৪৬/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৪৪ - জালিমকে থামানোই তার প্রকৃত সাহায্য
তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত।
জালিমকে সাহায্য করার সঠিক পথ: তাকে জুলুম থেকে থামানো
সহীহ বুখারী : ২৪৪৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪৪৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا ". قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا نَنْصُرُهُ مَظْلُومًا، فَكَيْفَ نَنْصُرُهُ ظَالِمًا قَالَ " تَأْخُذُ فَوْقَ يَدَيْهِ ".
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলুম। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! মাযলুমকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু যালিমকে কি করে সাহায্য করব? তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে। (অর্থাৎ তাকে যুলুম করতে দিবে না)।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে বলেন, তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে জালিম হোক অথবা মাজলুম। সাহাবীগণ মাজলুমকে সাহায্য করার বিষয়টি বুঝেছিলেন, কিন্তু জালিমকে সাহায্য করার অর্থ জানতে চেয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে। অর্থাৎ তাকে জুলুম করতে দেবে না। এই ব্যাখ্যা হাদিসটিকে খুব পরিষ্কার করে। অন্যায়কারীর পাশে অন্ধভাবে দাঁড়ানো ইসলামী সাহায্য নয়। বরং তাকে ভুল কাজ থেকে ফিরিয়ে আনা, ক্ষতি করা থেকে আটকানো এবং জুলুম বন্ধ করা—এটাই তার জন্য সহায়তা। এই শিক্ষা পরিবার, সমাজ, কাজের জায়গা—সবখানে কাজে লাগে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাজলুমকে সাহায্য করা সহজে বোঝা যায়, কিন্তু জালিমকে সাহায্য মানে তাকে থামানো।
- জুলুমের সুযোগ করে দেওয়া সাহায্য নয়।
- ভাইকে ভুল থেকে ফিরিয়ে আনাও তার হক।
- ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যায়কারীকে বিরত রাখা প্রয়োজন।
