৬৪/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২৭ - যাতুর রিকায় দুই রাকাত সালাতুল খাওফ
যাতুর রিকা যুদ্ধ
وَهِيَ غَزْوَةُ مُحَارِبِ خَصَفَةَ مِنْ بَنِي ثَعْلَبَةَ مِنْ غَطَفَانَ فَنَزَلَ نَخْلًا وَهِيَ بَعْدَ خَيْبَرَ لِأَنَّ أَبَا مُوسَى جَاءَ بَعْدَ خَيْبَرَ.গাতফানের শাখা গোত্র বনূ সালাবার অন্তর্ভুক্ত খাসাফার বংশধর মুহারিব গোত্রের সঙ্গে এ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাখলা নামক স্থানে অবতরণ করেছিলেন। খায়বার যুদ্ধের পর এ যুদ্ধ হয়েছিল। কেননা আবূ মূসা (রাঃ) খায়বার যুদ্ধের পর (হাবশা থেকে) এসেছিলেন।"
যাতুর রিকায় দুই রাকাত সালাতুল খাওফ: ভয়ের মধ্যেও ইবাদত
সহীহ বুখারী : ৪১২৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১২৭
وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ سَمِعْتُ وَهْبَ بْنَ كَيْسَانَ سَمِعْتُ جَابِرًا خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَى ذَاتِ الرِّقَاعِ مِنْ نَخْلٍ فَلَقِيَ جَمْعًا مِنْ غَطَفَانَ فَلَمْ يَكُنْ قِتَالٌ وَأَخَافَ النَّاسُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَصَلَّى النَّبِيُّ رَكْعَتَيْ الْخَوْفِ وَقَالَ يَزِيْدُ عَنْ سَلَمَةَ غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ يَوْمَ الْقَرَدِ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) নাখলা নামক স্থান থেকে যাতুর রিকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে গাতফান গোত্রের একটি দলের সম্মুখীন হন। কিন্তু সেখানে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। উভয় পক্ষ পরস্পর ভীতি প্রদর্শন করেছিল মাত্র। তখন নবী (ﷺ) দু’রাক’আত সালাতুল খাওফ আদায় করেন। ইয়াযীদ (রহঃ) সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করে বলেছেন, আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে যূকারাদ-এর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাতুর রিকার পথে নবী صلى الله عليه وسلم নাখল থেকে বের হয়ে গাতফান গোত্রের একটি দলের মুখোমুখি হন। সেখানে যুদ্ধ হয়নি, কিন্তু উভয় পক্ষের মধ্যে ভয় ও সতর্কতা ছিল। এই অবস্থায় নবী صلى الله عليه وسلم দুই রাকাত সালাতুল খাওফ আদায় করেন। বর্ণনাটি আমাদের শেখায়, সালাতুল খাওফ শুধু সরাসরি সংঘর্ষের মুহূর্তে নয়; শত্রুর আশঙ্কা ও নিরাপত্তার চাপ থাকলেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে হাদিসে যে পরিমাণ তথ্য আছে, ব্যাখ্যাও তার মধ্যেই রাখা দরকার। এখানে মূল বিষয় যুদ্ধের বিস্তারিত নয়, বরং ভয়ের অবস্থায় নামাজ। সালাতুল খাওফের এই বর্ণনা দেখায়, মুসলিমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়, আবার আল্লাহর ইবাদত থেকেও গাফেল হয় না। এই ভারসাম্যই হাদিসটির সহজ ও গভীর শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয় বা বিপদের অবস্থাতেও সালাতের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- সাহাবীরা নিরাপত্তা ও সালাত—দুই দিকই একসঙ্গে সামলেছেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে জামাআতের ব্যবস্থা করেছেন।
- শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায়ও কাতার ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব দেখা যায়।
