৮/৮০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৬ - আবু বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা
বাইতুল্লায় ও অন্যান্য মসজিদে দরজা রাখা ও তালা লাগানো।
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ قَالَ لِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ يَا عَبْدَ الْمَلِكِ لَوْ رَأَيْتَ مَسَاجِدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبْوَابَهَا.আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন: আমাকে ‘আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেছেন যে, আমাকে সুফইয়ান (রহঃ) ইবন জুরায়জ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে ইবন আবী মুলাইকা (রহঃ) বলেছেন, “হে ‘আবদুল মালিক! তুমি ইবন ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মসজিদ ও তার দরজাগুলো যদি দেখতে”।"
আবু বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ব
সহীহ বুখারী : ৪৬৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ خَيَّرَ عَبْدًا بَيْنَ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، فَاخْتَارَ مَا عِنْدَ اللَّهِ ". فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي مَا يُبْكِي هَذَا الشَّيْخَ إِنْ يَكُنِ اللَّهُ خَيَّرَ عَبْدًا بَيْنَ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ فَاخْتَارَ مَا عِنْدَ اللَّهِ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ الْعَبْدَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ أَعْلَمَنَا. قَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ لاَ تَبْكِ، إِنَّ أَمَنَّ النَّاسِ عَلَىَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً مِنْ أُمَّتِي لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ، وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الإِسْلاَمِ وَمَوَدَّتُهُ، لاَ يَبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ باب إِلاَّ سُدَّ إِلاَّ باب أَبِي بَكْرٍ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এক ভাষণে বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে- এ দুয়ের মধ্যে একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিলেন। তিনি আল্লাহর নিকট যা আছে– তা গ্রহণ করলেন। তখন আবু বক্র (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এই বৃদ্ধকে কোন বস্তুটি কাঁদাচ্ছে? আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা রয়েছে-এ দুয়ের একটা গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিলে তিনি আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা গ্রহণ করেছেন (এতে কাঁদার কি আছে?)। মূলত আল্লাহর রাসূল (ﷺ)–ই ছিলেন সেই বান্দা। আর আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন আমাদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী।নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবূ বক্র, তুমি কাঁদবে না। নিজের সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে আমাকে যিনি সবচেয়ে অধিক ইহসান করেছেন তিনি আবূ বক্র। আমার কোন উম্মাতকে যদি আমি খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তিনি হতেন আবূ বক্র। কিন্তু তাঁর সাথে রয়েছে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য। আবূ বক্রের দরজা ব্যতীত মসজিদের কোন দরজাই রাখা হবে না, সবই বন্ধ করা হবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কোর টপিক হলো আবু বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা। নবী (صلى الله عليه وسلم) এক ভাষণে বললেন, আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া এবং আল্লাহর নিকট যা আছে—এর মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। সেই বান্দা আল্লাহর নিকট যা আছে তা বেছে নিয়েছেন। আবু বকর (রাঃ) এটি শুনে কাঁদতে লাগলেন। পরে বোঝা গেল, সেই বান্দা ছিলেন আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم)। নবী (صلى الله عليه وسلم) আবু বকর (রাঃ)-কে সান্ত্বনা দিয়ে তাঁর সাহচর্য ও সম্পদের ইহসানের কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, উম্মতের কাউকে খলীল বানালে আবু বকরকে বানাতেন, তবে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য রয়েছে। মসজিদের দরজাগুলোর মধ্যে আবু বকরের দরজা খোলা রাখার নির্দেশও এখানে এসেছে। তাই এই বর্ণনা আবু বকর (রাঃ)-এর গভীর সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আবু বকর (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার গভীর অর্থ বুঝেছিলেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর সাহচর্য ও সম্পদের ইহসানের কথা প্রকাশ করেছেন।
- ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার মর্যাদা এই হাদিসে স্পষ্ট।
- আবু বকর (রাঃ)-এর দরজা খোলা রাখার নির্দেশ তাঁর বিশেষ মর্যাদা দেখায়।
