৩৭/১৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২২৮১ - হিজামার পারিশ্রমিক ও শ্রমিকের প্রতি দয়া
কোন ব্যক্তির কোন কৃতদাসীর মালিকের সাথে এ মর্মে আবেদন করা- সে যেন তার উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে দেয়।
হিজামার পারিশ্রমিক: শ্রমের মূল্য ও দয়ার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২২৮১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২২৮১
حَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَعَا النَّبِيُّ ﷺ غُلاَمًا حَجَّامًا فَحَجَمَهُ وَأَمَرَ لَهُ بِصَاعٍ أَوْ صَاعَيْنِ أَوْ مُدٍّ أَوْ مُدَّيْنِ وَكَلَّمَ فِيهِ فَخُفِّفَ مِنْ ضَرِيبَتِهِ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (ﷺ) শিঙ্গা প্রয়োগকারী এক গোলামকে ডাকলেন। সে তাঁকে শিঙ্গা লাগাল। তিনি তাকে এক সা’ বা দু’ সা’ অথবা এক মুদ বা দু’ মুদ (পারিশ্রমিক) দিতে নির্দেশ দিলেন। এরপর তার ব্যাপারে (তার মালিকের সাথে) কথা বললেন, ফলে তার উপর ধার্যকৃত মাসুল কমিয়ে দেয়া হল।
সহীহ বুখারী হাদিস ২২৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শিঙ্গা বা হিজামা প্রয়োগকারী এক গোলামের ঘটনা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে ডাকলেন, সে তাঁকে শিঙ্গা লাগাল, এরপর নবী صلى الله عليه وسلم তার পারিশ্রমিক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। পারিশ্রমিকের পরিমাণ হিসেবে এক সা, দুই সা, এক মুদ বা দুই মুদের কথা বর্ণনায় এসেছে। শুধু মজুরি দিয়েই বিষয় শেষ হয়নি; নবী صلى الله عليه وسلم তার ব্যাপারে তার মালিকের সঙ্গে কথা বললেন, ফলে তার ওপর ধার্য করা মাসুল কমিয়ে দেওয়া হলো। তাই এই হাদিসে হিজামার পারিশ্রমিক, শ্রমিকের হক এবং দুর্বল অবস্থার মানুষের প্রতি সহানুভূতি—তিনটি বিষয় স্পষ্ট দেখা যায়। এখানে শিক্ষা হলো, কাজ নিলে মজুরি দিতে হবে এবং কারও ওপর অযথা চাপ থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করা ভালো কাজ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো কাজ করানো হলে কর্মীর পারিশ্রমিক দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
- অধীনস্থ বা দুর্বল অবস্থার মানুষের কষ্ট কমাতে সুপারিশ করা ভালো আচরণের অংশ।
- হিজামা প্রয়োগকারীর শ্রমকে অবহেলা না করে তার হক আদায় করা হয়েছে।
- লেনদেনে শুধু নিয়ম নয়, দয়া ও ন্যায্য আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।
