৩০/৪৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৫৭ - শীঘ্র ইফতারের কল্যাণ
শীঘ্র ইফতার করা
শীঘ্র ইফতার: কল্যাণের উপর থাকার নববী শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৯৫৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯৫৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে [১], ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।
[১] হাদীসে জলদি জলদি ইফতার করার জন্য খুব তাগিদ দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করতে হবে। চোখে সূর্যাস্ত দেখে ইফতার করা যায়। সূর্যাস্ত দেখতে না পাওয়া গেলে সূর্যাস্তের সময়সূচী বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস থেকে সংগ্রহ করা যায়। রেডিও ও টেলিভিশনে সূর্যাস্তের সময় ঘোষণা করা হয়, খবরের কাগজেও সূর্যাস্তের সময় লেখা হয়। আমাদের দেশে ইফতারের সময়সূচী প্রকাশ করা হয়-যেগুলিতে সূর্যাস্তের সময়ের সাথে ১ মিনিট বা ২ মিনিট বা ৫ মিনিট যোগ করে ইফতারের সময় বলে লেখা হয়। কিন্তু হাদীসে উল্লেখিত কল্যাণ লাভ করতে চাইলে সূর্যাস্তের সময় জেনে নিয়ে সাথে সাথেই ইফতার করতে হবে। সূর্যাস্ত হয়ে গেলেও ইফতার না করে বসে বসে অন্ধকার করা ইহুদী ও নাসারাদের কাজ। (আবূ দাউদ ২২৫৩, ইব্নু মাজাহ ১৬৯৮)
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৫৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: শীঘ্র ইফতার। এই হাদিসে আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। বাক্যটি ছোট, কিন্তু রোজাদারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ইফতারের সময় হলে দ্রুত ইফতার করার শিক্ষা এসেছে। অকারণে দেরি করা বা বেশি সতর্কতার নামে ইফতার পিছিয়ে দেওয়া এই হাদিসের মূল নির্দেশনার সঙ্গে যায় না। তবে ‘শীঘ্র’ বলতে হাদিসের আলোকে সময় হওয়ার পরের কথা বোঝা যায়। ইফতারের সময়, সাওম ভঙ্গ, নবীজির صلى الله عليه وسلم সুন্নাহ এবং রমজানের আমল—এসব বিষয়ে এই হাদিস সহজ ও শক্তিশালী দিকনির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইফতারের সময় হলে শীঘ্র ইফতার করা কল্যাণের কারণ।
- নবী صلى الله عليه وسلم ইফতার দেরি না করার শিক্ষা দিয়েছেন।
- রোজার আমলে সময়ের গুরুত্ব আছে।
- সুন্নাহ অনুযায়ী ইফতার করা রোজাদারের জন্য উত্তম আচরণ।
