৬৫/১৪২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৪০ - আবু বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা ও ক্ষমার শিক্ষা
আল্লাহর বাণীঃ বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি সেই আল্লাহর রাসূল, যিনি সমগ্র আসমান ও যমীনের মালিক, যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা‘বুদ নেই, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর নিরক্ষর নবীর প্রতি এবং তাঁর বাণীতে। তোমরা তাঁর অনুসরণ কর যাতে হিদায়াত প্রাপ্ত হও। (সূরা আল-আরাফ ৭/১৫৮)
আবু বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা: ক্ষমা, বিনয় ও সাহাবীদের আদব
সহীহ বুখারী : ৪৬৪০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৪০
عَبْدُ اللهِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمُوْسَى بْنُ هَارُوْنَ قَالَا حَدَّثَنَا الْوَلِيْدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ زَبْرٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ إِدْرِيْسَ الْخَوْلَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُوْلُكَانَتْ بَيْنَ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ مُحَاوَرَةٌ فَأَغْضَبَ أَبُوْ بَكْرٍ عُمَرَ فَانْصَرَفَ عَنْهُ عُمَرُ مُغْضَبًا فَاتَّبَعَهُ أَبُوْ بَكْرٍ يَسْأَلُهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَهُ فَلَمْ يَفْعَلْ حَتَّى أَغْلَقَ بَابَهُ فِيْ وَجْهِهِ فَأَقْبَلَ أَبُوْ بَكْرٍ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَمَّا صَاحِبُكُمْ هَذَا فَقَدْ غَامَرَ قَالَ وَنَدِمَ عُمَرُ عَلَى مَا كَانَ مِنْهُ فَأَقْبَلَ حَتَّى سَلَّمَ وَجَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ وَقَصَّ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ الْخَبَرَ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَغَضِبَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَجَعَلَ أَبُوْ بَكْرٍ يَقُوْلُ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَأَنَا كُنْتُ أَظْلَمَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُوْنَ لِيْ صَاحِبِيْ هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُوْنَ لِيْ صَاحِبِيْ إِنِّيْ قُلْتُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّيْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِلَيْكُمْ جَمِيْعًا فَقُلْتُمْ كَذَبْتَ وَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ صَدَقْتَقَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ غَامَرَ سَبَقَ بِالْخَيْرِ
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আবূ বাক্র (রাঃ) ও ‘উমর (রাঃ)-এর মধ্যে বিতর্ক হল, আবূ বাক্র (রাঃ) ‘উমর (রাঃ)-কে রাগিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর রাগান্বিত অবস্থায় ‘উমর (রাঃ) সেখান থেকে চলে গেলেন, আবূ বাক্র (রাঃ) তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে তাঁর পিছু নিলেন কিন্তু ‘উমর (রাঃ) ক্ষমা করলেন না, বরং তাঁর সম্মুখের দরজা বন্ধ করে দিলেন।এরপর আবূ বাক্র (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে আসলেন। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, আমরা তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম, ঘটনা শোনার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমাদের এই সঙ্গী আবূ বাক্র আগে কল্যাণ লাভ করেছে। এতে ‘উমর লজ্জিত হলেন এবং সালাম করে নবী (ﷺ)-এর পাশে বসে পড়লেন ও সবকথা রাসূল (ﷺ)-এর কাছে বর্ণনা করলেন। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসন্তুষ্ট হলেন। আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) বারবার বলছিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমি অধিক দোষী ছিলাম।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আমার খাতিরে আমার সাথীর ত্রুটি উপেক্ষা করবে কি? তোমরা আমার খাতিরে আমার সঙ্গীর ত্রুটি উপেক্ষা করবে কি? এমন একদিন ছিল যখন আমি বলেছিলাম, “হে মানুষেরা! আমি তোমাদের সকলের জন্য রাসূল, তখন তোমরা বলেছিলে, “তুমি মিথ্যা বলেছ” আর আবূ বাক্র (রাঃ) বলেছিল, “আপনি সত্য বলেছেন”।
ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, غَامَرَ আগে কল্যাণ লাভ করেছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর একটি ঘটনার মাধ্যমে সাহাবীদের আদব, ক্ষমা চাওয়া এবং আবু বকর (রাঃ)-এর বিশেষ মর্যাদা বোঝা যায়। বিতর্কে আবু বকর (রাঃ) উমর (রাঃ)-কে রাগিয়ে দেন। কিন্তু তিনি নিজেকে সঠিক প্রমাণে ব্যস্ত না হয়ে ক্ষমা চাইতে তাঁর পিছু নেন। উমর (রাঃ) তখন ক্ষমা না করলেও পরে লজ্জিত হন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ঘটনা বলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবু বকর (রাঃ)-এর পক্ষে কথা বলেন, কারণ শুরু থেকেই তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে সত্য বলে মেনেছিলেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া বড় গুণ, আর আল্লাহর রাসূলের প্রিয় সাহাবীদের সম্মান করা ঈমানি আদবের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভুল হলে দেরি না করে ক্ষমা চাওয়া ভালো চরিত্রের লক্ষণ।
- আবু বকর (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সত্যতার প্রথম দিকের দৃঢ় সমর্থক ছিলেন।
- রাগের পর অনুতপ্ত হওয়া এবং বিষয়টি ঠিক করার চেষ্টা করা প্রশংসনীয়।
- সাহাবীদের মর্যাদা নিয়ে কথা বলার সময় সম্মান ও সতর্কতা রাখা দরকার।
