৩০/৪৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৬১ - সাওমে বিসাল থেকে বিরত থাকার শিক্ষা
সওমে বিসাল (বিরামহীন সওম)।
وَمَنْ قَالَ لَيْسَ فِي اللَّيْلِ صِيَامٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ﴿ وَنَهَى النَّبِيُّ ﷺ عَنْهُ رَحْمَةً لَهُمْ وَإِبْقَاءً عَلَيْهِمْ وَمَا يُكْرَهُ مِنَ التَّعَمُّقِআল্লাহ তা‘আলার বাণী: “রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর” (আল-বাকারা: ১৮৭)। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতে সওম পালন করা যাবে না বলে যিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন, নবী (ﷺ) উম্মতের উপর দয়াপরবশ হয়েও তাদের স্বাস্থ্য রক্ষার খাতিরে সওমে বিসাল হতে নিষেধ করেছেন এবং কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা নিন্দনীয়।"
সাওমে বিসাল কি এবং কেন তা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে
সহীহ বুখারী : ১৯৬১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯৬১
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِي قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لاَ تُوَاصِلُوا قَالُوا إِنَّكَ تُوَاصِلُ قَالَ لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى أَوْ إِنِّي أَبِيتُ أُطْعَمُ وَأُسْقَى
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সাওমে বিসাল পালন করবে না। লোকেরা বলল, আপনি যে সাওমে বিসাল করেন? তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের মত নই। আমাকে পানাহার করানো হয় (অথবা বললেন) আমি পানাহার অবস্থায় রাত অতিবাহিত করি।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) পরিষ্কারভাবে বলেছেন, তোমরা সাওমে বিসাল পালন করবে না। সাওমে বিসাল মানে ইফতার না করে পরের দিনের রোজার সঙ্গে রোজা মিলিয়ে নেওয়া। সাহাবাগণ দেখলেন, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) নিজে এমনটি করছেন, তাই তাঁরা জানতে চাইলেন। উত্তরে তিনি জানালেন, তিনি আমাদের মতো নন; তাঁকে পানাহার করানো হয়, অথবা তিনি পানাহার অবস্থায় রাত কাটান। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইবাদতে ভালোবাসা থাকলেও নিজের জন্য নবীজির বিশেষ অবস্থাকে সাধারণ নিয়ম বানানো ঠিক নয়। রোজা রাখার বিধান মেনে চলা এবং অতিরিক্ত কষ্টের পথ থেকে বাঁচা—এ দুটিই এখানে বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাওমে বিসাল সাধারণ উম্মতের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি নয়।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কিছু অবস্থা তাঁর জন্য বিশেষ ছিল।
- ইবাদতে আগ্রহ থাকলেও শরীরের সীমা ও শরিয়তের নির্দেশ মানা জরুরি।
