৬৪/৪৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪২৬৮ - শোকের পর বিলাপ থেকে বিরত থাকা
সিরিয়া ভূমিতে সংঘটিত মুতার যুদ্ধের ঘটনা
শোকের সংযম: বিলাপ থেকে বিরত থাকার বাস্তব শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪২৬৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪২৬৮
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا عَبْثَرُ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ قَالَ أُغْمِيَ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ رَوَاحَةَ بِهَذَا فَلَمَّا مَاتَ لَمْ تَبْكِ عَلَيْهِ.
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক সময় 'আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বেহুঁশ হয়ে পড়লেন বলে তা বর্ণনা করলেন যেভাবে উপরোক্ত হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে। (তারপর তিনি বলেছেন) অতঃপর তিনি ['আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)] শহীদ হলে তাঁর বোন মোটেই কান্নাকাটি করেনি।
[১] 'আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) যিনি যুদ্ধের পূর্বের কোন এক সময়কার ঘটনায় বেহুঁশ হয়ে পড়লে তাঁর বোন আসমা বিনতু রাওয়াহা তাঁর বহুবিধ গুণ বর্ণনা করে কান্নাকাটি করলে তিনি তাঁর বোনকে নিষেধ করেছিলেন। তিনি যখন মূতা'-এর যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন তখন সে খবর পেয়ে মোটেও কাঁদেননি। এ হাদীসে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪২৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি আগের ঘটনার সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিকতা। এতে বলা হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) একসময় বেহুশ হয়ে পড়েছিলেন—যেমন আগের হাদিসে বর্ণনা এসেছে। এরপর তিনি শহীদ হলে তাঁর বোন আর তাঁর ওপর কান্নাকাটি বা বিলাপ করেননি। এই ছোট বর্ণনাতেই একটি বড় শিক্ষা আছে। আগের ঘটনায় তিনি বুঝেছিলেন, শোকের সময় অতিরঞ্জিত কথা বলে কান্না করা ঠিক নয়। তাই পরের সময়ে তিনি নিজেকে সংযত রাখেন। “শোকের সময় সংযম” বা “বিলাপ করা সম্পর্কে হাদিস” বিষয়ে এই বর্ণনা খুব সরল কিন্তু কার্যকর। হাদিসে সাধারণ দুঃখ বা চোখের পানি নিয়ে আলাদা কথা নেই; এখানে নির্দিষ্টভাবে বিলাপ না করার পরিবর্তনটি বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভুল বুঝতে পারলে পরের সময়ে নিজেকে সংশোধন করা উচিত।
- শোকের সময় সংযম রাখা ইসলামী আদবের অংশ হিসেবে বোঝা যায়।
- অতিরঞ্জিত বিলাপ থেকে বিরত থাকা এই হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
