৩৪/৯৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২২১৪ - শুফআ অধিকার ও সীমানা নির্ধারণ
এজমালি জমি, বাড়ি ও অন্যান্য আসবাবপত্র বিক্রি করা
শুফআ অধিকার কখন থাকে এবং কখন থাকে না
সহীহ বুখারী : ২২১৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২২১৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَضَى النَّبِيُّ ﷺ بِالشُّفْعَةِ فِي كُلِّ مَالٍ لَمْ يُقْسَمْ، فَإِذَا وَقَعَتِ الْحُدُودُ وَصُرِّفَتِ الطُّرُقُ فَلاَ شُفْعَةَ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা হয় নি, তার মধ্যে শুফ’আ লাভের ফায়সালা প্রদান করেছেন। তারপর যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং স্বতন্ত্র করা হয় তখন আর শু’ফআ এর অধিকার থাকবে না। মুসাদ্দাদ (রহঃ) …………আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, যে সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা হয় নি (তাতে শু’ফআ)। হিশাম (রহঃ) মা’মর (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদের অনুসরণ করেছেন। আবদুর রায্যাক (রহঃ) বলেছেন, যে সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা হয় নি, সে সব সম্পদেই (শুফ’আ রয়েছে)। হাদীসটি আবদুর রহমান ইব্নু ইসহাক (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২২১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়নি এমন সম্পত্তিতে শুফআ লাভের ফায়সালা করেছেন। এরপর বলা হয়েছে, যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তা পৃথক করা হয়, তখন আর শুফআ থাকে না। হাদিসের শেষে বিভিন্ন রাবির বর্ণনার উল্লেখ আছে, যা একই মূল অর্থকে সমর্থন করে। সহজ ভাষায়, যৌথ সম্পত্তির বিক্রিতে অংশীদারের একটি অধিকার থাকে, কারণ তার স্বার্থ সেই সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু যখন সম্পত্তি আলাদা হয়ে যায়, সীমানা নির্দিষ্ট হয় এবং পথও পৃথক হয়, তখন সেই যৌথ অধিকার থাকে না। হাদিসটি সম্পত্তি লেনদেনে স্পষ্টতা, অংশীদারের অধিকার এবং সীমানা নির্ধারণের গুরুত্ব বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যৌথ বা অবিভক্ত সম্পত্তিতে শুফআর বিষয় আসে।
- সীমানা ও রাস্তা আলাদা হলে শুফআর অধিকার শেষ হয়।
- সম্পত্তির অধিকার নির্ধারণে বাস্তব বিভাজন গুরুত্বপূর্ণ।
- লেনদেনে অংশীদারের ক্ষতি বা অস্পষ্টতা এড়ানো দরকার।
