৬৫/৩৬৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৩২ - কাল কাসর আয়াতের সহজ তাফসীর
আল্লাহর বাণী: যা অট্টালিকা সদৃশ বড় বড় স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে। (সূরা আল-মুরসালাত ৭৭/৩২)
কাল কাসর আয়াতের তাফসীর: ইবন আব্বাস রা.-এর ব্যাখ্যা
সহীহ বুখারী : ৪৯৩২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯৩২
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَابِسٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ {إِنَّهَا تَرْمِيْ بِشَرَرٍ كَالْقَصَرِ} قَالَ كُنَّا نَرْفَعُ الْخَشَبَ بِقَصَرٍ ثَلَاثَةَ أَذْرُعِ أَوْ أَقَلَّ فَنَرْفَعُهُ لِلشِّتَاءِ فَنُسَمِّيْهِ الْقَصَرَ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ঐ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমরা তিন গজ বা এর চেয়ে ছোট কাঠের খণ্ড জোগাড় করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রাখতাম। এটাকেই আমরা বলতাম الْقَصَرَ।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা মুরসালাতের একটি আয়াতের শব্দ ব্যাখ্যা এসেছে। আয়াতে বলা হয়েছে, আগুন এমন স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে, যা ‘কাল কাসর’-এর মতো। ইবন আব্বাস (রাঃ) এ শব্দ বুঝাতে দৈনন্দিন জীবনের একটি উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, তারা তিন গজ বা এর চেয়ে ছোট কাঠের খণ্ড জোগাড় করে শীতের জন্য তুলে রাখতেন, আর এটাকেই তারা ‘আল-কাসর’ বলতেন। তাই এখানে তাফসীরের শিক্ষা হলো, কুরআনের শব্দ বুঝতে কখনও আরবদের পরিচিত ভাষা ও ব্যবহার জানা দরকার হয়। হাদিসটি কোনো দীর্ঘ বিধান দিচ্ছে না; বরং একটি শব্দের অর্থ সহজভাবে বোঝাচ্ছে। এতে দেখা যায়, সাহাবীরা কুরআনের শব্দ ব্যাখ্যায় বাস্তব উদাহরণ ব্যবহার করতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের শব্দ বোঝাতে সাহাবীরা পরিচিত ভাষার উদাহরণ দিতেন।
- ‘আল-কাসর’ শব্দের ব্যাখ্যায় কাঠের খণ্ডের উদাহরণ এসেছে।
- তাফসীরের ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার জানা সহায়ক হতে পারে।
- হাদিসটি আয়াতের একটি নির্দিষ্ট শব্দের অর্থ বুঝিয়েছে।
