৩৪/৯০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২২০৩ - তাবীরকৃত খেজুর গাছের ফল কার
স্ত্রী খেজুরের কাদিতে নর খেজুরের রেণু প্রবিষ্ট করানো হয়েছে এরূপ খেজুর গাছের বিক্রেতা অথবা ফসলসহ জমি বিক্রেতা বা ঠিকা হিসাবে প্রদানকারীর বিবরণ।
তাবীরকৃত খেজুর গাছ বিক্রিতে ফলের মালিকানা
সহীহ বুখারী : ২২০৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২২০৩
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَقَالَ لِي إِبْرَاهِيمُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ، يُخْبِرُ عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ أَنَّ أَيُّمَا، نَخْلٍ بِيعَتْ قَدْ أُبِّرَتْ لَمْ يُذْكَرِ الثَّمَرُ، فَالثَّمَرُ لِلَّذِي أَبَّرَهَا، وَكَذَلِكَ الْعَبْدُ وَالْحَرْثُ. سَمَّى لَهُ نَافِعٌ هَؤُلاَءِ الثَّلاَثَ.
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাবীরকৃত খেজুর গাছ ফলের উল্লেখ ব্যতীত বিক্রি করলে যে তাবীর করেছে সে ফলের মালিক হবে। তেমনি গোলাম ও জমির ফসলও মালিকেরই থাকবে। রাবী নাফি’ (রহঃ) এই তিনটিরই উল্লেখ করছেন।
[১] অধিক ফলনের আশায় খেজুরের পুং খেজুর স্ত্রী খেজুর গাছের মধ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে সংযোগ স্থাপন করাকে তাবীর বলা হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ২২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খেজুর গাছ বিক্রির সময় ফলের মালিকানা নিয়ে একটি পরিষ্কার নিয়ম এসেছে। তাবীরকৃত খেজুর গাছ যদি ফলের কথা উল্লেখ না করে বিক্রি করা হয়, তাহলে ফল তারই থাকবে, যে তাবীর করেছে। একইভাবে বর্ণনায় গোলাম ও জমির ফসলের কথাও এসেছে। এখানে মূল বিষয় হলো, বিক্রির সময় কোন জিনিস চুক্তির মধ্যে আছে আর কোনটি নেই, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। যদি ফলের কথা আলাদা করে বলা না হয়, তাহলে ফল বিক্রেতার বা যিনি কাজ করেছেন তার অধিকারেই থাকে। হাদিসটি দেখায়, ইসলামী ক্রয়-বিক্রয়ে শর্ত, মালিকানা ও চুক্তির ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। এতে পরে ঝগড়া কমে এবং উভয় পক্ষের অধিকার ঠিক থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিক্রির সময় ফল বা ফসল অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট করা দরকার।
- তাবীর করা ফলের মালিকানা চুক্তির কথার ওপর নির্ভর করে।
- চুক্তি অস্পষ্ট হলে পরে বিরোধ তৈরি হতে পারে।
- ইসলামী লেনদেনে অধিকার নির্ধারণে পরিষ্কার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ।
