৬৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪২ - অপবাদে আলী (রাঃ)-এর নির্দোষিতা
ইফকের ঘটনা
وَالْأَفْكُ بِمَنْزِلَةِ النَّجِسِ وَالنَّجَسِ يُقَالُ إِفْكُهُمْ وَأَفَكَهُمْ وَأَفَكَهُمْ فَمَنْ قَالَ أَفَكَهُمْ يَقُولُ صَرَفَهُمْ عَنْ الْإِيمَانِ وَكَذَّبَهُمْ كَمَا قَالَ ﴾يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ﴿ يُصْرَفُ عَنْهُ مَنْ صُرِفَ[ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন] أُفِكَ ও إِفْكٌ এর মতো نَجِسٌ ও نَجَسٌ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। তাই আরবীয় লোকেরা বলেন, أَفَكَهُمْ ও إِفْكَهُمْ-أَفَكَهُمْ। যিনি أَفَكَهُمْ পড়েছেন, তিনি বলেন যে, এর অর্থ তাদেরকে তিনি ঈমান হতে ফিরিয়ে রেখেছিলেন এবং তাদেরকে মিথ্যুক আখ্যায়িত করেছিলেন।"
ইফকের ঘটনায় আলী (রাঃ)-এর নির্দোষিতা: সতর্ক বর্ণনার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪১৪২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৪২
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ أَمْلَى عَلَيَّ هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ مِنْ حِفْظِهِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ قَالَ لِي الْوَلِيْدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ أَبَلَغَكَ أَنَّ عَلِيًّا كَانَ فِيْمَنْ قَذَفَ عَائِشَةَ قُلْتُ لَا وَلَكِنْ قَدْ أَخْبَرَنِيْ رَجُلَانِ مِنْ قَوْمِكَ أَبُوْ سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُوْ بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ لَهُمَا كَانَ عَلِيٌّ مُسَلِّمًا فِيْ شَأْنِهَا فَرَاجَعُوْهُ فَلَمْ يَرْجِعْ وَقَالَ مُسَلِّمًا بِلَا شَكٍّ فِيْهِ وَعَلَيْهِ كَانَ فِيْ أَصْلِ الْعَتِيْقِ كَذَلِكَ
যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ওয়ালীদ ইবনু ‘আবদুল মালিক (রহঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নিকট কি এ খবর পৌঁছেছে যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রতি অপবাদ রটনাকারীদের মধ্য ‘আলী (রাঃ)-ও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন? আমি বললাম, না তবে আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান ও আবূ বকর ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু হারিস নামক তোমার গোত্রের দু’ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছে যে, আয়িশাহ (রাঃ) তাদের দু’জনকে বলেছিলেন যে, ‘আলী (রাঃ) তাঁর ব্যাপারে পুরোপুরি নির্দোষ ছিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইফকের ঘটনায় সঠিক তথ্য গ্রহণ। ওয়ালিদ ইবনু আবদুল মালিক জানতে চান, আয়েশা (রাঃ)-এর প্রতি অপবাদ রটনাকারীদের মধ্যে আলী (রাঃ) ছিলেন কি না। উত্তরে যুহরী (রহঃ) বলেন, তাঁর কাছে এমন খবর পৌঁছেনি। বরং দুইজন বর্ণনাকারী তাঁকে জানিয়েছেন যে, আয়েশা (রাঃ) নিজেই বলেছেন, আলী (রাঃ) তাঁর ব্যাপারে পুরোপুরি নির্দোষ ছিলেন। এই হাদিস আমাদের শেখায়, বড় কোনো ঘটনার সঙ্গে মানুষের নাম জড়ানোর আগে সতর্ক হতে হয়। কারও বিষয়ে সন্দেহজনক কথা শুনে তা সত্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে সাহাবিদের ব্যাপারে কথা বলার সময় আরও বেশি সংযম দরকার। এখানে হাদিসের বক্তব্য একটিই—আলী (রাঃ) অপবাদ রটনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তাই ব্যাখ্যাও এই সঠিকতা ও সতর্কতার মধ্যেই সীমিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও নামে অভিযোগ ছড়ানোর আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেখা জরুরি।
- সাহাবিদের বিষয়ে কথা বলার সময় ভাষা ও ধারণায় সংযম রাখা উচিত।
- শোনা কথা সবসময় সত্য ধরে নেওয়া যায় না।
- আয়েশা (রাঃ)-এর বক্তব্য অনুযায়ী আলী (রাঃ) এই ঘটনায় নির্দোষ ছিলেন।
