৬৫/২২০. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৩৩ - খাব্বাবের দৃঢ় ঈমান

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

খাব্বাবের পাওনা ও ঈমান: দুনিয়ার চেয়ে সত্য বড়

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৩৩

مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ خَبَّابٍ قَالَ كُنْتُ قَيْنًا بِمَكَّةَ فَعَمِلْتُ لِلْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ السَّهْمِيِّ سَيْفًا فَجِئْتُ أَتَقَاضَاهُ فَقَالَ لَا أُعْطِيْكَ حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ قُلْتُ لَا أَكْفُرُ بِمُحَمَّدٍ ﷺ حَتَّى يُمِيْتَكَ اللهُ ثُمَّ يُحْيِيَكَ قَالَ إِذَا أَمَاتَنِي اللهُ ثُمَّ بَعَثَنِيْ وَلِيْ مَالٌ وَوَلَدٌ فَأَنْزَلَ اللهُ ﴾أَفَرَأَيْتَ الَّذِيْ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَأُوْتَيَنَّ مَالًا وَّوَلَدًاأَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًا﴿ قَالَ مَوْثِقًا لَمْ يَقُلْ الْأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ سَيْفًا وَلَا مَوْثِقًا

খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি মাক্কাহ্য় অবস্থানকালে কর্মকারের কাজ করতাম। এ সময় আস্ ইব্‌নু ওয়ায়েলকে একখানা তলোয়ার বানিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর একদিন আমার সেই পাওনা আদায়ের জন্য তার নিকট আসলাম। সে বলল, মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করা পর্যন্ত তোমার পাওনা দেব না। আমি বললাম, মুহাম্মাদকে অস্বীকার করব না। এমনকি আল্লাহ্ তোমাকে মৃত্যু দিবার পর তোমাকে আবার জীবিত করা পর্যন্ত।সে বলল, আল্লাহ্ যখন আমাকে মৃত্যুর পরে আবার জীবিত করবেন, তখন আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও থাকবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন ঃ ‘তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই। সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে? বর্ণনাকারী বলেন, عهد এর অর্থ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।আশ্জায়ী (রহঃ) সুফ্ইয়ান থেকে বর্ণনার মধ্যে سَيْفًا (তরবারি) শব্দ এবং مَوْثِقًا (প্রতিশ্রুতি) শব্দ উল্লেখ করেননি।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৩৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খাব্বাব (রাঃ) নিজের ঘটনা বলেছেন। তিনি মক্কায় কর্মকার ছিলেন এবং আস ইবনু ওয়াইলের জন্য একটি তলোয়ার বানিয়েছিলেন। পাওনা চাইতে গেলে আস শর্ত দেয়, মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-কে অস্বীকার না করলে সে পাওনা দেবে না। খাব্বাব (রাঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-কে অস্বীকার করব না, এমনকি আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিয়ে আবার জীবিত করা পর্যন্তও না। আস তখন দাবি করে, পুনরুত্থানের পর তার ধন-সম্পদ ও সন্তান থাকবে। এ কথার জবাবে আয়াত নাজিল হয়, সে কি গায়েব জানে, নাকি রহমানের কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নিয়েছে? হাদিসটি শেখায়, ঈমানের প্রশ্নে দুনিয়ার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায় না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হালাল পাওনা আদায়ের চেষ্টায়ও ঈমানের সীমা অটুট রাখতে হয়।
  • কাফিরের গায়েব সম্পর্কে অহংকারী দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
  • সাহাবীরা দুনিয়ার ক্ষতির মুখেও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে অস্বীকার করেননি।
  • আল্লাহর কাছে প্রতিশ্রুতি ছাড়া আখিরাত নিয়ে মনগড়া দাবি করা ভুল।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন