৩০/৪৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৬৪ - উম্মতের প্রতি দয়ার কারণে বিসাল নিষেধ
সওমে বিসাল (বিরামহীন সওম)।
وَمَنْ قَالَ لَيْسَ فِي اللَّيْلِ صِيَامٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ﴿ وَنَهَى النَّبِيُّ ﷺ عَنْهُ رَحْمَةً لَهُمْ وَإِبْقَاءً عَلَيْهِمْ وَمَا يُكْرَهُ مِنَ التَّعَمُّقِআল্লাহ তা‘আলার বাণী: “রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর” (আল-বাকারা: ১৮৭)। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতে সওম পালন করা যাবে না বলে যিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন, নবী (ﷺ) উম্মতের উপর দয়াপরবশ হয়েও তাদের স্বাস্থ্য রক্ষার খাতিরে সওমে বিসাল হতে নিষেধ করেছেন এবং কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা নিন্দনীয়।"
উম্মতের প্রতি দয়া: সাওমে বিসাল থেকে নিষেধের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৯৬৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯৬৪
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدٌ قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ الْوِصَالِ رَحْمَةً لَهُمْ فَقَالُوا إِنَّكَ تُوَاصِلُ قَالَ إِنِّي لَسْتُ كَهَيْئَتِكُمْ إِنِّي يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ لَمْ يَذْكُرْ عُثْمَانُ رَحْمَةً لَهُمْ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লোকদের উপর দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে সাওমে বেসাল হতে নিষেধ করলে তারা বলল, আপনি যে সাওমে বেসাল করে থাকেন! তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, রাবী ‘উসমান (রহঃ) رَحْمَةً لَهُمْ ‘তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে’ কথাটি উল্লেখ করেননি।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) লোকদের উপর দয়াপরবশ হয়ে সাওমে বিসাল থেকে নিষেধ করেছেন। সাহাবাগণ বললেন, আপনি তো সাওমে বিসাল করেন। উত্তরে তিনি বললেন, আমি তোমাদের মতো নই; আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। এখানে সাওমে বিসালের নিষেধের সঙ্গে দয়ার দিকটি স্পষ্ট হয়েছে। ইসলাম ইবাদতকে কষ্টের প্রতিযোগিতা বানায় না; বরং মানুষ যেন সামর্থ্যের মধ্যে থাকে, সেটিও শিক্ষা দেয়। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের শরীর ও শক্তির দিকটি বিবেচনা করেছেন। তাই রোজার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা নয়, বরং নির্দেশিত পথই নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের প্রতি দয়ার কারণে বিসাল নিষেধ করেছেন।
- ইবাদতে কষ্ট বাড়ানোই সব সময় কাম্য নয়।
- সাধারণ মানুষের জন্য নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ অবস্থা অনুসরণীয় নয়।
