৬৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
ইফকের ঘটনা
وَالْأَفْكُ بِمَنْزِلَةِ النَّجِسِ وَالنَّجَسِ يُقَالُ إِفْكُهُمْ وَأَفَكَهُمْ وَأَفَكَهُمْ فَمَنْ قَالَ أَفَكَهُمْ يَقُولُ صَرَفَهُمْ عَنْ الْإِيمَانِ وَكَذَّبَهُمْ كَمَا قَالَ ﴾يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ﴿ يُصْرَفُ عَنْهُ مَنْ صُرِفَ[ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] أُفِكَ ও إِفْكٌ এর মতো نَجِسٌ ও نَجَسٌ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। তাই আরবীয় লোকেরা বলেন, أَفَكَهُمْ ও إِفْكَهُمْ-أَفَكَهُمْ । যিনি أَفَكَهُمْ পড়েছেন, তিনি বলেন যে, এর অর্থ তাদেরকে তিনি ঈমান হতে ফিরিয়ে রেখেছিলেন এবং তাদেরকে মিথ্যুক আখ্যায়িত করেছিলেন।"
সহিহ বুখারী : ৪১৪৩
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৪৩
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَسْرُوْقُ بْنُ الْأَجْدَعِ قَالَ حَدَّثَتْنِيْ أُمُّ رُوْمَانَ وَهِيَ أُمُّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَتْ بَيْنَا أَنَا قَاعِدَةٌ أَنَا وَعَائِشَةُ إِذْ وَلَجَتْ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَتْ فَعَلَ اللهُ بِفُلَانٍ وَفَعَلَ فَقَالَتْ أُمُّ رُوْمَانَ وَمَا ذَاكَ قَالَتْ ابْنِيْ فِيْمَنْ حَدَّثَ الْحَدِيْثَ قَالَتْ وَمَا ذَاكَ قَالَتْ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ نَعَمْ قَالَتْ وَأَبُوْ بَكْرٍ قَالَتْ نَعَمْ فَخَرَّتْ مَغْشِيًّا عَلَيْهَا فَمَا أَفَاقَتْ إِلَّا وَعَلَيْهَا حُمَّى بِنَافِضٍ فَطَرَحْتُ عَلَيْهَا ثِيَابَهَا فَغَطَّيْتُهَا فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا شَأْنُ هَذِهِ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَخَذَتْهَا الْحُمَّى بِنَافِضٍ قَالَ فَلَعَلَّ فِيْ حَدِيْثٍ تُحُدِّثَ بِهِ قَالَتْ نَعَمْ فَقَعَدَتْ عَائِشَةُ فَقَالَتْ وَاللهِ لَئِنْ حَلَفْتُ لَا تُصَدِّقُوْنِيْ وَلَئِنْ قُلْتُ لَا تَعْذِرُوْنِيْ مَثَلِيْ وَمَثَلُكُمْ كَيَعْقُوْبَ وَبَنِيْهِ {وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰى مَا تَصِفُوْنَ} قَالَتْ وَانْصَرَفَ وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا فَأَنْزَلَ اللهُ عُذْرَهَا قَالَتْ بِحَمْدِ اللهِ لَا بِحَمْدِ أَحَدٍ وَلَا بِحَمْدِكَ
আয়িশাহ (রাঃ)-এর মা উম্মু রুমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ও আয়েশা (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় এক আনসারী মহিলা এসে বলতে লাগল— আল্লাহ অমুক অমুককে ধ্বংস করুন। এ কথা উম্মু রুমান (রাঃ) বললেন, তুমি কী বলছ? সে বলল, যারা অপবাদ রটিয়েছে তাদের মধ্যে আমার ছেলেও আছে। উম্মু রুমান (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, সেটা কী? সে বলল, এই এই রটিয়েছে। আয়েশা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুনেছেন? সে বলল, হ্যাঁ। আয়েশা (রাঃ) বললেন, আবু বকরও কি শুনেছেন?সে বলল, হ্যাঁ। এ কথা শুনে আয়েশা (রাঃ) বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন। জ্ঞান ফিরে আসলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসল। তখন আমি একটি চাদর দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলাম।এরপর নবী (ﷺ) এসে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর কি অবস্থা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হয়তো সে অপবাদের কারণে। তিনি বললেন, হ্যাঁ।এ সময় আয়েশা (রাঃ) উঠে বসলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম! আমি যদি কসম করি, তাহলেও আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না, আর যদি ওজর পেশ করি তবুও আমার ওজর আপনারা গ্রহণ করবেন না, আমার এবং আপনাদের দৃষ্টান্ত নবী ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর ছেলেদের উদাহরণের মতো। তিনি বলেছিলেন, “তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র আমার আশ্রয়স্থল।”উম্মু রুমান (রাঃ) বলেন, তখন নবী (ﷺ) কিছু না বলেই চলে গেলেন। এরপর আল্লাহ তা’আলা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে আয়াত অবতীর্ণ করলেন।আয়েশা (রাঃ) বললেন, একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা করি অন্য কারো না, আপনারও না।
[৩৩৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৩১,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৩৪)
