৫৬/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮০১ - বীরে মাউনার শহীদদের ধৈর্য ও মর্যাদা
যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আহত হল কিংবা বর্শা দ্বারা বিদ্ধ হল।
বীরে মাউনার শহীদদের ঘটনা ও আল্লাহর পথে ত্যাগের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৮০১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৮০১
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ ﷺ أَقْوَامًا مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ إِلَى بَنِي عَامِرٍ فِي سَبْعِينَ، فَلَمَّا قَدِمُوا، قَالَ لَهُمْ خَالِي أَتَقَدَّمُكُمْ، فَإِنْ أَمَّنُونِي حَتَّى أُبَلِّغَهُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَإِلاَّ كُنْتُمْ مِنِّي قَرِيبًا. فَتَقَدَّمَ، فَأَمَّنُوهُ، فَبَيْنَمَا يُحَدِّثُهُمْ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ إِذْ أَوْمَئُوا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ، فَطَعَنَهُ فَأَنْفَذَهُ فَقَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ، فُزْتُ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ. ثُمَّ مَالُوا عَلَى بَقِيَّةِ أَصْحَابِهِ فَقَتَلُوهُمْ، إِلاَّ رَجُلاً أَعْرَجَ صَعِدَ الْجَبَلَ. قَالَ هَمَّامٌ فَأُرَاهُ آخَرَ مَعَهُ، فَأَخْبَرَ جِبْرِيلُ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ النَّبِيَّ ﷺ أَنَّهُمْ قَدْ لَقُوا رَبَّهُمْ، فَرَضِيَ عَنْهُمْ وَأَرْضَاهُمْ، فَكُنَّا نَقْرَأُ أَنْ بَلِّغُوا قَوْمَنَا أَنْ قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَأَرْضَانَا. ثُمَّ نُسِخَ بَعْدُ، فَدَعَا عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا، عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَبَنِي لِحْيَانَ وَبَنِي عُصَيَّةَ الَّذِينَ عَصَوُا اللَّهَ وَرَسُولَهُ ﷺ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বনূ সুলায়মের সত্তর জন লোকের একটি দলকে কোরআন শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে বনূ ‘আমিরের নিকট পাঠান। দলটি সেখানে পৌছলে আমার মামা (হারাম ইব্নু মিলহান) তাদেরকে বললেন, আমি সর্বাগ্রে বনূ ‘আমিরের নিকট যাব। যদি তাঁরা আমাকে নিরাপত্তা দেয় আর আমি তাদের নিকট আল্লাহর রসুল (ﷺ)-এর বাণী পৌছাতে পারি, (তবে তো ভাল) অন্যথায় তোমরা আমার কাছেই থাকবে।অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন। কাফিররা তাঁকে নিরাপত্তা দিল, কিন্তু তিনি যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর বাণী শুনাতে লাগলেন, সেই সময় ‘আমির গোত্রীয়রা এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করলো। আর সেই ব্যক্তি তাঁর প্রতি তীর মারল এবং তীর শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন আল্লাহু আকবার, কাবার রবের কসম! আমি সফলকাম হয়েছি। অতঃপর কাফিররা তাঁর অন্যান্য সঙ্গীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং সকলকে শহীদ করল, কিন্তু একজন খোঁড়া ব্যক্তি বেঁচে গেলেন, তিনি পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন। হাম্মাম (রহঃ) অতিরিক্ত উল্লেখ করেন, আমার মনে হয় তাঁর সঙ্গে অন্য একজন ছিলেন।অতঃপর জিব্রাঈল (আঃ) নবী (ﷺ)-কে খবর দিলেন যে, প্রেরিত দলটি তাদের রবের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তিনি (রব) তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাদের সন্তুষ্ট করেছেন। (রাবী বলেন) আমরা এই আয়াতটি পাঠ করতাম, আমাদের কাওমকে জানিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের রবের সঙ্গে মিলিত হয়েছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরও সন্তুষ্ট করেছেন। পরে এ আয়াতটি মানসুখ হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ক্রমাগত চল্লিশ দিন রি‘ল, যাকওয়ান, বনূ লিহয়ান ও বনূ উসাইয়্যার বিরুদ্ধে দোয়া করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো শাহাদাত ও আল্লাহর পথে দাওয়াত। নবী (صلى الله عليه وسلم) সত্তর জন সাহাবীকে কুরআন শিক্ষা ও রসূলের বাণী পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন। হারাম ইবন মিলহান (রাঃ) আগে গিয়ে নিরাপত্তা পেলেও, কথা বলার সময় তাঁকে আঘাত করা হয়। মৃত্যুর মুহূর্তে তাঁর মুখে ছিল ঈমানের দৃঢ় ঘোষণা—তিনি আল্লাহর পথে সফলতা অনুভব করেছিলেন। এরপর অন্য সাহাবীদেরও শহীদ করা হয়। হাদিসে এসেছে, জিবরাঈল (আঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে তাঁদের মর্যাদার খবর দেন। এখানে বীরে মাউনার শহীদ, আল্লাহর সন্তুষ্টি, কুরআন শিক্ষা ও দাওয়াতের পথে ধৈর্যের গভীর শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে সত্য বাণী পৌঁছে দেওয়া বড় দায়িত্ব ও সম্মানের কাজ।
- সাহাবীরা দাওয়াত ও কুরআন শিক্ষার কাজে প্রাণ পর্যন্ত দিয়েছেন।
- নিরাপত্তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করা বড় অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতা।
- মুমিনের আসল সফলতা আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে যুক্ত।
