৬৪/৩৫. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪৩ - অপবাদে ধৈর্য ও আল্লাহর সাহায্য

ইফকের ঘটনা

وَالْأَفْكُ بِمَنْزِلَةِ النَّجِسِ وَالنَّجَسِ يُقَالُ إِفْكُهُمْ وَأَفَكَهُمْ وَأَفَكَهُمْ فَمَنْ قَالَ أَفَكَهُمْ يَقُولُ صَرَفَهُمْ عَنْ الْإِيمَانِ وَكَذَّبَهُمْ كَمَا قَالَ ﴾يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ﴿ يُصْرَفُ عَنْهُ مَنْ صُرِفَ[ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন] أُفِكَ ও إِفْكٌ এর মতো نَجِسٌ ও نَجَسٌ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। তাই আরবীয় লোকেরা বলেন, أَفَكَهُمْ ও إِفْكَهُمْ-أَفَكَهُمْ। যিনি أَفَكَهُمْ পড়েছেন, তিনি বলেন যে, এর অর্থ তাদেরকে তিনি ঈমান হতে ফিরিয়ে রেখেছিলেন এবং তাদেরকে মিথ্যুক আখ্যায়িত করেছিলেন।"

অপবাদে ধৈর্য: আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৪৩

مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَسْرُوْقُ بْنُ الْأَجْدَعِ قَالَ حَدَّثَتْنِيْ أُمُّ رُوْمَانَ وَهِيَ أُمُّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَتْبَيْنَا أَنَا قَاعِدَةٌ أَنَا وَعَائِشَةُ إِذْ وَلَجَتْ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَتْ فَعَلَ اللهُ بِفُلَانٍ وَفَعَلَ فَقَالَتْ أُمُّ رُوْمَانَ وَمَا ذَاكَ قَالَتْ ابْنِيْ فِيْمَنْ حَدَّثَ الْحَدِيْثَ قَالَتْ وَمَا ذَاكَ قَالَتْ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَتْ نَعَمْ قَالَتْ وَأَبُوْ بَكْرٍ قَالَتْ نَعَمْ فَخَرَّتْ مَغْشِيًّا عَلَيْهَا فَمَا أَفَاقَتْ إِلَّا وَعَلَيْهَا حُمَّى بِنَافِضٍ فَطَرَحْتُ عَلَيْهَا ثِيَابَهَا فَغَطَّيْتُهَا فَجَاءَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ مَا شَأْنُ هَذِهِ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَخَذَتْهَا الْحُمَّى بِنَافِضٍ قَالَ فَلَعَلَّ فِيْ حَدِيْثٍ تُحُدِّثَ بِهِ قَالَتْ نَعَمْ فَقَعَدَتْ عَائِشَةُ فَقَالَتْ وَاللهِ لَئِنْ حَلَفْتُ لَا تُصَدِّقُوْنِيْ وَلَئِنْ قُلْتُ لَا تَعْذِرُوْنِيْ مَثَلِيْ وَمَثَلُكُمْ كَيَعْقُوْبَ وَبَنِيْهِ ﴾وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰى مَا تَصِفُوْنَ﴿ قَالَتْ وَانْصَرَفَ وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا فَأَنْزَلَ اللهُ عُذْرَهَا قَالَتْ بِحَمْدِ اللهِ لَا بِحَمْدِ أَحَدٍ وَلَا بِحَمْدِكَ

উম্মু রুমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি ও ‘আয়িশাহ (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় এক আনসারী মহিলা এসে বলতে লাগল আল্লাহ অমুক অমুককে ধ্বংস করুন। এ কথা উম্মু রুমান (রাঃ) বললেন, তুমি কী বলছ? সে বলল, যারা অপবাদ রটিয়েছে তাদের মধ্যে আমার ছেলেও আছে। উম্মু রুমান (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, সেটা কী? সে বলল, এই এই রটিয়েছে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুনেছেন? সে বলল, হ্যাঁ। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আবূ বকরও কি শুনেছেন? সে বলল, হ্যাঁ। এ কথা শুনে ‘আয়িশাহ (রাঃ) বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন। জ্ঞান ফিরে আসলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসল। তখন আমি একটি চাদর দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলাম।এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর কি অবস্থা? আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তাঁর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হয়তো সে অপবাদের কারণে। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এ সময় ‘আয়িশাহ (রাঃ) উঠে বসলেন এবং বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! আমি যদি কসম করি, তাহলেও আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না, আর যদি ওযর পেশ করি তবুও আমার ওযর আপনারা গ্রহণ করবেন না, আমার এবং আপনাদের দৃষ্টান্ত নবী ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর ছেলেদের উদাহরণের মতো। তিনি বলেছিলেন, “তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে আল্লাহ্ই একমাত্র আমার আশ্রয়স্থল”।উম্মু রুমান (রাঃ) বলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু না বলেই চলে গেলেন। এরপর আল্লাহ তা’আলা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে আয়াত অবতীর্ণ করলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, একমাত্র আল্লাহ্‌রই প্রশংসা করি অন্য কারো না, আপনারও না।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উম্মু রুমান (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-এর অপবাদ শোনার পর তাঁর মানসিক কষ্টের কথা বর্ণনা করেছেন। একজন আনসারী মহিলা এসে জানালেন যে, অপবাদ রটনার কথায় তাঁর ছেলেও জড়িত। আয়েশা (রাঃ) জানতে চাইলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ও আবু বকর (রাঃ) এ কথা শুনেছেন কি না। যখন জানলেন তাঁরা শুনেছেন, তখন তিনি বেহুশ হয়ে পড়লেন এবং পরে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এল। নবী (صلى الله عليه وسلم) এসে অবস্থা জানতে চাইলেন। তখন আয়েশা (রাঃ) বললেন, তিনি কসম করলেও মানুষ বিশ্বাস করবে না, ওজর পেশ করলেও গ্রহণ করবে না। তিনি ইয়াকুব (আঃ)-এর কথার মতো আল্লাহর সাহায্য চাইলেন। এরপর আল্লাহ তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা নাজিল করেন। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, অপবাদ খুব কষ্টদায়ক; কিন্তু মুমিনের আশ্রয় আল্লাহর কাছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অপবাদ মানুষের মনে গভীর কষ্ট সৃষ্টি করতে পারে।
  • কঠিন অবস্থায় আল্লাহর সাহায্য চাওয়াই মুমিনের পথ।
  • ধৈর্য ধরে সত্যের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
  • আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতাকে আগে রাখা উচিত।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন