৫৩/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭০৪ - হাসান রাঃ-এর মাধ্যমে মুসলিমদের মীমাংসা
হাসান ইবনু আলী (রাঃ) সম্পর্কে নবী (ﷺ)-এর উক্তি : আমার এ ছেলেটি একজন নেতা। সম্ভবত আল্লাহ এর মাধ্যমে দুইটি বড় দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করাবেন।
وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ ﴾فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا﴿ (الحجرات : ٩আর আল্লাহ তা‘আলার বাণী: তোমরা তাদের উভয় দলের মাঝে মীমাংসা করে দাও। (সূরা আল-হুজুরাত ৯)"
হাসান রাঃ ও মুসলিমদের মীমাংসা: শান্তির বড় শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৭০৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭০৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ، يَقُولُ اسْتَقْبَلَ وَاللَّهِ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ مُعَاوِيَةَ بِكَتَائِبَ أَمْثَالِ الْجِبَالِ فَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ إِنِّي لأَرَى كَتَائِبَ لاَ تُوَلِّي حَتَّى تَقْتُلَ أَقْرَانَهَا.فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ ـ وَكَانَ وَاللَّهِ خَيْرَ الرَّجُلَيْنِ ـ أَىْ عَمْرُو إِنْ قَتَلَ هَؤُلاَءِ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ هَؤُلاَءِ مَنْ لِي بِأُمُورِ النَّاسِ مَنْ لِي بِنِسَائِهِمْ، مَنْ لِي بِضَيْعَتِهِمْ فَبَعَثَ إِلَيْهِ رَجُلَيْنِ مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ كُرَيْزٍ، فَقَالَ اذْهَبَا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فَاعْرِضَا عَلَيْهِ، وَقُولاَ لَهُ، وَاطْلُبَا إِلَيْهِ.فَأَتَيَاهُ، فَدَخَلاَ عَلَيْهِ فَتَكَلَّمَا، وَقَالاَ لَهُ، فَطَلَبَا إِلَيْهِ، فَقَالَ لَهُمَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ إِنَّا بَنُو عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَدْ أَصَبْنَا مِنْ هَذَا الْمَالِ، وَإِنَّ هَذِهِ الأُمَّةَ قَدْ عَاثَتْ فِي دِمَائِهَا. قَالاَ فَإِنَّهُ يَعْرِضُ عَلَيْكَ كَذَا وَكَذَا وَيَطْلُبُ إِلَيْكَ وَيَسْأَلُكَ. قَالَ فَمَنْ لِي بِهَذَا قَالاَ نَحْنُ لَكَ بِهِ. فَمَا سَأَلَهُمَا شَيْئًا إِلاَّ قَالاَ نَحْنُ لَكَ بِهِ.فَصَالَحَهُ، فَقَالَ الْحَسَنُ وَلَقَدْ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرَةَ يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَلَى الْمِنْبَرِ وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ إِلَى جَنْبِهِ، وَهْوَ يُقْبِلُ عَلَى النَّاسِ مَرَّةً وَعَلَيْهِ أُخْرَى وَيَقُولُ " إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ، وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ عَظِيمَتَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ". قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّمَا ثَبَتَ لَنَا سَمَاعُ الْحَسَنِ مِنْ أَبِي بَكْرَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ.
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র কসম, হাসান ইব্নু ‘আলী (রাঃ) পর্বত প্রমাণ সেনাদল নিয়ে মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর মুখোমুখি হলেন। আম্র ইব্নু ‘আস (রাঃ) বললেন, আমি এমন সেনাদল দেখতে পাচ্ছি যারা প্রতিপক্ষকে হত্যা না করে ফিরে যাবে না। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তখন বললেন, আল্লাহ্র কসম! আর (মু‘আবিয়াহ ও ‘আম্র ইব্নুল ‘আস) (রাঃ) উভয়ের মধ্যে মু‘আবিয়াহ (রাঃ) ছিলেন উত্তম ব্যক্তি– ‘হে ‘আমর! এরা ওদের এবং ওরা এদের হত্যা করলে, আমি কাকে দিয়ে লোকের সমস্যার সমাধান করব? তাদের নারীদের কে তত্ত্বাবধান করবে? তাদের দুর্বল ও শিশুদের কে রক্ষণাবেক্ষণ করবে?অতঃপর তিনি কুরায়শের বানূ আবদে শাম্স্ শাখার দু’ব্যক্তি ‘আবদুর রহমান ইব্নু সামুরাহ (রাঃ) ও ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘আমির ইব্নু কুরায়য (রাঃ)-কে হাসান (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা উভয়ে এ ব্যক্তিটির নিকট যাও এবং তাঁর নিকট (সন্ধির) প্রস্তাব পেশ করো, তাঁর সঙ্গে আলোচনা কর ও তাঁর বক্তব্য জানতে চেষ্টা কর।’ তাঁরা তাঁর নিকট রয়ে গেলেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বললেন, আলাপ-আলোচনা করলেন এবং তাঁর বক্তব্য জানলেন।হাসান ইব্নু ‘আলী (রাঃ) তাদের বললেন, ‘আমরা ‘আবদুল মুত্তালিবের সন্তান, এই সম্পদ (বায়তুল মালের) আমরা পেয়েছি আর এরা রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছে।’ তারা উভয়ে বললেন, [মু‘আবিয়াহ (রাঃ)] আপনার নিকট এরূপ বক্তব্য পেশ করেছেন। আর আপনার বক্তব্যও জানতে চেয়েছেন ও সন্ধি কামনা করেছেন। তিনি বললেন, ‘এ দায়িত্ব কে নিবে?’ তারা (তার জবাবে) বললেন, ‘আমরা এ দায়িত্ব নিচ্ছি।’ অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গে সন্ধি করলেন।হাসান (বসরী) (রহঃ) বলেন, আমি আবূ বাকরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি : ‘রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে আমি মিম্বরের উপর দেখেছি, হাসান বিন ‘আলী (রাঃ) তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার লোকদের দিকে আরেকবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, আমার এ সন্তান একজন নেতা। সম্ভবত তার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা‘আলা মুসলমানদের দু‘টি বড় দলের মধ্যে মীমাংসা করাবেন।’আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বলেন, ‘আলী ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ) আমাকে বলেছেন যে, এ হাদীসের মাধ্যমেই আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে হাসানের শোনা কথা আমাদের নিকট প্রমাণিত হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাসান ইবন আলী (রাঃ) ও মু’আবিয়া (রাঃ)-এর মধ্যে বড় একটি পরিস্থিতির কথা এসেছে। দুই পক্ষের সেনাদল মুখোমুখি হয়েছিল। আমর ইবনুল আস (রাঃ) যুদ্ধের আশঙ্কা দেখলেন, কিন্তু মু’আবিয়া (রাঃ) মানুষের প্রাণ, নারী, দুর্বল ও শিশুদের কথা ভাবলেন। এরপর আলোচনা ও দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে হাসান (রাঃ) সন্ধিতে সম্মত হন। হাদিসের শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সেই কথা এসেছে, তিনি হাসান (রাঃ)-কে দেখে বলেছিলেন, আমার এ সন্তান একজন নেতা; সম্ভবত আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলমানদের দুই বড় দলের মধ্যে মীমাংসা করাবেন। এখানে নেতৃত্ব, রক্তপাত এড়ানো, মুসলিমদের মধ্যে শান্তি এবং বড় স্বার্থে সমঝোতার শিক্ষা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমদের মধ্যে রক্তপাত এড়ানো বড় কল্যাণের কাজ।
- নেতৃত্ব মানে শুধু শক্তি দেখানো নয়, মানুষের নিরাপত্তা ভাবাও।
- আলোচনা ও দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বড় বিবাদ মীমাংসা হতে পারে।
- শান্তির জন্য নিজের অবস্থান নমনীয় করা প্রশংসনীয় হতে পারে।
