৬৪/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৩১ - সালাতুল খাওফের বিস্তারিত রাকাত বিন্যাস
যাতুর রিকা যুদ্ধ
وَهِيَ غَزْوَةُ مُحَارِبِ خَصَفَةَ مِنْ بَنِي ثَعْلَبَةَ مِنْ غَطَفَانَ فَنَزَلَ نَخْلًا وَهِيَ بَعْدَ خَيْبَرَ لِأَنَّ أَبَا مُوسَى جَاءَ بَعْدَ خَيْبَرَ.গাতফানের শাখা গোত্র বনূ সালাবার অন্তর্ভুক্ত খাসাফার বংশধর মুহারিব গোত্রের সঙ্গে এ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাখলা নামক স্থানে অবতরণ করেছিলেন। খায়বার যুদ্ধের পর এ যুদ্ধ হয়েছিল। কেননা আবূ মূসা (রাঃ) খায়বার যুদ্ধের পর (হাবশা থেকে) এসেছিলেন।"
সালাতুল খাওফের বিস্তারিত পদ্ধতি: কাতার, পাহারা ও রাকাত
সহীহ বুখারী : ৪১৩১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৩১
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ الْقَطَّانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِيْ حَثْمَةَ قَالَ يَقُوْمُ الإِمَامُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَطَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَهُ وَطَائِفَةٌ مِنْ قِبَلِ الْعَدُوِّ وُجُوْهُهُمْ إِلَى الْعَدُوِّ فَيُصَلِّيْ بِالَّذِيْنَ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ يَقُوْمُوْنَ فَيَرْكَعُوْنَ لِأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً وَيَسْجُدُوْنَ سَجْدَتَيْنِ فِيْ مَكَانِهِمْ ثُمَّ يَذْهَبُ هَؤُلَاءِ إِلَى مَقَامِ أُوْلَئِكَ فَيَرْكَعُ بِهِمْ رَكْعَةً فَلَهُ ثِنْتَانِ ثُمَّ يَرْكَعُوْنَ وَيَسْجُدُوْنَ سَجْدَتَيْنِحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِيْ حَثْمَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ مِثْلَهُحَدَّثَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِيْ حَازِمٍ عَنْ يَحْيَى سَمِعَ الْقَاسِمَ أَخْبَرَنِيْ صَالِحُ بْنُ خَوَّاتٍ عَنْ سَهْلٍ حَدَّثَهُ قَوْلَهُ تَابَعَهُ اللَّيْثُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ حَدَّثَهُ صَلَّى النَّبِيُّ ﷺ فِيْ غَزْوَةِ بَنِيْ أَنْمَارٍ
সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(সালাতুল খাওফে) ইমাম কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াবেন। একদল থাকবেন তাঁর সঙ্গে এবং অন্যদল শত্রুদের মুখোমুখি হয়ে তাদের মুকাবিলায় দাঁড়িয়ে থাকবেন। তখন ইমাম তাঁর পেছনের একদল নিয়ে এক রাক’আত সালাত আদায় করবেন। এরপর সালাতরত দলটি নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে রুকূ ও দু’ সিজদাহসহ আরো এক রাক’আত সালাত আদায় করে ঐ দলের স্থানে গিয়ে দাঁড়াবেন। এরপর তারা এলে ইমাম তাদের নিয়ে এক রাক’আত সালাত আদায় করবেন। এভাবে ইমামের দু’রাক’আত সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে। আর পিছনের লোকেরা রুকূ সিজদাহ্সহ আরো এক রাক’আত সালাত আদায় করবেন। সাহ্ল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ) নবী (ﷺ) থেকে একইভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সাহল (রাঃ) এটি তাঁর নিজের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লায়স (রহঃ) হিশাম ও যায়দ ইবনু আসলাম সূত্রে এর অনুসরণ করেছেন যে, কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী (ﷺ) বানী আনমারের যুদ্ধে সালাত আদায় করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ)-এর সূত্রে সালাতুল খাওফের ধাপগুলো আরও পরিষ্কারভাবে এসেছে। ইমাম কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াবেন। একদল তাঁর সঙ্গে থাকবে, আর অন্যদল শত্রুর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইমাম তাঁর সঙ্গে থাকা দলকে এক রাকাত পড়াবেন। এরপর তারা নিজেদের স্থানে আরেক রাকাত রুকু ও দুই সিজদাসহ পূর্ণ করবে, তারপর পাহারার স্থানে যাবে। অন্য দল এলে ইমাম তাদের নিয়ে আরেক রাকাত পড়াবেন। এতে ইমামের দুই রাকাত পূর্ণ হবে, আর দ্বিতীয় দলও নিজের বাকিটুকু পূর্ণ করবে। এই হাদিস যুদ্ধের সময় নামাজের পদ্ধতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে দেখা যায়, সালাতুল খাওফে কিবলা, জামাআত, পাহারা এবং দলবিন্যাস—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয় বা বিপদের অবস্থাতেও সালাতের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- সাহাবীরা নিরাপত্তা ও সালাত—দুই দিকই একসঙ্গে সামলেছেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে জামাআতের ব্যবস্থা করেছেন।
- শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায়ও কাতার ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব দেখা যায়।
