৫৪/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৩৫ - অবৈধ শর্তের অধিকার নেই
মুকাতাব প্রসঙ্গে এবং যে সব শর্ত আল্লাহর কিতাবের বিপরীত তা বৈধ নয়।
وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي الْمُكَاتَبِ شُرُوطُهُمْ بَيْنَهُمْ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَوْ عُمَرُ كُلُّ شَرْطٍ خَالَفَ كِتَابَ اللهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنِ اشْتَرَطَ مِائَةَ شَرْطٍ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ وَيُقَالُ عَنْ كِلَيْهِمَا عَنْ عُمَرَ وَابْنِ عُمَرَজাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) মুকাতাব সম্পর্কে বলেন, গোলাম ও মালিকের মধ্যে সম্পাদিত শর্তই কার্যকর হবে। ইবন ‘উমার অথবা ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কিতাবের বিরোধী সকল শর্ত বাতিল তা শত শর্ত হলেও। আবূ ‘আবদুল্লাহ [বুখারী (রহঃ)] বলেন, কথাটি ‘উমার ও ইবন ‘উমার (রাঃ) উভয় থেকেই বর্ণিত আছে।"
অবৈধ শর্তের অধিকার নেই: বারীরা (রাঃ)-এর হাদিস
সহীহ বুখারী : ২৭৩৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৩৫
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ أَتَتْهَا بَرِيرَةُ تَسْأَلُهَا فِي كِتَابَتِهَا، فَقَالَتْ إِنْ شِئْتِ أَعْطَيْتُ أَهْلَكِ وَيَكُونُ الْوَلاَءُ لِي. فَلَمَّا جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ذَكَّرْتُهُ ذَلِكَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «ابْتَاعِيهَا فَأَعْتِقِيهَا، فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ». ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ «مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَنِ اشْتَرَطَ شَرْطًا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلَيْسَ لَهُ، وَإِنِ اشْتَرَطَ مِائَةَ شَرْطٍ».
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারীরা তার কিতাবাতের ব্যাপারে তাঁর নিকট সাহায্যের আবেদন নিয়ে এল। তিনি বললেন, তুমি চাইলে আমি (কিতাবাতের সমুদয় প্রাপ্য) তোমার মালিককে দিয়ে দিতে পারি এবং ‘ওয়ালা’র অধিকার হবে আমার। অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এলেন, তিনি তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে কিনে মুক্ত করে দাও। কেননা ‘ওয়ালা’র অধিকার তারই, যে মুক্ত করে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘লোকদের কী হয়েছে যে, তারা এমন সব শর্তারোপ করে যা আল্লাহ্র কিতাবে নেই! যে এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহ্র কিতাবে নেই, সে তার অধিকারী হবে না যদিও শত শর্তারোপ করে।’
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরা (রাঃ) তাঁর কিতাবার ব্যাপারে আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে সাহায্য চান। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিনি চাইলে বারীরার মালিকদের প্রাপ্য দিয়ে দেবেন এবং ওয়ালার অধিকার তাঁর হবে। বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, তাঁকে কিনে মুক্ত করে দাও; কারণ ওয়ালার অধিকার তারই, যে মুক্ত করে। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেন, লোকেরা কেন এমন শর্ত করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই? যে এমন শর্ত করে, সে তার অধিকারী হবে না, যদিও শত শর্ত করে। এই হাদিস চুক্তির সীমা বোঝায়। মানুষের শর্ত তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন তা আল্লাহর নির্দেশের বিরোধী না হয় এবং অন্যের ন্যায্য অধিকার নষ্ট না করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়ালার অধিকার মুক্তিদাতার—এ শিক্ষা পুনরায় এসেছে।
- আল্লাহর কিতাবের বাইরে অন্যায্য শর্তের অধিকার পাওয়া যায় না।
- মিম্বারে দাঁড়িয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم) এ বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করেছেন।
- চুক্তি করার সময় ন্যায্য অধিকারকে বদলে দেওয়া ঠিক নয়।
