৬৫/২৯৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৩৮ - নবীজির কোমল চরিত্র ও ক্ষমাশীলতা
আল্লাহর বাণী: আমি তো আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্য প্রদানকারী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। (সূরা আল-ফাতহ ৪৮/৮)
নবীজির চরিত্র: কোমলতা, ক্ষমা ও তাওহীদের দাওয়াত
সহীহ বুখারী : ৪৮৩৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৩৮
عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ أَبِيْ سَلَمَةَ عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِيْ هِلَالٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ الَّتِيْ فِي الْقُرْآنِ {يٰٓأَيُّهَا النَّبِيُّإِنَّآ أَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْرًا لا﴿ قَالَ فِي التَّوْرَاةِ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَحِرْزًا لِلْأُمِّيِّيْنَ أَنْتَ عَبْدِيْ وَرَسُوْلِيْ سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكِّلَ لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيْظٍ وَلَا سَخَّابٍ بِالأَسْوَاقِ وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَةَ بِالسَّيِّئَةِ وَلَكِنْ يَعْفُوْ وَيَصْفَحُ وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللهُ حَتَّى يُقِيْمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُوْلُوْا لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ فَيَفْتَحَ بِهَا أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوْبًا غُلْفًا
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোরআনের এ আয়াত, “আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে” তাওরাতে আল্লাহ্ এভাবে বলেছেন, হে নবী, আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও উম্মী লোকদের মুক্তি দাতারূপে। তুমি আমার বান্দা ও রাসূল। আমি তোমার নাম রেখেছি নির্ভরকারী যে রূঢ় ও কঠোরচিত্ত নয়, বাজারে শোরগোলকারী নয় এবং মন্দ মন্দ দ্বারা প্রতিহতকারীও নয়; বরং তিনি ক্ষমা করবেন এবং উপেক্ষা করবেন। বক্র জাতিকে সোজা না করা পর্যন্ত আল্লাহ্ তাঁর জান কবজ করবেন না। তা এভাবে যে, তারা বলবে, আল্লাহ্ ব্যতীত ইলাহ নেই। ফলে খুলে যাবে অন্ধ চোখ, বধির কান এবং পর্দায় ঢাকা অন্তরসমূহ।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিচয় ও চরিত্রের সুন্দর বর্ণনা এসেছে। কুরআনের আয়াতের আলোকে বলা হয়েছে, তাঁকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তাওরাতে তাঁর গুণ হিসেবে এসেছে: তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর নাম মুতাওয়াক্কিল; তিনি রূঢ় নন, কঠোর নন, বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে দেন না; বরং ক্ষমা করেন ও উপেক্ষা করেন। আরও এসেছে, মানুষ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার মাধ্যমে সোজা পথে আসবে এবং অন্ধ চোখ, বধির কান ও ঢাকা অন্তর খুলে যাবে। এই হাদিস নবীজির চরিত্র, ক্ষমাশীলতা এবং তাওহীদের দাওয়াতকে একসঙ্গে তুলে ধরে। আমাদের জন্য শিক্ষা হলো, দাওয়াতে কোমলতা, কথায় সংযম এবং মন্দের জবাবে উত্তম আচরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর চরিত্র ছিল কোমল ও ক্ষমাশীল।
- তিনি মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে দিতেন না।
- তাওহীদের দাওয়াত মানুষের চোখ, কান ও অন্তর খুলে দেয়।
- কথাবার্তা ও বাজারের আচরণেও সংযম দরকার।
