৬৫/৩৬৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৩৩ - মুরসালাতের শব্দ ব্যাখ্যা ও জাহাজের রশি
আল্লাহর বাণী: যেন তা পীত বর্ণের বড় বড় উট। (সূরা আল-মুরসালাত ৭৭/৩৩)
সূরা মুরসালাতের তাফসীর: কাল কাসর ও জিমালাতুন সুফর
সহীহ বুখারী : ৪৯৩৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯৩৩
عَمْرُوْ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَابِسٍ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ﴾تَرْمِيْ بِشَرَرٍ كَالْقَصَرِ﴿ قَالَ كُنَّا نَعْمِدُ إِلَى الْخَشَبَةِ ثَلَاثَةَ أَذْرُعٍ أَوْ فَوْقَ ذَلِكَ فَنَرْفَعُهُ لِلشِّتَاءِ فَنُسَمِّيْهِ الْقَصَرَ كَأَنَّهُ جِمَالَاتٌ صُفْرٌ حِبَالُ السُّفُنِ تُجْمَعُ حَتَّى تَكُوْنَ كَأَوْسَاطِ الرِّجَالِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি এ আয়াত সম্পর্কে ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমরা তিন গজ বা তার চেয়ে অধিক লম্বা কাষ্ঠ জড়ো করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রাখতাম। এটাকেই আমরা বলতাম الْقَصَرَ। جِمَالاَتٌ صُفْرٌ জাহাজের রশি, যা জমা করে রাখা হত। এমনকি তা মাঝারি গড়নের মানুষের সমান উঁচু হয়ে যেত।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা মুরসালাতের দুটি শব্দের ব্যাখ্যা এসেছে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা তিন গজ বা তার চেয়ে বড় কাঠ শীতের জন্য জমা করে রাখতেন এবং সেটাকে ‘আল-কাসর’ বলতেন। এরপর ‘জিমালাতুন সুফর’ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তা জাহাজের রশি, যা জমা করে রাখা হতো। জমা হতে হতে তা মাঝারি গড়নের মানুষের মতো উঁচু হয়ে যেত। এখানে মূল বিষয় হলো, কুরআনের কিছু শব্দ বুঝতে সে সময়ের ভাষা ও ব্যবহার জানা দরকার। ইবন আব্বাস (রাঃ) কঠিন শব্দকে সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন। তাই এই হাদিস তাফসীর শেখার ক্ষেত্রে শব্দের অর্থ, ব্যবহার এবং বাস্তব উদাহরণের গুরুত্ব দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের শব্দ ব্যাখ্যায় বাস্তব জীবনের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
- ‘আল-কাসর’ কাঠের স্তূপের অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
- ‘জিমালাতুন সুফর’ জাহাজের জমা রশির সঙ্গে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- তাফসীর বুঝতে সাহাবীদের ভাষা-ব্যবহার জানা সহায়ক।
