৬৫/১৪৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৪২ - ক্ষমা অবলম্বন ও কুরআনের সামনে থেমে যাওয়া
আল্লাহর বাণীঃ তুমি ক্ষমা করার অভ্যাস কর, ভালো কাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞ-মূর্খদের থেকে দূরে সরে থাক। (সূরা আল-আরাফ ৭/১৯৯)
ক্ষমা অবলম্বন: কুরআনের নির্দেশে রাগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৬৪২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৪২
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَقَدِمَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنِ بْنِ حُذَيْفَةَ فَنَزَلَ عَلَى ابْنِ أَخِيْهِ الْحُرِّ بْنِ قَيْسٍ وَكَانَ مِنْ النَّفَرِ الَّذِيْنَ يُدْنِيْهِمْ عُمَرُ وَكَانَ الْقُرَّاءُ أَصْحَابَ مَجَالِسِ عُمَرَ وَمُشَاوَرَتِهِ كُهُوْلًا كَانُوْا أَوْ شُبَّانًا فَقَالَ عُيَيْنَةُ لِابْنِ أَخِيْهِ يَا ابْنَ أَخِيْ هَلْ لَكَ وَجْهٌ عِنْدَ هَذَا الْأَمِيْرِ فَاسْتَأْذِنْ لِيْ عَلَيْهِ قَالَ سَأَسْتَأْذِنُ لَكَ عَلَيْهِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَاسْتَأْذَنَ الْحُرُّ لِعُيَيْنَةَ فَأَذِنَ لَهُ عُمَرُ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ هِيْ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ فَوَاللهِ مَا تُعْطِيْنَا الْجَزْلَ وَلَا تَحْكُمُ بَيْنَنَا بِالْعَدْلِ فَغَضِبَ عُمَرُ حَتَّى هَمَّ أَنْ يُوْقِعَ بِهِ فَقَالَ لَهُ الْحُرُّ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ لِنَبِيِّهِ ﷺ ﴾خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِيْنَ﴿وَإِنَّ هَذَا مِنَ الْجَاهِلِيْنَ وَاللهِ مَا جَاوَزَهَا عُمَرُ حِيْنَ تَلَاهَا عَلَيْهِ وَكَانَ وَقَّافًا عِنْدَ كِتَابِ اللهِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“উয়াইনাহ ইবনু হিস্ন ইবনু হুযাইফাহ এসে তাঁর ভাতিজা হুর ইবনু কাইসের কাছে অবস্থান করলেন। ‘উমর (রাঃ) যাদেরকে পার্শ্বে রাখতেন হুর ছিলেন তাদের একজন। কারীগণ, যুবক-বৃদ্ধ সকলেই ‘উমর ফারূক (রাঃ)-এর মজলিসের সদস্য এবং উপদেষ্টা ছিলেন। এরপর ‘উয়াইনাহ তাঁর ভাতিজাকে ডেকে বললেন, এই আমীরের কাছে তো তোমার একটা মর্যাদা আছে, সুতরাং তুমি আমার জন্য তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে দাও। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি তাঁর কাছে আপনার প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করব।ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরপর হুর অনুমতি প্রার্থনা করলেন উয়াইনাহ্র জন্যে এবং ‘উমর (রাঃ) অনুমতি দিলেন। উয়াইনাহ ‘উমরের কাছে গিয়ে বললেন, হ্যাঁ আপনি তো আমাদেরকে অধিক অধিক দানও করেন না এবং আমাদের মাঝে সুবিচারও করেন না। ‘উমর (রাঃ) রাগান্বিত হলেন এবং তাঁকে কিছু একটা করতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেন, হে আমিরুল মু’মিনীন! আল্লাহ তা‘আলা তো তাঁর নবী (ﷺ)-কে বলেছেন, “ক্ষমা অবলম্বন কর, সৎকাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদেরকে উপেক্ষা কর” আর এই ব্যক্তি তো অবশ্যই মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্র কসম ‘উমর (রাঃ) আয়াতের নির্দেশ অমান্য করেননি। ‘উমর আল্লাহ্র কিতাবের বিধানের সামনে চুপ হয়ে যেতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ)-এর মজলিস, তাঁর উপদেষ্টা এবং কুরআনের সামনে তাঁর অবস্থান দেখা যায়। উয়াইনাহ কঠিন ভাষায় কথা বলেছিলেন এবং উমর (রাঃ) রাগান্বিত হন। তখন হুর ইবন কাইস তাঁকে আল্লাহর বাণী স্মরণ করিয়ে দেন: ক্ষমা অবলম্বন কর, সৎকাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদের উপেক্ষা কর। আয়াত শুনে উমর (রাঃ) আর এগিয়ে যাননি। হাদিসটি রাগ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমাশীলতা এবং কুরআনের নির্দেশ মানার বাস্তব উদাহরণ। এখানে মূল কথা হলো, কারো কঠোর কথা শুনেও যদি কুরআনের নির্দেশ মনে পড়ে, তাহলে একজন মুমিন নিজের রাগকে থামাতে চেষ্টা করে। ক্ষমা অবলম্বন দুর্বলতা নয়; এটি আল্লাহর কথার সামনে নিজেকে নরম করার শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের নির্দেশ শুনলে নিজের রাগ থামানো মুমিনের সুন্দর গুণ।
- অশোভন কথার জবাবে সব সময় কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া জরুরি নয়।
- ক্ষমা, সৎকাজের নির্দেশ এবং মূর্খদের উপেক্ষা করা এই আয়াতের মূল শিক্ষা।
- উমর (রাঃ) আল্লাহর কিতাবের বিধানের সামনে থেমে যেতেন।
