৬৬/২৮. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৪৩ - তাড়াহুড়া ছাড়া কুরআন পাঠ

সুস্পষ্ট ও ধীরে কুরআন তিলাওয়াত করা।

وَقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا﴿ وَقَوْلِهِ ﴾وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ﴿ وَمَا يُكْرَهُ أَنْ يَهُذَّ كَهَذِّ الشِّعْرِ فِيهَا يُفَرَّقُ يُفَصَّلُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ﴾فَرَقْنَاهُ﴿ فَصَّلْنَاهُ.এ সম্পর্কে আল্লাহর বাণী: কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি তা মানুষের নিকট পাঠ করতে পার ক্রমে ক্রমে। কবিতা পাঠের মতো দ্রুতগতিতে কুরআন পাঠ করা অপছন্দনীয়। আল্লাহর বাণী فِيهَا يُفَرَّقُ ‘তাতে পৃথক করা হয়’ এর অর্থ স্পষ্ট করা হয়। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণী فَرَقْنَاهُ ‘আমরা পৃথক করেছি’ এর অর্থ আমরা স্পষ্ট করেছি।"

ধীর কুরআন তিলাওয়াত: কবিতার মতো তাড়াহুড়া করে পড়া নয়

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০৪৩

أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُوْنٍ حَدَّثَنَا وَاصِلٌ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ غَدَوْنَا عَلَى عَبْدِ اللهِ فَقَالَ رَجُلٌ قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ الْبَارِحَةَ فَقَالَ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ إِنَّا قَدْ سَمِعْنَا الْقِرَاءَةَ وَإِنِّيْ لَأَحْفَظُ الْقُرَنَاءَ الَّتِيْ كَانَ يَقْرَأُ بِهِنَّ النَّبِيُّ ﷺ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ سُوْرَةً مِنَ الْمُفَصَّلِ وَسُوْرَتَيْنِ مِنْ آلِ حم

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) বলেন, আমরা একদিন সকালে ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ)- এর কাছে গেলাম। একজন লোক বলল, গতকাল রাতে আমি মুফাস্‌সাল সূরাসমূহ পাঠ করেছি। এ কথা শুনে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, এত শীঘ্র পাঠ করা যেন কবিতা পাঠের মতো; অথচ আমরা নবী (ﷺ)- এর পাঠ শুনেছি এবং তা আমার ভালভাবে মনে আছে। নবী (ﷺ) থেকে যে সমস্ত সূরা পাঠ করতে আমি শুনেছি, তার সংখ্যা মুফাস্‌সাল হতে আঠারটি এবং ‘হা-মীম’ হতে দু’টি।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৪৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে একজন ব্যক্তি বলেন, তিনি আগের রাতে মুফাসসাল সূরাগুলো পাঠ করেছেন। আবদুল্লাহ (রাঃ) এতে সতর্ক করে বলেন, এত দ্রুত পড়া যেন কবিতা পাঠের মতো। তিনি জানান, তারা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কিরাআত শুনেছেন এবং তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পাঠ করা কিছু সূরা ভালোভাবে মনে রেখেছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কুরআন তিলাওয়াত শুধু দ্রুত শেষ করার বিষয় নয়। পাঠের ভেতরে মনোযোগ, ধীরতা এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পাঠের আদব মনে রাখা দরকার। হাদিসে দ্রুত পড়াকে পুরোপুরি নিষেধ করার ভাষা নেই, তবে কবিতার মতো তাড়াহুড়া করে পড়ার ব্যাপারে সতর্কতা আছে। তাই কুরআন খতম বা বেশি পাঠের আগ্রহ থাকলেও শব্দের মর্যাদা ও অর্থের প্রতি সম্মান থাকা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআন খুব দ্রুত কবিতার মতো পড়ে শেষ করার মানসিকতা ঠিক নয়।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কিরাআতের ধরন শেখা ও মনে রাখা মূল্যবান।
  • বেশি পড়ার সঙ্গে পাঠের আদব ও মনোযোগ রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন