২৮/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৮২৪ - মুহরিমের ইশারা ছাড়া শিকার খাওয়ার বিধান
গাইর মুহরিমের শিকারের জন্য মুহরিম ব্যক্তি শিকার্য জন্তুর দিকে ইঙ্গিত করবে না।
মুহরিমের ইশারা ছাড়া শিকারকৃত গোশত খাওয়া
সহীহ বুখারী : ১৮২৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৮২৪
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ ـ هُوَ ابْنُ مَوْهَبٍ ـ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ خَرَجَ حَاجًّا، فَخَرَجُوا مَعَهُ فَصَرَفَ طَائِفَةً مِنْهُمْ، فِيهِمْ أَبُو قَتَادَةَ فَقَالَ خُذُوا سَاحِلَ الْبَحْرِ حَتَّى نَلْتَقِيَ.فَأَخَذُوا سَاحِلَ الْبَحْرِ، فَلَمَّا انْصَرَفُوا أَحْرَمُوا كُلُّهُمْ إِلاَّ أَبُو قَتَادَةَ لَمْ يُحْرِمْ، فَبَيْنَمَا هُمْ يَسِيرُونَ إِذْ رَأَوْا حُمُرَ وَحْشٍ، فَحَمَلَ أَبُو قَتَادَةَ عَلَى الْحُمُرِ، فَعَقَرَ مِنْهَا أَتَانًا، فَنَزَلُوا فَأَكَلُوا مِنْ لَحْمِهَا، وَقَالُوا أَنَأْكُلُ لَحْمَ صَيْدٍ وَنَحْنُ مُحْرِمُونَ فَحَمَلْنَا مَا بَقِيَ مِنْ لَحْمِ الأَتَانِ، فَلَمَّا أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا كُنَّا أَحْرَمْنَا وَقَدْ كَانَ أَبُو قَتَادَةَ لَمْ يُحْرِمْ، فَرَأَيْنَا حُمُرَ وَحْشٍ فَحَمَلَ عَلَيْهَا أَبُو قَتَادَةَ، فَعَقَرَ مِنْهَا أَتَانًا، فَنَزَلْنَا فَأَكَلْنَا مِنْ لَحْمِهَا ثُمَّ قُلْنَا أَنَأْكُلُ لَحْمَ صَيْدٍ وَنَحْنُ مُحْرِمُونَ فَحَمَلْنَا مَا بَقِيَ مِنْ لَحْمِهَا. قَالَ «مِنْكُمْ أَحَدٌ أَمَرَهُ أَنْ يَحْمِلَ عَلَيْهَا، أَوْ أَشَارَ إِلَيْهَا». قَالُوا لاَ. قَالَ «فَكُلُوا مَا بَقِيَ مِنْ لَحْمِهَا».
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁকে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) হজ্জে যাত্রা করলে তাঁরাও সকলে যাত্রা করলেন। তাঁদের হতে একটি দলকে নবী (ﷺ) অন্য পথে পাঠিয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে আবূ কাতাদাহ (রাঃ) ও ছিলেন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমরা সমুদ্র তীরের রাস্তা ধরে অগ্রসর হবে আমাদের পরস্পর সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত। তাই তাঁরা সকলেই সমুদ্র তীরের পথ ধরে চলতে থাকেন।ফিরার পথে তাঁরা সবাই ইহরাম বাঁধলেন কিন্তু আবূ কাতাদাহ (রাঃ) ইহরাম বাঁধলেন না। পথ চলতে চলতে হঠাৎ তাঁরা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) গাধাগুলোর উপর হামলা করে একটি মাদী গাধাকে হত্যা করে ফেললেন। এরপর এক স্থানে অবতরণ করে তাঁরা সকলেই এর গোশত খেলেন। অতঃপর বললেন, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকার্য জন্তুর গোশত খেতে পারি? তাই আমরা গাধাটির অবশিষ্ট গোশত উঠিয়ে নিলাম।তাঁরা আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) এর নিকট পৌঁছে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা ইহরাম বেঁধেছিলাম কিন্তু আবূ কাতাদাহ (রাঃ) ইহরাম বাঁধেননি। এ সময় আমরা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) এগুলোর উপর আক্রমণ করে একটি মাদী গাধা হত্যা করে ফেললেন। এক স্থানে অবতরণ করে আমরা সকলেই এর গোশত খেয়ে নিই। এরপর বললাম, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত খেতে পারি? এখন আমরা এর অবশিষ্ট গোশত নিয়ে এসেছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের কেউ কি এর উপর আক্রমণ করতে তাঁকে আদেশ বা ইঙ্গিত করেছ? তাঁরা বললেন, না, আমরা তা করিনি। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে বাকী গোশত তোমরা খেয়ে নাও।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৮২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইহরামে শিকারকৃত গোশত খাওয়ার শর্তটি আরও পরিষ্কারভাবে এসেছে। আবু কাতাদা রা. ইহরাম বাঁধেননি, আর তাঁর সঙ্গীরা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। পথে বন্য গাধা দেখা গেলে আবু কাতাদা রা. একটি মাদি বন্য গাধা শিকার করেন। সাহাবীরা প্রথমে গোশত খান, পরে তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগে, মুহরিম অবস্থায় শিকারকৃত গোশত খাওয়া ঠিক কি না। তাঁরা অবশিষ্ট গোশত নিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে যান। নবী صلى الله عليه وسلم জানতে চান, তোমাদের কেউ কি তাকে আক্রমণ করতে আদেশ বা ইঙ্গিত করেছিল? তাঁরা বললেন, না। তখন তিনি বললেন, বাকী গোশত খেয়ে নাও।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুহরিম ব্যক্তি শিকারে আদেশ বা ইশারা করেছেন কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ।
- সাহাবীরা সন্দেহ হলে অবশিষ্ট গোশত নিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে গেছেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم প্রশ্ন করে ঘটনার অবস্থা বুঝে নির্দেশ দিয়েছেন।
- ইহরামের বিধান মানতে ছোট কাজেও সতর্ক থাকা দরকার।
