২৮/৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৮২২ - মুহরিমের জন্য শিকারকৃত গোশতের বিধান

মুহরিম ব্যক্তিগণ শিকার জন্তু দেখে হাসাহাসি করার ফলে ইহরামবিহীন ব্যক্তিরা যদি তা বুঝে ফেলে।

মুহরিম কি শিকারকৃত গোশত খেতে পারে?

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৮২২

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ قَالَ انْطَلَقْنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ، وَلَمْ أُحْرِمْ، فَأُنْبِئْنَا بِعَدُوٍّ بِغَيْقَةَ فَتَوَجَّهْنَا نَحْوَهُمْ، فَبَصُرَ أَصْحَابِي بِحِمَارِ وَحْشٍ، فَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَضْحَكُ إِلَى بَعْضٍ، فَنَظَرْتُ فَرَأَيْتُهُ فَحَمَلْتُ عَلَيْهِ الْفَرَسَ، فَطَعَنْتُهُ، فَأَثْبَتُّهُ، فَاسْتَعَنْتُهُمْ، فَأَبَوْا أَنْ يُعِينُونِي، فَأَكَلْنَا مِنْهُ، ثُمَّ لَحِقْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَخَشِينَا أَنْ نُقْتَطَعَ، أَرْفَعُ فَرَسِي شَأْوًا، وَأَسِيرُ عَلَيْهِ شَأْوًا، فَلَقِيتُ رَجُلاً مِنْ بَنِي غِفَارٍ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ فَقُلْتُ أَيْنَ تَرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ تَرَكْتُهُ بِتَعْهِنَ وَهُوَ قَائِلٌ السُّقْيَا.فَلَحِقْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى أَتَيْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَصْحَابَكَ أَرْسَلُوا يَقْرَءُونَ عَلَيْكَ السَّلاَمَ وَرَحْمَةَ اللَّهِ وَبَرَكَاتِهِ، وَإِنَّهُمْ قَدْ خَشُوا أَنْ يَقْتَطِعَهُمُ الْعُدُوُّ دُونَكَ، فَانْظُرْهُمْ، فَفَعَلَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا اصَّدْنَا حِمَارَ وَحْشٍ، وَإِنَّ عِنْدَنَا فَاضِلَةً. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لأَصْحَابِهِ «كُلُوا». وَهُمْ مُحْرِمُونَ.

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

হুদাইবিয়ার বছর আমরা আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) এর সাথে যাত্রা করলাম। তাঁর সকল সাহাবীই ইহরাম বেঁধেছিলেন কিন্তু আমি ইহরাম বাঁধিনি। এরপর আমাদেরকে গায়কা নামক স্থানে শত্রুর উপস্থিতি সম্পর্কে খবর দেয়া হলে আমরা শত্রুর অভিমুখে রওয়ানা হলাম। আমার সঙ্গী সাহাবীগণ একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে একে অন্যের দিকে চেয়ে হাসতে লাগলেন। আমি সেদিকে তাকাতেই তাকে দেখে ফেললাম। সাথে সাথে আমি ঘোড়ার পিঠে চড়ে বর্শা দিয়ে গাধাটিকে আঘাত করে ঐ জায়গাতেই ফেলে দিলাম। অতঃপর তাঁদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলে তাঁরা সকলেই সাহায্য করতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন। তবে আমরা সবাই এর গোশত খেলাম।এরপর গিয়ে আমরা আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) এর সাথে মিলিত হলাম। (এর পূর্বে) আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাবোধ করছিলাম। তাই আমি আমার ঘোড়াটি কখনো দ্রুতগতিতে আবার কখনো স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিলাম। মধ্যরাতে গিয়ে গিফার গোষ্ঠীর এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) কে কোথায় রেখে এসেছেন? তিনি বললেন, আমি তা’হিন নামক স্থানে তাঁকে রেখে এসেছি। এখন তিনি সুকয়া নামক স্থানে বিশ্রাম করছেন।এরপর আমি আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) এর সাথে মিলিত হলাম এবং বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনার প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন এবং রহমতের দোয়া করেছেন। শত্রুরা আপনার হতে তাঁদেরকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এ ভয়ে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। সুতরাং আপনি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করুন। রাসূল (ﷺ) তাই করলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা একটি বন্য গাধা শিকার করেছি। এর অবশিষ্ট কিছু অংশ এখনও আমাদের নিকট আছে। আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) তাঁর সাহাবীদেরকে বললেনঃ তোমরা খাও। অথচ তাঁরা ছিলেন ইহরাম অবস্থায়।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৮২২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হুদায়বিয়ার সফরের আরেকটি বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। সাহাবীদের অনেকে ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু আবু কাতাদা রা. ইহরাম বাঁধেননি। তাঁরা গায়কা অঞ্চলে শত্রুর খবর পেয়ে চলছিলেন। পথে একটি বন্য গাধা দেখা যায়। সাহাবীরা সেটি দেখলেও ইহরামের কারণে সাহায্য করেননি। আবু কাতাদা রা. একাই শিকার করেন। পরে তাঁরা গোশত খান এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে বিষয়টি জানান। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁদের বললেন, তোমরা খাও। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইহরাম অবস্থায় শিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সাহাবীরা খুব সতর্ক ছিলেন এবং নিশ্চিত না হয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ গ্রহণ করেছেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইহরাম অবস্থায় শিকার বিষয়ে সাহাবীরা সতর্কতা দেখিয়েছেন।
  • আবু কাতাদা রা. ইহরামহীন ছিলেন, তাই তিনি নিজে শিকার করেছেন।
  • শত্রুর আশঙ্কার মধ্যেও সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।
  • ধর্মীয় সন্দেহের বিষয়ে অনুমান না করে জিজ্ঞেস করা ভালো।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন