৫৩/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭০৩ - কিসাস, ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের শিক্ষা
ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে সন্ধি।
কিসাস ও ক্ষমা: দাঁত ভাঙার হাদিসের সহজ ব্যাখ্যা
সহীহ বুখারী : ২৭০৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭০৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ، أَنَّ أَنَسًا، حَدَّثَهُمْ أَنَّ الرُّبَيِّعَ ـ وَهْىَ ابْنَةُ النَّضْرِ ـ كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ، فَطَلَبُوا الأَرْشَ وَطَلَبُوا الْعَفْوَ، فَأَبَوْا فَأَتَوُا النَّبِيَّ ﷺ فَأَمَرَهُمْ بِالْقِصَاصِ. فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرُّبَيِّعِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا فَقَالَ «يَا أَنَسُ كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ». فَرَضِيَ الْقَوْمُ وَعَفَوْا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ". زَادَ الْفَزَارِيُّ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ فَرَضِيَ الْقَوْمُ وَقَبِلُوا الأَرْشَ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রুবাইয়্যি বিনতে নাযর (রাঃ) এক কিশোরীর সামনের দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। তারা ক্ষতিপূরণ চাইল আর অপরপক্ষ ক্ষমা চাইল। তারা অস্বীকার করল এবং নবী (ﷺ)-এর নিকট এল। তিনি কিসাসের আদেশ দিলেন। আনাস ইব্নু নাযর (রাঃ) তখন বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! রুবাইয়্যি-এর দাঁত ভাঙ্গা হবে? না, যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না।’ তিনি বললেন, ‘হে আনাস, আল্লাহ্র বিধান হল কিসাস।’ অতঃপর বাদীপক্ষ রাজী হয় এবং ক্ষমা করে দেয়। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্র বান্দাদের মধ্যে এমন বান্দাও রয়েছেন যে, আল্লাহ্র নামে কোন কসম করলে তা পূরণ করেন।ফাযারী (রহঃ) হুমায়দ (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করতে গিয়ে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন লোকেরা রাজী হল এবং ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করল।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রুবাইয়ি বিনতে নাযর (রাঃ)-এর কারণে এক কিশোরীর সামনের দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঘটনা এসেছে। বাদীপক্ষ ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল, আর অপরপক্ষ ক্ষমা চেয়েছিল। বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এলে তিনি কিসাসের আদেশ দেন। আনাস ইবন নাযর (রাঃ) আবেগভরে বলেন, রুবাইয়ির দাঁত ভাঙা হবে না। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) পরিষ্কার করে বলেন, আল্লাহর বিধান হলো কিসাস। পরে বাদীপক্ষ রাজি হয়, ক্ষমা করে দেয় এবং অতিরিক্ত বর্ণনায় এসেছে তারা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করে। এই হাদিসে কিসাসের বিধান, ক্ষমার সুযোগ এবং ক্ষতিপূরণের সমাধান—সবই ভারসাম্যসহ এসেছে। এখানে কারও অধিকার নষ্ট করা হয়নি; বরং ন্যায়, ক্ষমা ও সমঝোতার পথ দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও ক্ষতি হলে ন্যায়বিচারের অধিকার স্বীকৃত।
- ক্ষমা করা সম্ভব, তবে তা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের সম্মতির সঙ্গে যুক্ত।
- আবেগ থাকলেও আল্লাহর বিধানকে সামনে রাখতে হয়।
- সমঝোতা হলে ক্ষতিপূরণ গ্রহণও একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে।
