৬৫/২৩৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৫৩ - আয়িশা (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বিনয়
পরিচ্ছেদ নাই।
আয়িশা (রাঃ)-এর বিনয়: আসমান থেকে নির্দোষিতা নাজিল
সহীহ বুখারী : ৪৭৫৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৫৩
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيْدِ بْنِ أَبِيْ حُسَيْنٍ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَالَاسْتَأْذَنَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَبْلَ مَوْتِهَا عَلَى عَائِشَةَ وَهِيَ مَغْلُوْبَةٌ قَالَتْ أَخْشَى أَنْ يُثْنِيَ عَلَيَّ فَقِيْلَ ابْنُ عَمِّ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَمِنْ وُجُوْهِ الْمُسْلِمِيْنَ قَالَتْ ائْذَنُوْا لَهُ فَقَالَ كَيْفَ تَجِدِيْنَكِ قَالَتْ بِخَيْرٍ إِنْ اتَّقَيْتُ قَالَ فَأَنْتِ بِخَيْرٍ إِنْ شَاءَ اللهُ زَوْجَةُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَلَمْ يَنْكِحْ بِكْرًا غَيْرَكِ وَنَزَلَ عُذْرُكِ مِنْ السَّمَاءِ وَدَخَلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ خِلَافَهُ فَقَالَتْ دَخَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَأَثْنَى عَلَيَّ وَوَدِدْتُ أَنِّي﴾كُنْتُ نِسْيًا مَّنْسِيًّا﴿.
ইব্নু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ওফাতের পূর্বে তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। এ সময় তিনি [‘আয়িশাহ (রাঃ)] মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি ভয় করছি, তিনি আমার কাছে এসে আমার সুখ্যাতি করবেন। তখন তাঁর [‘আয়িশাহ (রাঃ)]-এর কাছে বলা হল, তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর চাচাতো ভাই এবং সম্মানিত মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন, তবে তাঁকে অনুমতি দাও। তিনি (এসে) জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কাছে আপনার অবস্থা কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আমি যদি নেক হই তবে ভালই আছি। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ চাহেত আপনি নেকই আছেন। আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সহধর্মিণী এবং তিনি আপনাকে ব্যতীত আর কোন কুমারীকে বিবাহ করেননি এবং আপনার নির্দোষিতা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।এরপর তাঁর পেছনে ইব্নু যুবায়র (রাঃ) প্রবেশ করলেন। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমার সুখ্যাতি করেছেন। কিন্তু আমি এ-ই পছন্দ করি যে, আমি যেন লোকের স্মৃতির পাতা থেকে পুরোপুরি মুছে যায়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর জীবনের শেষ সময়ের একটি কোমল দৃশ্য এসেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চান। আয়িশা (রাঃ) আশঙ্কা করেন, তিনি এসে তাঁর প্রশংসা করবেন। পরে অনুমতি দিলে ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁর মর্যাদার কথা বলেন—তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সহধর্মিণী, রাসূল صلى الله عليه وسلم তাঁর ছাড়া আর কোনো কুমারীকে বিবাহ করেননি এবং তাঁর নির্দোষিতা আসমান থেকে নাজিল হয়েছে। এত বড় সম্মানের কথা শুনেও আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি পছন্দ করতেন যদি মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যেতেন। এই হাদিস বিনয়, তাকওয়ার ভয় এবং নিজের আমল নিয়ে সতর্ক থাকার সুন্দর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উচ্চ মর্যাদার মানুষও নিজের ব্যাপারে আল্লাহভীত থাকতে পারেন।
- আয়িশা (রাঃ)-এর নির্দোষিতা আসমান থেকে নাজিল হয়েছে।
- প্রশংসা শুনে অহংকার না করা মুমিনের গুণ।
- নিজেকে নেক ভাবার চেয়ে তাকওয়ার চিন্তা বেশি নিরাপদ।
