৬৪/৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২১ - সা’দ ইবনু মু’আযের ফয়সালা
আহযাব নবী (ﷺ)-এর প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর বনু কুরাইযাহ অভিযান ও তাদের অবরোধ
সা’দ ইবনু মু’আযের ফয়সালা: ন্যায়বিচারের কঠিন শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪১২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১২১
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَعْدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيْدٍ الْخُدْرِيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ نَزَلَ أَهْلُ قُرَيْظَةَ عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَأَرْسَلَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَى سَعْدٍ فَأَتَى عَلَى حِمَارٍ فَلَمَّا دَنَا مِنَ الْمَسْجِدِ قَالَ لِلأَنْصَارِ قُوْمُوْا إِلَى سَيِّدِكُمْ أَوْ خَيْرِكُمْ فَقَالَ هَؤُلَاءِ نَزَلُوْا عَلَى حُكْمِكَ فَقَالَ تَقْتُلُ مُقَاتِلَتَهُمْ وَتَسْبِيْ ذَرَارِيَّهُمْ قَالَ قَضَيْتَ بِحُكْمِ اللهِ وَرُبَّمَا قَالَ بِحُكْمِ الْمَلِكِ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-এর বিচার মতে বানী কুরাইযাহ গোত্রের লোকেরা দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসল। নবী (ﷺ) সা’দকে আনার জন্য লোক পাঠালেন। তিনি গাধায় চড়ে আসলেন। তিনি মসজিদে নাবাবীর নিকটবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসার সাহাবীগণের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তোমাদের নেতা ও সর্বোত্তম লোককে স্বাগত জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে যাও।(অতঃপর) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এরা তোমরা ফায়সালা মেনে নিয়ে দূর্গ থাকে নিচে নেমে এসেছে। তখন তিনি বললেন, তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করা হবে এবং তাদের সন্তানদেরকে বন্দী করা হবে। নবী (ﷺ) বললেন, হে সা’দ! তুমি আল্লাহ্র নির্দেশ অনুসারে ফায়সালা দিয়েছ। কোন কোন সময় তিনি বলেছেন, তুমি সকল রাজার রাজা আল্লাহ্র নির্দেশ মুতাবিক ফায়সালা করেছ।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বনু কুরাইযা গোত্রের লোকেরা সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-এর ফয়সালা মেনে বেরিয়ে আসে। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে ডেকে পাঠান। তিনি গাধায় চড়ে মসজিদের কাছে এলে নবী صلى الله عليه وسلم আনসারদের বলেন, তোমাদের নেতা বা উত্তম লোকের জন্য দাঁড়াও। এরপর বিষয়টি সা’দ (রাঃ)-এর সামনে রাখা হয়। তিনি যোদ্ধাদের হত্যা এবং সন্তানদের বন্দি করার ফয়সালা দেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তিনি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ফয়সালা করেছেন। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিচার, নেতৃত্ব এবং ফয়সালার দায়িত্ব। এখানে কোনো সাধারণ সামাজিক বিবাদ নয়; একটি যুদ্ধ-পরবর্তী কঠিন অবস্থার কথা এসেছে। তাই ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি না করে বলা যায়, হাদিসটি দেখায়—যখন মানুষ কারও বিচার মেনে নেয়, তখন বিচারককে আল্লাহর ভয় রেখে সিদ্ধান্ত দিতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেতৃত্বের মর্যাদা শুধু পদে নয়, ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্তে প্রকাশ পায়।
- ফয়সালা করার দায়িত্ব কঠিন; এতে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি সচেতনতা দরকার।
- যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও সিদ্ধান্ত নিয়ম ও ন্যায়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
- যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মান দেওয়া সাহাবীদের আদবের অংশ হিসেবে দেখা যায়।
