৫১/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৭০ - ইহরামে শিকার ও বন্য গাধার গোশত
যদি কেউ তার সঙ্গী সাথীদের নিকট কিছু চায়।
وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ اضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ سَهْمًاআবু সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বললেন, তোমাদের সঙ্গে আমার জন্য এক অংশ রেখ।"
ইহরাম অবস্থায় শিকার করা গোশত: আবু কাতাদাহ (রাঃ)-এর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ২৫৭০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫৭০
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ السَّلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنْتُ يَوْمًا جَالِسًا مَعَ رِجَالٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فِي مَنْزِلٍ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ نَازِلٌ أَمَامَنَا وَالْقَوْمُ مُحْرِمُونَ، وَأَنَا غَيْرُ مُحْرِمٍ، فَأَبْصَرُوا حِمَارًا وَحْشِيًّا، وَأَنَا مَشْغُولٌ أَخْصِفُ نَعْلِي، فَلَمْ يُؤْذِنُونِي بِهِ، وَأَحَبُّوا لَوْ أَنِّي أَبْصَرْتُهُ، وَالْتَفَتُّ فَأَبْصَرْتُهُ، فَقُمْتُ إِلَى الْفَرَسِ فَأَسْرَجْتُهُ ثُمَّ رَكِبْتُ وَنَسِيتُ السَّوْطَ وَالرُّمْحَ فَقُلْتُ لَهُمْ نَاوِلُونِي السَّوْطَ وَالرُّمْحَ. فَقَالُوا لاَ وَاللَّهِ، لاَ نُعِينُكَ عَلَيْهِ بِشَىْءٍ.فَغَضِبْتُ فَنَزَلْتُ فَأَخَذْتُهُمَا، ثُمَّ رَكِبْتُ، فَشَدَدْتُ عَلَى الْحِمَارِ فَعَقَرْتُهُ، ثُمَّ جِئْتُ بِهِ وَقَدْ مَاتَ، فَوَقَعُوا فِيهِ يَأْكُلُونَهُ، ثُمَّ إِنَّهُمْ شَكُّوا فِي أَكْلِهِمْ إِيَّاهُ، وَهُمْ حُرُمٌ، فَرُحْنَا وَخَبَأْتُ الْعَضُدَ مَعِي، فَأَدْرَكْنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ «مَعَكُمْ مِنْهُ شَىْءٌ». فَقُلْتُ نَعَمْ. فَنَاوَلْتُهُ الْعَضُدَ فَأَكَلَهَا، حَتَّى نَفَّدَهَا وَهْوَ مُحْرِمٌ.فَحَدَّثَنِي بِهِ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ.
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী (ﷺ)-এর কয়েকজন সাহাবীর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের অগ্রবর্তী কোন স্থানে অবস্থান করছিলেন। সকলেই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আমি শুধু ইহরাম ব্যতীত ছিলাম। তাঁরা একটি বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আমি তখন আমার জুতা মেরামত করছিলাম। তাঁরা আমাকে সে সম্পর্কে জানাননি। অথচ সেটি আমি যেন দেখতে পাই তাঁরা তা চাচ্ছিলেন।আমি হঠাৎ সেদিকে তাকালাম, সেটা আমার নযরে পড়ল। তখন আমি উঠে ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং জীন লাগিয়ে তাতে সওয়ার হলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শা নিতে ভুলে গেলাম। তখন তাঁদের বললাম, চাবুক আর বর্শাটা আমাকে তুলে দাও। কিন্তু তাঁরা বললেন, আল্লাহর কসম! গাধা শিকার করার ব্যাপারে আমরা তোমাকে কোন সাহায্য করব না। আমি তখন রাগ করে নেমে এলাম এবং সে দু’টি তুলে নিয়ে সওয়ার হলাম। আর গাধাটা আক্রমণ করে আহত করলাম। তাতে সেটি মারা গেল।অতঃপর সেটাকে নিয়ে আসলাম। তাঁরা সেই গাধার গোশত খেতে লাগলেন। পরে তাঁদের মনে ইহরাম অবস্থায় তা খাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিল। আমরা যাত্রা শুরু করলাম। এক ফাঁকে আমি আমার নিকট গাধার একটি হাতা লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাক্ষাৎ পেয়ে সেই গোশত সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমাদের সঙ্গে সেটার গোশতের কিছু আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। অতঃপর হাতাখানা তাঁকে দিলে তিনি ইহরাম অবস্থায় তার সবটুকু খেলেন।এ হাদীসটি যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) ‘আতা’ ইবনু ইয়াসার (রহঃ)-এর মাধ্যমে আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু কাতাদাহ (রাঃ)-এর বন্য গাধা শিকারের ঘটনা এসেছে। সফরে বেশিরভাগ সাহাবী ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু তিনি ইহরামে ছিলেন না। তাঁরা বন্য গাধা দেখলেও তাকে সরাসরি সাহায্য করেননি। আবু কাতাদাহ (রাঃ) নিজে ঘোড়ায় চড়ে শিকার করেন। পরে সাহাবীরা সেই গোশত খান, তবে ইহরাম অবস্থায় খাওয়া ঠিক হলো কি না—এ নিয়ে তাদের মনে সন্দেহ আসে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানতে চান, গোশতের কিছু আছে কি না। আবু কাতাদাহ (রাঃ) হাতা দিলে নবী (صلى الله عليه وسلم) ইহরাম অবস্থায় তা খেয়ে নেন। এই হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যিনি ইহরামে ছিলেন না তিনি নিজে শিকার করেছেন এবং মুহরিমরা তাঁকে সাহায্য করেননি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্দেহ হলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা সাহাবীদের অভ্যাস ছিল।
- ইহরাম অবস্থায় শিকারে সাহায্য না করার সতর্কতা দেখা যায়।
- আবু কাতাদাহ (রাঃ) নিজে শিকার করেছিলেন, মুহরিমরা সাহায্য করেননি।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) গোশত গ্রহণ করে বাস্তব উত্তর দিয়েছেন।
