২৮/২. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৮২১ - ইহরামে শিকারের গোশত খাওয়ার বিধান

মুহরিম নয় এমন ব্যক্তি যদি শিকার করে মুহরিমকে উপঢৌকন দেয় তাহলে মুহরিম তা খেতে পারবে।

وَلَمْ يَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَأَنَسٌ بِالذَّبْحِ بَأْسًا وَهُوَ غَيْرُ الصَّيْدِ نَحْوُ الْإِبِلِ وَالْغَنَمِ وَالْبَقَرِ وَالدَّجَاجِ وَالْخَيْلِ يُقَالُ ﴾عَدْلُ ذَلِكَ﴿ مِثْلُ فَإِذَا كَسَرْتَ عِدْلٌ فَهُوَ زِنَةُ ذَلِكَ ﴾قِيَامًا﴿ قِوَامًا ﴾يَعْدِلُونَ﴿ يَجْعَلُونَ عَدْلًا عَدْلًاইবন ‘আব্বাস (রাঃ) ও আনাস (রাঃ) শিকার ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণী যবেহ করাতে মুহরিমের কোনো অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। যেমন উট, বকরী, গরু, মুরগী ও ঘোড়া। বলা হয় عَدْلُ অর্থ مِثْلُ (অনুরূপ) এবং عِدْلُ অর্থ زِنَةُ (সমান) قِيَامًا এর অর্থ قِوَامًا (কল্যাণ) এবং يَعْدِلُونَ-এর অর্থ হল يَجْعَلُونَ عَدْلًا (সমকক্ষ দাঁড় করানো)"

ইহরামে শিকারের গোশত খাওয়া: আবু কাতাদা রা.-এর ঘটনা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৮২১

حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ انْطَلَقَ أَبِي عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ، وَلَمْ يُحْرِمْ، وَحُدِّثَ النَّبِيُّ ﷺ أَنَّ عَدُوًّا يَغْزُوهُ، فَانْطَلَقَ النَّبِيُّ ﷺ، فَبَيْنَمَا أَنَا مَعَ أَصْحَابِهِ يَضْحَكُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا أَنَا بِحِمَارِ وَحْشٍ، فَحَمَلْتُ عَلَيْهِ، فَطَعَنْتُهُ، فَأَثْبَتُّهُ، وَاسْتَعَنْتُ بِهِمْ، فَأَبَوْا أَنْ يُعِينُونِي، فَأَكَلْنَا مِنْ لَحْمِهِ، وَخَشِينَا أَنْ نُقْتَطَعَ، فَطَلَبْتُ النَّبِيَّ ﷺ أَرْفَعُ فَرَسِي شَأْوًا، وَأَسِيرُ شَأْوًا، فَلَقِيتُ رَجُلاً مِنْ بَنِي غِفَارٍ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ قُلْتُ أَيْنَ تَرَكْتَ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ تَرَكْتُهُ بِتَعْهِنَ، وَهُوَ قَائِلٌ السُّقْيَا.فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَهْلَكَ يَقْرَءُونَ عَلَيْكَ السَّلاَمَ وَرَحْمَةَ اللَّهِ، إِنَّهُمْ قَدْ خَشُوا أَنْ يُقْتَطَعُوا دُونَكَ، فَانْتَظِرْهُمْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَبْتُ حِمَارَ وَحْشٍ، وَعِنْدِي مِنْهُ فَاضِلَةٌ. فَقَالَ لِلْقَوْمِ «كُلُوا» وَهُمْ مُحْرِمُونَ.

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমার পিতা হুদাইবিয়ার বছর (শত্রুদের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য) বের হলেন। নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণ ইহরাম বাঁধলেন কিন্তু তিনি ইহরাম বাঁধলেন না। নবী (ﷺ) কে বলা হল, একটি শত্রুদল তাঁর সাথে যুদ্ধ করতে চায়। নবী (ﷺ) সামনে অগ্রসর হতে লাগলেন। এ সময় আমি তাঁর সাহাবীদের সাথে ছিলাম। হঠাৎ দেখি যে, তাঁরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করছে। আমি তাকাতেই একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। অমনিই আমি বর্শা দিয়ে আক্রমণ করে তাকে ধরাশায়ী করে ফেলি। সঙ্গীদের নিকট সহযোগিতা কামনা করলে সকলে আমাকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করল।এরপর আমরা সকলেই ঐ বন্য গাধার গোশত খেলাম। এতে আমরা নবী (ﷺ) হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার আশঙ্কা করলাম। তাই নবী (ﷺ) এর সন্ধানে আমার ঘোড়াটিকে কখনো দ্রুত কখনো আস্তে চালাচ্ছিলাম। মাঝ রাতের দিকে গিফার গোত্রের এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (ﷺ) কে কোথায় রেখে এসেছ? সে বলল, তা’হিন নামক স্থানে আমি তাঁকে রেখে এসেছি। এখন তিনি সুকয়া নামক স্থানে কায়লূলায় (দুপুরের বিশ্রামে) আছেন।আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনার প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন এবং আল্লাহ্‌র রহমত কামনা করেছেন। তাঁরা আপনার হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই আপনি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করুন। অতঃপর আমি পুনরায় বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি একটি বন্য গাধা শিকার করেছি। এখনো তার বাকী অংশটুকু আমার নিকট রয়েছে। নবী (ﷺ) কওমের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা খাও। অথচ তাঁরা সকলেই তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৮২১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইহরাম অবস্থায় শিকারের গোশত খাওয়ার একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। আবু কাতাদা রা. হুদায়বিয়ার বছর বের হন, কিন্তু তিনি তখন ইহরাম বাঁধেননি। তাঁর সঙ্গী সাহাবীরা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। তাঁরা বন্য গাধা দেখলেও শিকারে তাঁকে সাহায্য করেননি। আবু কাতাদা রা. নিজেই সেটি শিকার করেন এবং সবাই তার গোশত খান। পরে বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জানালে তিনি তাঁদের বললেন, তোমরা খাও। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, মুহরিম ব্যক্তি নিজে শিকার না করলে এবং শিকারে সাহায্য না করলে বিষয়টি আলাদা হিসেবে দেখা হয়েছে। হাদিসটি ইহরামের বিধান বুঝতে সতর্কতা ও প্রশ্ন করার গুরুত্ব শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইহরাম অবস্থায় সাহাবীরা শিকারে সাহায্য করা থেকে বিরত ছিলেন।
  • সন্দেহ হলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বিষয়টি জিজ্ঞেস করা হয়েছে।
  • মুহরিমদের জন্য শিকারের গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রে কাজটি কে করেছে, তা বিবেচিত হয়েছে।
  • দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় থাকলে নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন