁর উপর রমজানের যে কাজা সাওম থাকত, তা তিনি পরবর্তী শা'বান ছাড়া আদায় করতে পারতেন না। ইয়াহিয়া রাঃ বলেন, এটি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ব্যস্ততার কারণে বা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে ব্যস্ততার কারণে হতো। এই হাদিসে রমজানের ছুটে যাওয়া রোজা পরবর্তী সময়ে আদায় করার বিষয় এসেছে। এখানে সময়ের প্রসঙ্গ হিসেবে শা'বান উল্লেখ আছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, রমজানের কাজা সাওম ভুলে যাওয়ার বিষয় নয়; সুযোগ হলে তা আদায় করতে হয়। তবে বর্ণনায় যতটুকু আছে, ততটুকুই বলা উচিত—আয়িশা রাঃ-এর বিশেষ অবস্থার কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের ছুটে যাওয়া সাওম পরে আদায় করতে হয়।
- আয়িশা রাঃ শা'বান মাসে কাজা সাওম আদায়ের কথা বলেছেন।
- ব্যস্ততা থাকলেও কাজা সাওমের দায়িত্ব মনে রাখা দরকার।
- হাদিস বুঝতে ব্যক্তির অবস্থাও বিবেচনায় আসে।
