৫৬/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮০০ - উম্মু হারাম (রাঃ)-এর দোয়া ও সমুদ্র অভিযানের শিক্ষা
আল্লাহর রাস্তায় সওয়ারী থেকে পতিত হয়ে কারো মৃত্যু ঘটলে, সে জিহাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ﴿ (النساء : ١٠٠) وَقَعَ : وَجَبَআল্লাহ তা‘আলার বাণী: “যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে বের হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করার জন্য, তারপর সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তার প্রতিদান অবধারিত হয়ে আছে আল্লাহর কাছে।” (আন-নিসা ১০০)"
উম্মু হারাম (রাঃ) ও সমুদ্র অভিযান: দোয়া, সুসংবাদ ও ত্যাগ
সহীহ বুখারী : ২৮০০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৮০০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ خَالَتِهِ أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ، قَالَتْ نَامَ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمًا قَرِيبًا مِنِّي، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ يَتَبَسَّمُ.فَقُلْتُ مَا أَضْحَكَكَ قَالَ «أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَىَّ يَرْكَبُونَ هَذَا الْبَحْرَ الأَخْضَرَ، كَالْمُلُوكِ عَلَى الأَسِرَّةِ ". قَالَتْ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. فَدَعَا لَهَا، ثُمَّ نَامَ الثَّانِيَةَ، فَفَعَلَ مِثْلَهَا، فَقَالَتْ مِثْلَ قَوْلِهَا، فَأَجَابَهَا مِثْلَهَا. فَقَالَتِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. فَقَالَ «أَنْتِ مِنَ الأَوَّلِينَ ". فَخَرَجَتْ مَعَ زَوْجِهَا عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ غَازِيًا أَوَّلَ مَا رَكِبَ الْمُسْلِمُونَ الْبَحْرَ مَعَ مُعَاوِيَةَ، فَلَمَّا انْصَرَفُوا مِنْ غَزْوِهِمْ قَافِلِينَ فَنَزَلُوا الشَّأْمَ، فَقُرِّبَتْ إِلَيْهَا دَابَّةٌ لِتَرْكَبَهَا فَصَرَعَتْهَا فَمَاتَتْ.
উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার নিকটবর্তী এক স্থানে শুয়েছিলেন, অতঃপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হলো যারা এই নীল সমুদ্রে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তাঁর জন্য দোয়া করলেন।অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এবং আগের মতই করলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) আগের মতই বললেন এবং আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আগের মতই জবাব দিলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন তিনি যেন আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।মু’আবিয়া (রাঃ)-এর সঙ্গে মুসলিমরা যখন প্রথম সমুদ্র পথে অভিযানে বের হয়, তখন তিনি তাঁর স্বামী ‘উবাদা ইব্নু সামিতের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাঁদের কাফেলা সিরিয়ায় যাত্রা বিরতি করে। আরোহণের জন্য উম্মু হারামকে একটি সওয়ারী দেয়া হলো, তিনি সওয়ারীর উপর থেকে পড়ে মারা গেলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের বর্ণনার মতো উম্মু হারাম (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কাছাকাছি শুয়ে ছিলেন। জেগে উঠে হাসলেন এবং জানালেন, তাঁর উম্মতের কিছু মানুষ সমুদ্র পথে বের হবে, যেন তারা সিংহাসনে বসা রাজাদের মতো। উম্মু হারাম (রাঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বললেন, যেন তিনি তাদের মধ্যে থাকেন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জন্য দোয়া করলেন। দ্বিতীয়বার একই ধরনের দৃশ্যের কথা বললে তিনি আবার দোয়া চান। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। পরে তিনি তাঁর স্বামী উবাদা ইবন সামিত (রাঃ)-এর সঙ্গে প্রথম সমুদ্র অভিযানে যান। ফেরার পথে সাওয়ারি থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এই হাদিসে নেক দলে থাকার আগ্রহ, নবীজির দোয়ার মর্যাদা এবং আল্লাহর পথে সফরের কষ্ট সহ্য করার শিক্ষা আছে। এটি অতিরিক্ত গল্প নয়; মূল বর্ণনাতেই শিক্ষা যথেষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেক দলে থাকার জন্য দোয়া চাওয়া সুন্দর শিক্ষা।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মু হারাম (রাঃ)-কে প্রথম দলের সুসংবাদ দেন।
- আল্লাহর পথে সফর সাহাবীদের কাছে বড় মর্যাদার বিষয় ছিল।
- একই ঘটনা একাধিক সূত্রে এলে মূল শিক্ষাকে স্থিরভাবে বোঝা যায়।
