৬৫/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৮০ - আবদুল্লাহ ইবনু সালামের তিন প্রশ্ন ও ঈমানের সাক্ষ্য
আল্লাহর বাণীঃ
আবদুল্লাহ ইবনু সালামের তিন প্রশ্ন: কেয়ামতের আলামত ও সত্য গ্রহণের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৪৮০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৮০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُنِيْرٍ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ بَكْرٍ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ سَمِعَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ بِقُدُوْمِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَهْوَ فِيْ أَرْضٍ يَخْتَرِفُ فَأَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ إِنِّيْ سَائِلُكَ عَنْ ثَلَاثٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا نَبِيٌّ فَمَا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ وَمَا أَوَّلُ طَعَامِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَا يَنْزِعُ الْوَلَدُ إِلَى أَبِيْهِ أَوْ إِلَى أُمِّهِ قَالَ أَخْبَرَنِيْ بِهِنَّ جِبْرِيْلُ آنِفًا قَالَ جِبْرِيْلُ قَالَ نَعَمْ قَالَ ذَاكَ عَدُوُّ الْيَهُوْدِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ فَقَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ ﴾مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيْلَ فَإِنَّه” نَزَّلَه” عَلٰى قَلْبِكَ﴿ بِإِذْنِ اللهِ أَمَّا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ فَنَارٌ تَحْشُرُ النَّاسَ مِنَ الْمَشْرِقِ إِلَى الْمَغْرِبِ وَأَمَّا أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَزِيَادَةُ كَبِدِ حُوْتٍ وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ نَزَعَ الْوَلَدَ وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الْمَرْأَةِ نَزَعَتْ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُوْلُ اللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ الْيَهُوْدَ قَوْمٌ بُهُتٌ وَإِنَّهُمْ إِنْ يَعْلَمُوْا بِإِسْلَامِيْ قَبْلَ أَنْ تَسْأَلَهُمْ يَبْهَتُوْنِيْفَجَاءَتْ الْيَهُوْدُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَيُّ رَجُلٍ عَبْدُ اللهِ فِيْكُمْ قَالُوْا خَيْرُنَا وَابْنُ خَيْرِنَا وَسَيِّدُنَا وَابْنُ سَيِّدِنَا قَالَ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَسْلَمَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ فَقَالُوْا أَعَاذَهُ اللهُ مِنْ ذَلِكَ فَخَرَجَ عَبْدُ اللهِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ فَقَالُوْا شَرُّنَا وَابْنُ شَرِّنَا وَانْتَقَصُوْهُ قَالَ فَهَذَا الَّذِيْ كُنْتُ أَخَافُ يَا رَسُوْلَ اللهِ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শুভাগমনের খবর পেলেন। তখন তিনি (‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম) বাগানে ফল সংগ্রহ করছিলেন। তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব যা নবী (ﷺ) ব্যতীত অন্য কেউ জানেন না। তা হল কিয়ামতের প্রথম আলামাত কী? জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কী হবে? এবং সন্তান কখন পিতার মত হয় আর কখন মাতার মত হয়? নবী (ﷺ) বললেন, আমাকে জিব্রীল (আঃ) এখনই এসব ব্যাপারে জানিয়ে গেলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, জিবরীল? নবী (ﷺ) বলল, হ্যাঁ। ইবনু সালাম বললেন, সে তো মালায়িকাদের মধ্যে ইয়াহূদীদের শত্রু।তখন নবী (ﷺ) এই আয়াত পাঠ করলেন, আপনি বলে দিন ঃ যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু এ কারণে যে, সে আল্লাহ্র নির্দেশে আপনার অন্তরে কোরআন অবতীর্ণ করেছে (সূরা আল-বাকারাহ ২/৯৭)।কিয়ামতের প্রথম আলামাত হল, এক রকম আগুন মানুষদেরকে পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত একত্রিত করবে। আর জান্নাতীরা প্রথমে যা খাবেন তা হল মাছের কলিজার টুকরা। আর যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান পিতার আকৃতি পায় এবং যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান মাতার আকৃতি পায়।তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহ্র রাসূল। হে আল্লাহ্র রাসূল! ইয়াহূদরা চরম মিথ্যারোপকারী। যদি তারা আপনার প্রশ্ন করার পূর্বেই আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জেনে যায় তবে তারা আমার প্রতি অপবাদ আরোপ করবে।ইতোমধ্যে ইয়াহূদীরা এসে গেল। তখন নবী (ﷺ) ইয়াহূদীদের জিজ্ঞেস করলেন, আবদুল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেমন লোক? তারা উত্তর দিল, তিনি আমাদের মধ্যে উত্তম এবং আমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র। তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার ছেলে। নবী (ﷺ) বললেন, যদি ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম ইসলাম গ্রহণ করেন, তাহলে তোমাদের অভিমত কী? তারা বলল, আল্লাহ তাঁকে এর থেকে রক্ষা করুন।তখন [‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)] বের হয়ে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) অবশ্যই আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল। তখন তারা বলল, সে আমাদের মধ্যে মন্দ ব্যক্তি ও মন্দ ব্যক্তির ছেলে। তারপর তারা ইবনু সালাম (রাঃ)-কে দোষী সাব্যস্ত করে সমালোচনা করতে লাগল। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! এটাই আমি আশঙ্কা করছিলাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)-এর সত্য খোঁজার মনোভাব খুব সুন্দরভাবে দেখা যায়। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এমন তিনটি প্রশ্ন করেন, যা তাঁর মতে একজন নবী ছাড়া কেউ জানেন না। প্রশ্নগুলো ছিল কেয়ামতের প্রথম আলামত, জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য এবং সন্তান কখন পিতা বা মাতার আকৃতি পায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, জিবরীল (আঃ) তাঁকে সদ্য এসব বিষয়ে জানিয়েছেন। এরপর তিনি উত্তর দেন: এক আগুন মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে একত্র করবে, জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য হবে মাছের কলিজার টুকরা, আর সন্তানের আকৃতির বিষয়ে পুরুষ ও নারীর বীর্যের অগ্রগামিতার কথা বলা হয়। এই বর্ণনার শেষে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ঈমানের সাক্ষ্য দেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর কিছু লোক তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলবে। পরে ঠিক তাই ঘটে। তাই হাদিসটি সত্য গ্রহণ, নবুওয়াতের সত্যতা এবং মানুষের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সম্পর্কে গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্য জানার জন্য আন্তরিক প্রশ্ন করা প্রশংসনীয় কাজ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জবাব ওহীর ভিত্তিতে ছিল, ব্যক্তিগত অনুমান নয়।
- সত্য গ্রহণের পর মানুষের বিরূপ কথায় বিচলিত না হয়ে স্থির থাকা দরকার।
- কাউকে বিচার করার ক্ষেত্রে পক্ষপাত ও অপবাদ থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
