৬৪/৮৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৪২ - অসুস্থতায় সালাত ও উম্মতের নসীহত
নবী (ﷺ)-এর রোগ ও তাঁর ওফাত
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴾إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُ مْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করবে। (সূরা আয-যুমার ৩৯/৩০-৩১)وَقَالَ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ."
অসুস্থতার মধ্যেও সালাত, নসীহত ও উম্মতের প্রতি নবীজির যত্ন
সহীহ বুখারী : ৪৪৪২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৪২
سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُوْدٍ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ لَمَّا ثَقُلَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَاشْتَدَّ بِهِ وَجَعُهُ اسْتَأْذَنَ أَزْوَاجَهُ أَنْ يُمَرَّضَ فِيْ بَيْتِيْ فَأَذِنَّ لَهُ فَخَرَجَ وَهُوَ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ تَخُطُّ رِجْلَاهُ فِي الْأَرْضِ بَيْنَ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَبَيْنَ رَجُلٍ آخَرَ قَالَ عُبَيْدُ اللهِ فَأَخْبَرْتُ عَبْدَ اللهِ بِالَّذِيْ قَالَتْ عَائِشَةُ فَقَالَ لِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ هَلْ تَدْرِيْ مَنْ الرَّجُلُ الآخَرُ الَّذِيْ لَمْ تُسَمِّ عَائِشَةُ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هُوَ عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍوَكَانَتْ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ ﷺ تُحَدِّثُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لَمَّا دَخَلَ بَيْتِيْ وَاشْتَدَّ بِهِ وَجَعُهُ قَالَ هَرِيْقُوْا عَلَيَّ مِنْ سَبْعِ قِرَبٍ لَمْ تُحْلَلْ أَوْكِيَتُهُنَّ لَعَلِّيْ أَعْهَدُ إِلَى النَّاسِ فَأَجْلَسْنَاهُ فِيْ مِخْضَبٍ لِحَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ طَفِقْنَا نَصُبُّ عَلَيْهِ مِنْ تِلْكَ الْقِرَبِ حَتَّى طَفِقَ يُشِيْرُ إِلَيْنَا بِيَدِهِ أَنْ قَدْ فَعَلْتُنَّ قَالَتْ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى النَّاسِ فَصَلَّى بِهِمْ وَخَطَبَهُمْ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রোগ প্রবল হল ও ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষা পাওয়ার ব্যাপারে তাঁর স্ত্রীগণের নিকট অনুমতি চাইলেন। তাঁরা অনুমতি দিলেন। তারপর তিনি (ﷺ) ঘর থেকে বের হয়ে ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) ও অপর একজন সাহাবীর মাঝে যমীনের উপর পা হিঁচড়ে চলতে লাগলেন।'উবাইদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-কে 'আয়িশাহ কথিত ব্যক্তি সম্পর্কে জানালাম, তখন 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি সেই অন্য ব্যক্তিকে জান যার নাম 'আয়িশাহ (রাঃ) উল্লেখ করেননি? আমি বললাম, না। ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি হলেন, আলী (রাঃ)।নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী ' আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করতেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক যার মুখ এখনও খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের নাসীহাত দিতে পারি।এরপর আমরা তাঁকে নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী হাফসাহ (রাঃ)-এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা উক্ত মশক হতে তাঁর উপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালতে লাগলাম যতক্ষণ না তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ পুরা করেছ। 'আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তারপর নবী (ﷺ) লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে জামা'আতে সালাত আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো অসুস্থতায় ইবাদত ও উম্মতের প্রতি দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর রোগ যখন প্রবল হয়, তখন তিনি স্ত্রীদের অনুমতি নিয়ে আয়িশা (রাঃ)-এর ঘরে সেবা নিতে চান। তাঁর স্ত্রীগণ অনুমতি দেন। এরপর তিনি এতটাই দুর্বল ছিলেন যে, আব্বাস (রাঃ) ও আরেকজন সাহাবীর সহায়তায় পা হিঁচড়ে চলছিলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) জানান, অন্য সাহাবী ছিলেন আলী (রাঃ)। পরে ব্যথা বেড়ে গেলে নবী (صلى الله عليه وسلم) সাত মশক পানি ঢালতে বলেন, যেন তিনি লোকদের নসীহত দিতে পারেন। পানি ঢালার পর তিনি ইশারায় থামতে বলেন। এরপর তিনি মানুষের কাছে যান, তাদের সঙ্গে জামা‘আতে সালাত আদায় করেন এবং খুতবা দেন। এই বর্ণনায় অসুস্থতা, পারিবারিক অনুমতি, সেবা, সালাত ও নসীহত—সবই সরাসরি উঠে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পারিবারিক অধিকার রক্ষায় অনুমতি নেওয়ার সুন্দর উদাহরণ পাওয়া যায়।
- অসুস্থতার মধ্যেও নবী صلى الله عليه وسلم উম্মতের নসীহতের কথা ভাবতেন।
- জামা‘আতে সালাত ও খুতবার গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট।
- প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নেওয়া লজ্জার বিষয় নয়।
