৩০/৫৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৭৭ - সব সময়ের সাওম কোনো সাওম নয়

সওম পালনের ব্যাপারে পরিবার-পরিজনের অধিকার।

رَوَاهُ أَبُو جُحَيْفَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺআবূ জুহাইফা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন।"

সব সময়ের সাওম নয়: দাউদ (আঃ)-এর সাওমের শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯৭৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ سَمِعْتُ عَطَاءً أَنَّ أَبَا الْعَبَّاسِ الشَّاعِرَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍوبَلَغَ النَّبِيَّ ﷺ أَنِّي أَسْرُدُ الصَّوْمَ وَأُصَلِّي اللَّيْلَ فَإِمَّا أَرْسَلَ إِلَيَّ وَإِمَّا لَقِيتُهُ فَقَالَ أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ وَلاَ تُفْطِرُ وَتُصَلِّي فَصُمْ وَأَفْطِرْ وَقُمْ وَنَمْ فَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَظًّا وَإِنَّ لِنَفْسِكَ وَأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَظًّا قَالَ إِنِّي لأقْوَى لِذَلِكَ قَالَ فَصُمْ صِيَامَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَم قَالَ وَكَيْفَ قَالَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلاَ يَفِرُّ إِذَا لاَقَى قَالَ مَنْ لِي بِهَذِهِ يَا نَبِيَّ اللهِ قَالَ عَطَاءٌ لاَ أَدْرِي كَيْفَ ذَكَرَ صِيَامَ الأَبَدِ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الأَبَدَ مَرَّتَيْنِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ)-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছে যে, আমি একটানা সাওম পালন করি এবং রাতভর সালাত আদায় করি। এরপর হয়ত তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন অথবা আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি এ কথা ঠিক শুনিনি যে, তুমি সাওম পালন করতে থাক আর ছাড় না এবং তুমি (রাতভর) সালাত আদায় করতে থাক আর ঘুমাও না? (আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তুমি সাওম পালন কর এবং মাঝে মাঝে তা ছেড়েও দাও। রাতে সালাত আদায় কর এবং নিদ্রাও যাও। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে এবং তোমার নিজের শরীরের ও তোমার পরিবারের হক তোমার উপর আছে।‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমি এর চেয়ে বেশি শক্তি রাখি। তিনি [আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) ] বললেনঃ তাহলে তুমি দাউদ (আঃ)-এর সিয়াম পালন কর। রাবী বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ দাউদ (আঃ) একদিন সাওম পালন করতেন, একদিন ছেড়ে দিতেন এবং তিনি (শত্রুর) সম্মুখীন হলে পলায়ন করতেন না। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র নবী! আমাকে এ শক্তি কে যোগাবে? বর্ণনাকারী ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, (এ হাদীসে) কিভাবে সব সময়ের সিয়ামের প্রসঙ্গ আসে সে কথাটুকু আমার মনে নেই (অবশ্য) এতটুকু মনে আছে যে, নবী (ﷺ) দু’বার এ কথাটি বলেছেন, সব সময়ের সাওম কোন সাওম নয়।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৭৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে খবর পৌঁছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) একটানা সাওম রাখেন এবং রাতভর সালাত আদায় করেন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, সাওম রাখো এবং ছেড়েও দাও; রাতে সালাত আদায় করো এবং ঘুমাও। কারণ চোখের হক আছে, নিজের শরীরের হক আছে এবং পরিবারের হক আছে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বেশি করার শক্তির কথা বললে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে দাউদ (আঃ)-এর সাওমের কথা বলেন—একদিন সাওম, একদিন বিরতি। বর্ণনায় আরও এসেছে, সব সময়ের সাওম কোনো সাওম নয়—এ কথা তিনি দুইবার বলেছেন। তাই ইবাদতে কঠোরতা নয়, নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর দেখানো ভারসাম্যই মূল শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • চোখ, শরীর ও পরিবারের হক নফল আমলের সঙ্গে জড়িত।
  • একটানা সারা বছর সাওমকে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) নিরুৎসাহিত করেছেন।
  • দাউদ (আঃ)-এর সাওমে সাওম ও বিরতির ভারসাম্য আছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন