৬৭/১১৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৪০ - নারীর গোপনীয়তা ও স্বামীর কাছে দেহের বর্ণনা
কোনো মহিলা তার দেখা আরেক মহিলার দেহের বর্ণনা নিজের স্বামীর কাছে দিবে না।
নারীর গোপনীয়তা রক্ষার হাদিস: স্বামীর কাছে অন্য নারীর দেহের বর্ণনা কেন নিষেধ
সহীহ বুখারী : ৫২৪০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৪০
مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لاَ تُبَاشِرُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَنْعَتَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّه“ يَنْظُرُ إِلَيْهَا.
আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: কোন নারী যেন তার দেখা অন্য নারীর দেহের বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে তাকে (ঐ নারীকে) চাক্ষুষ দেখতে পাচ্ছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো নারীর গোপনীয়তা রক্ষা করা। নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন, কোনো নারী যেন অন্য নারীর দেহের বর্ণনা নিজের স্বামীর কাছে এমনভাবে না দেয়, যেন স্বামী তাকে চোখের সামনে দেখছে। এখানে কথার শালীনতা, দৃষ্টির হেফাজত এবং অন্যের ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে এসেছে। অনেক সময় গল্প করতে গিয়ে মানুষ অন্যের শরীর, রূপ বা গঠন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে ফেলে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, এমন কথা দাম্পত্য জীবনের ভেতরেও নিরাপদ নয়। কারণ এতে অন্য নারীর প্রতি কল্পনা, আগ্রহ বা অস্বস্তিকর ভাব তৈরি হতে পারে। তাই মুসলিম নারী-পুরুষের উচিত অন্যের দেহ, সৌন্দর্য বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সীমা মেনে কথা বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্য নারীর দেহের বিস্তারিত বর্ণনা স্বামীর কাছে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- কথাবার্তায় লজ্জা, শালীনতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা ঈমানি আচরণের অংশ।
- দাম্পত্য সম্পর্কের ভেতরেও অন্যের ব্যক্তিগত মর্যাদা নষ্ট করা ঠিক নয়।
- চোখে না দেখেও কথার মাধ্যমে অনুচিত কল্পনা তৈরি হতে পারে—এ বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
