৬৬/২৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৪৪ - ওহী শুনে মনোযোগের শিক্ষা
সুস্পষ্ট ও ধীরে কুরআন তিলাওয়াত করা।
وَقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا﴿ وَقَوْلِهِ ﴾وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ﴿ وَمَا يُكْرَهُ أَنْ يَهُذَّ كَهَذِّ الشِّعْرِ فِيهَا يُفَرَّقُ يُفَصَّلُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ﴾فَرَقْنَاهُ﴿ فَصَّلْنَاهُ.এ সম্পর্কে আল্লাহর বাণী: কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি তা মানুষের নিকট পাঠ করতে পার ক্রমে ক্রমে। কবিতা পাঠের মতো দ্রুতগতিতে কুরআন পাঠ করা অপছন্দনীয়। আল্লাহর বাণী فِيهَا يُفَرَّقُ ‘তাতে পৃথক করা হয়’ এর অর্থ স্পষ্ট করা হয়। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণী فَرَقْنَاهُ ‘আমরা পৃথক করেছি’ এর অর্থ আমরা স্পষ্ট করেছি।"
ওহী গ্রহণের আদব: তাড়াহুড়া নয়, মনোযোগ দিয়ে শোনা
সহীহ বুখারী : ৫০৪৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০৪৪
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ مُوْسَى بْنِ أَبِيْ عَائِشَةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيْ قَوْلِهِ {لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰ} قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا نَزَلَ جِبْرِيْلُ بِالْوَحْيِ وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ بِهِ لِسَانَهُ وَشَفَتَيْهِ فَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ وَكَانَ يُعْرَفُ مِنْهُ فَأَنْزَلَ اللهُ الْآيَةَ الَّتِيْ فِيْ {لَآ أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ}{لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰإِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ فَإِنَّ عَلَيْنَا أَنْ نَجْمَعَهُ فِيْ صَدْرِكَ وَقُرْآنَهُ فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ فَإِذَا أَنْزَلْنَاهُ فَاسْتَمِعْ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} قَالَ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ نُبَيِّنَهُ بِلِسَانِكَ قَالَ وَكَانَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيْلُ أَطْرَقَ فَإِذَا ذَهَبَ قَرَأَهُ كَمَا وَعَدَهُ اللهُ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র বাণীঃ “হে নবী! আপনার জিহ্বাকে তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য নাড়াবেন না।” আল্লাহ্র এই কালাম সম্পর্কে তিনি বলেন, যখনই জিব্রীল (আঃ) ওহী নিয়ে নবী (ﷺ)- এর নিকট আসতেন, তখন নবী (ﷺ) খুব তাড়াতাড়ি জিহ্বা এবং ঠোঁট নাড়াতেন এবং এটা তাঁর জন্য খুব কঠিন হত। আর এ অবস্থা সহজেই অন্যজনে আঁচ করতে পারত।এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে আল্লাহ্ তা’আলা সূরা ক্বিয়ামাহ এর এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “হে নবী! তাড়াতাড়ি ওহী মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়াবেন না। এ মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। যখন আমি তা পাঠ করতে থাকি, তখন আপনি সে পাঠকে মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকুন। পরে এর অর্থ বুঝিয়ে দেয়াও আমার দায়িত্ব।” সুতরাং যখন জিব্রীল (আঃ) পাঠ করেন আপনি তাঁর অনুসরণ করুন। এরপর থেকে জিবরীল (আঃ) বলে যেতেন তখন নবী (ﷺ) চুপ থাকতেন। যখন তিনি চলে যেতেন, আল্লাহ্র ওয়াদা অনুযায়ী তিনি তা পাঠ করতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) ব্যাখ্যা করেন, যখন জিবরীল (আঃ) ওহী নিয়ে আসতেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) দ্রুত মুখস্থ করার জন্য জিহ্বা ও ঠোঁট নড়াতেন। এতে তাঁর কষ্ট হতো এবং তা অন্যরাও বুঝতে পারত। তখন আল্লাহ সূরা কিয়ামার আয়াত নাজিল করেন, যেখানে বলা হয় তাড়াহুড়া করে জিহ্বা নাড়াতে হবে না; জমা করিয়ে দেওয়া, পাঠ করানো এবং বুঝিয়ে দেওয়া আল্লাহর দায়িত্ব। এরপর জিবরীল (আঃ) পাঠ করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) চুপ থাকতেন এবং তিনি চলে গেলে আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী তা পাঠ করতেন। এই হাদিসে কুরআন শেখার বড় শিক্ষা আছে: তিলাওয়াত, মুখস্থ ও বুঝার ক্ষেত্রে মনোযোগ দরকার। তাড়াহুড়া কমিয়ে সঠিকভাবে শোনা শেখার অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওহী শোনার সময় নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে মনোযোগ দিয়ে শুনতে শেখানো হয়েছে।
- কুরআন মুখস্থ ও বুঝার ব্যাপারে আল্লাহর সাহায্যের কথা এসেছে।
- তাড়াহুড়া না করে সঠিকভাবে শোনা কুরআন শেখার আদব।
