৩৩/১৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৪১ - ইতিকাফে নিয়ত ও একাগ্রতার শিক্ষা
শাওয়াল মাসে ইতিকাফ করা।
ইতিকাফে নেক নিয়ত: রমজানের শেষ দশকের বড় শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২০৪১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০৪১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعْتَكِفُ فِي كُلِّ رَمَضَانَ، وَإِذَا صَلَّى الْغَدَاةَ دَخَلَ مَكَانَهُ الَّذِي اعْتَكَفَ فِيهِ ـ قَالَ ـ فَاسْتَأْذَنَتْهُ عَائِشَةُ أَنْ تَعْتَكِفَ فَأَذِنَ لَهَا فَضَرَبَتْ فِيهِ قُبَّةً، فَسَمِعَتْ بِهَا حَفْصَةُ، فَضَرَبَتْ قُبَّةً، وَسَمِعَتْ زَيْنَبُ بِهَا، فَضَرَبَتْ قُبَّةً أُخْرَى، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنَ الْغَدِ أَبْصَرَ أَرْبَعَ قِبَابٍ، فَقَالَ «مَا هَذَا». فَأُخْبِرَ خَبَرَهُنَّ، فَقَالَ " مَا حَمَلَهُنَّ عَلَى هَذَا آلْبِرُّ انْزِعُوهَا فَلاَ أَرَاهَا». فَنُزِعَتْ، فَلَمْ يَعْتَكِفْ فِي رَمَضَانَ حَتَّى اعْتَكَفَ فِي آخِرِ الْعَشْرِ مِنْ شَوَّالٍ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) প্রতি রমযানে ই‘তিকাফ করতেন। ফজরের সালাত শেষে ই‘তিকাফের নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করতেন। ‘আয়িশা (রাঃ) তাঁর কাছে ই‘তিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেন। ‘আয়িশা (রাঃ) মসজিদে (নিজের জন্য) তাঁবু করে নিলেন। হাফসা (রাঃ) তা শুনে (নিজের জন্য) একটি তাঁবু তৈরি করে নিলেন এবং যায়নাব (রাঃ) ও তা শুনে (নিজের জন্য) আর একটি তাঁবু তৈরি করে নিলেন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ফজরের সালাত শেষে এসে চারটি তাঁবু দেখতে পেয়ে বললেনঃ একী? তাঁকে তাঁদের ব্যাপার জানালো হলে, তিনি বললেনঃ নেক আমলের প্রেরণা তাঁদেরকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেনি। এগুলো খুলে ফেল, আমি যেন এগুলো না দেখি। সব খুলে ফেলা হল। তিনি সেই রমযানে আর ই‘তিকাফ করলেন না। পরে শাওয়াল মাসের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের ইতিকাফের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখা যায়। আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) প্রতি রমজানে ইতিকাফ করতেন এবং ফজরের সালাতের পর নির্দিষ্ট স্থানে যেতেন। আয়েশা (রাঃ) অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেন, এরপর অন্যরাও তাঁবু স্থাপন করেন। কিন্তু রাসূল (صلى الله عليه وسلم) কয়েকটি তাঁবু দেখে প্রশ্ন করেন এবং বলেন, তাদেরকে এ কাজে নেক আমলের প্রেরণা চালিত করেনি। তাই তাঁবুগুলো খুলে ফেলা হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইতিকাফ শুধু জায়গা নেওয়া বা বাহ্যিক আয়োজনের বিষয় নয়; এর ভেতরে নিয়ত, একাগ্রতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজা জরুরি। পরে তিনি শাওয়ালের শেষ দশকে ইতিকাফ করেন, যা দেখায় যে তিনি আমলটি ছেড়ে দেননি, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইতিকাফে বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে নেক নিয়ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- ভালো কাজেও আত্মপ্রদর্শন বা প্রতিযোগিতার ভাব এড়িয়ে চলা উচিত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রয়োজন হলে কোনো আমলের সময় পরিবর্তন করতেন, তবে আমলকে গুরুত্ব দিতেন।
