৬৭/১১৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৪১ - অন্য নারীর দেহের বর্ণনা থেকে সতর্কতা
কোনো মহিলা তার দেখা আরেক মহিলার দেহের বর্ণনা নিজের স্বামীর কাছে দিবে না।
অন্য নারীর দেহের বর্ণনা না দেওয়ার হাদিস ও নারীর গোপনীয়তার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫২৪১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৪১
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِي شَقِيقٌ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لاَ تُبَاشِرْ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَنْعَتَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّه“ يَنْظُرُ إِلَيْهَا.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: কোন নারী যেন তার দেখা অন্য নারীর দেহের বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে তাকে (ঐ নারীকে) দেখতে পাচ্ছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাটিও একই মূল বার্তা দেয়—কোনো নারী যেন তার দেখা অন্য নারীর দেহের বর্ণনা স্বামীর কাছে এমনভাবে না করে, যেন স্বামী তাকে দেখতে পাচ্ছে। হাদিসটি খুব ছোট, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। এখানে শুধু নারীর কথা বলা হলেও মূল শিক্ষা হলো অন্যের ব্যক্তিগত দেহসংক্রান্ত বিষয়কে কথার মাধ্যমে প্রকাশ না করা। নিজের স্বামীর সঙ্গে কথা বলার সময়ও সীমা আছে। সব কথা ঘরের ভেতর বলা যায় না, যদি তা অন্য কারও গোপনীয়তা ও সম্মানের সঙ্গে জড়িত হয়। এই হাদিস মুসলিম পরিবারকে শেখায়, কথার মাধ্যমেও পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করতে হয়। অন্য নারীর সৌন্দর্য, শরীর বা গঠন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা দাম্পত্য মনে কল্পনা সৃষ্টি করতে পারে, তাই তা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ও সুন্দর।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্য নারীর শরীরের বর্ণনা এমনভাবে দেওয়া যাবে না, যাতে শ্রোতার মনে দেখার মতো ধারণা তৈরি হয়।
- ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখা শালীন আচরণের অংশ।
- স্বামী-স্ত্রীর আলাপেও অন্যের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
- কথা বলার সময় পর্দা ও লজ্জাশীলতার সীমা মনে রাখা প্রয়োজন।
