৩০/৪৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৬২ - বিরামহীন রোজা নিষেধের কারণ
সওমে বিসাল (বিরামহীন সওম)।
وَمَنْ قَالَ لَيْسَ فِي اللَّيْلِ صِيَامٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ﴿ وَنَهَى النَّبِيُّ ﷺ عَنْهُ رَحْمَةً لَهُمْ وَإِبْقَاءً عَلَيْهِمْ وَمَا يُكْرَهُ مِنَ التَّعَمُّقِআল্লাহ তা‘আলার বাণী: “রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর” (আল-বাকারা: ১৮৭)। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতে সওম পালন করা যাবে না বলে যিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন, নবী (ﷺ) উম্মতের উপর দয়াপরবশ হয়েও তাদের স্বাস্থ্য রক্ষার খাতিরে সওমে বিসাল হতে নিষেধ করেছেন এবং কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা নিন্দনীয়।"
সাওমে বিসাল নিষেধ: নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ অবস্থার ব্যাখ্যা
সহীহ বুখারী : ১৯৬২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯৬২
. حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ الْوِصَالِ قَالُوا إِنَّكَ تُوَاصِلُ قَالَ إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাওমে বেসাল হতে নিষেধ করলেন। লোকেরা বললো, আপনি যে সাওমে বেসাল পালন করেন! তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই, আমাকে পানাহার করানো হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) সাওমে বিসাল থেকে নিষেধ করেছেন। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তো সাওমে বিসাল পালন করেন। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বললেন, আমি তোমাদের মতো নই; আমাকে পানাহার করানো হয়। এখানে খুব সহজ একটি বিষয় বোঝা যায়—নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাজ সব সময় একইভাবে উম্মতের জন্য সাধারণ বিধান নয়, যদি তিনি নিজেই তার পার্থক্য বলে দেন। সাওমে বিসাল নিয়ে যারা জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিসটি স্পষ্ট পথ দেখায়। রোজা রাখা ইবাদত, কিন্তু নিজের জন্য নিষিদ্ধ বা কষ্টকর পদ্ধতিকে ইবাদত মনে করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল (صلى الله عليه وسلم) নিজেই সাওমে বিসাল থেকে নিষেধ করেছেন।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ অবস্থা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক নয়।
- রোজার ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমা মানাই নিরাপদ পথ।
