৬৫/৩৬৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯২৯ - ওহী শোনা, সংরক্ষণ ও ব্যাখ্যার শিক্ষা
আল্লাহর বাণী: সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। (সূরা আল-কিয়ামাহ ৭৫/১৮)
ওহী শোনার আদব: কুরআন সংরক্ষণ ও ব্যাখ্যার আল্লাহর দায়িত্ব
সহীহ বুখারী : ৪৯২৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯২৯
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ مُوْسَى بْنِ أَبِيْ عَائِشَةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيْ قَوْلِهِ ﴾لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰ﴿قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا نَزَلَ جِبْرِيْلُ بِالْوَحْيِ وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ بِهِ لِسَانَهُ وَشَفَتَيْهِ فَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ وَكَانَ يُعْرَفُ مِنْهُ فَأَنْزَلَ اللهُ الْآيَةَ الَّتِيْ فِيْ {لَآ أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيٰمَةِ لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰط- إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَه” وَقُرْاٰنَه} قَالَ عَلَيْنَا أَنْ نَجْمَعَهُ فِيْ صَدْرِكَ وَقُرْآنَهُ {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} فَإِذَا أَنْزَلْنَاهُ فَاسْتَمِعْ {) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَه”} عَلَيْنَا أَنْ نُبَيِّنَهُ بِلِسَانِكَ قَالَ فَكَانَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيْلُ أَطْرَقَ فَإِذَا ذَهَبَ قَرَأَهُ كَمَا وَعَدَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾أَوْلٰى لَكَ فَأَوْلٰى﴿ تَوَعُّدٌ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি আল্লাহ্র বাণী ঃ لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, জিবরীল (আঃ) যখন ওহী নিয়ে আসতেন তখন রাসূল তাঁর জিহ্বা ও ঠোঁট দু’টো দ্রুত নাড়তেন। এটা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হত এবং তাঁর চেহারা দেখেই বোঝা যেত। তাই আল্লাহ্ তা‘আলা ঃ “তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিহ্বা সঞ্চালন করবে না; এ কোরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই” অবতীর্ণ করলেন। এতে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন ঃ এ কোরআনকে আপনার বক্ষে সংরক্ষিত করা ও পড়িয়ে দেয়ার ভার আমার উপর। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর, অর্থাৎ আমি যখন ওহী অবতীর্ণ করি তখন তুমি মনোযোগ দিয়ে শুন। তারপর এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ তোমার মুখে তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমারই।রাবী বলেন, এরপর জিব্রীল (আঃ) চলে গেলে আল্লাহ্র ওয়াদা ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ মুতাবিক তিনি তা পাঠ করতেন। أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ! تَوَعُّدٌ এ আয়াতে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) ‘লা তুহাররিক বিহি লিসানাক’ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। জিবরাইল (আঃ) ওহী নিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জিহ্বা ও ঠোঁট দ্রুত নাড়তেন। এতে তাঁর কষ্ট হতো এবং চেহারায় তা বোঝা যেত। তখন আল্লাহ নাযিল করেন, তাড়াতাড়ি করার জন্য জিহ্বা নাড়বে না; কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আল্লাহর। আয়াতে আরও এসেছে, যখন ওহী নাযিল করা হবে, তখন মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তারপর এর ব্যাখ্যার দায়িত্বও আল্লাহর। বর্ণনায় বলা হয়েছে, এরপর জিবরাইল (আঃ) চলে গেলে নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী তা পাঠ করতেন। এই হাদিসে কুরআন শেখা, শোনা এবং আল্লাহর ওপর ভরসার সুন্দর শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওহী গ্রহণ নবী صلى الله عليه وسلم-এর জন্য ভারী ও কষ্টকর অভিজ্ঞতা ছিল।
- আল্লাহ কুরআন সংরক্ষণ, পাঠ ও ব্যাখ্যার দায়িত্ব নিজের বলে জানান।
- ওহী নাযিলের সময় মনোযোগ দিয়ে শোনার নির্দেশ এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم পরে আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী কুরআন পাঠ করতেন।
