৫৬/২৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮২৮ - জিহাদ ও সিয়ামের ভারসাম্য
যে ব্যক্তি জিহাদকে সিয়ামের উপর অগ্রগণ্য করে।
আবু তালহা রাঃ-এর সিয়াম: দায়িত্ব ও ইবাদতের ভারসাম্য
সহীহ বুখারী : ২৮২৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৮২৮
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ لاَ يَصُومُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ أَجْلِ الْغَزْوِ، فَلَمَّا قُبِضَ النَّبِيُّ ﷺ لَمْ أَرَهُ مُفْطِرًا، إِلاَّ يَوْمَ فِطْرٍ أَوْ أَضْحَى.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় আবূ ত্বলহা (রাঃ) জিহাদের কারণে সিয়াম পালন করতেন না। কিন্তু আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর ‘ঈদুল ফিত্র ও ‘ঈদুল আয্হা ব্যতীত তাঁকে কখনো সিয়াম বাদ দিতে দেখিনি।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু তালহা (রাঃ)-এর আমলের একটি দিক এসেছে। নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর জীবদ্দশায় তিনি জিহাদের কারণে সিয়াম পালন করতেন না। অর্থাৎ তখন তাঁর সামনে এমন দায়িত্ব ছিল, যেখানে শক্তি ও প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর ইন্তিকালের পর তাঁকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ছাড়া সিয়াম ছাড়তে দেখা যায়নি। হাদিসটি সিয়ামের ভালোবাসা এবং দায়িত্বের সময় বাস্তবতা বোঝার শিক্ষা দেয়। এখানে কোনো সাধারণ নিয়ম নিজের মতো বানানো উচিত নয়; বর্ণনায় নির্দিষ্টভাবে আবু তালহা (রাঃ)-এর আমল এসেছে। তবে এতটুকু পরিষ্কার, সাহাবীরা ইবাদতকে গুরুত্ব দিতেন এবং দায়িত্বের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদত ও দায়িত্বের মাঝে ভারসাম্য রাখা দরকার।
- সাহাবীরা সিয়ামকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন।
- জিহাদের প্রয়োজনের কারণে সিয়াম না রাখার ঘটনা নির্দিষ্ট বর্ণনায় এসেছে।
- ঈদের দিন সিয়াম না রাখার বিষয়ও বর্ণনায় স্পষ্ট।
