৬৮/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৮৪ - আযাদ, ওলা ও হাদিয়ার শিক্ষা
বারীরার হাদিস: আযাদ, ওলা, সদকা ও হাদিয়ার পার্থক্য
সহীহ বুখারী : ৫২৮৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৮৪
عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الأَسْوَدِ أَنَّ عَائِشَةَ أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ بَرِيرَةَ فَأَبٰى مَوَالِيهَا إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطُوا الْوَلاَءَ فَذَكَرَتْ ذ‘لِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَأُتِيَ النَّبِيُّ ﷺ بِلَحْمٍ فَقِيلَ إِنَّ هٰذَا مَا تُصُدِّقَ بِه„ عَلٰى بَرِيرَةَ فَقَالَ هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌحَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ وَزَادَ فَخُيِّرَتْ مِنْ زَوْجِهَا.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে, 'আয়িশা (রাঃ) বারীরাকে কিনতে চাইলেন। কিন্তু তার মালিকগণ ওলী‘র (অভিভাবকত্বের অধিকার) শর্ত ব্যতীত বিক্রয় করতে অসম্মতি জানাল। তিনি বিষয়টি নবী (ﷺ)- এর কাছে জানালেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও এবং মুক্ত করে দাও। কেননা, ওলী‘র অধিকারী হল সে, যে আযাদ করে। নবী (ﷺ)- এর নিকট কিছু গোশ্ত আনা হল এবং বলা হল এ গোশ্ত বারীরাহ্কে সদাকাহ করা হয়েছে। তিনি বললেনঃ সেটা তার জন্য সদাকাহ আর আমাদের জন্য হাদিয়া। আদাম বর্ণনা করেন, শু‘বাহ আমাদের কাছে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাতে আরও বলা হয়েছে, স্বামীর সঙ্গে থাকা বা না থাকার ব্যাপারে তাকে এখ্তিয়ার দেয়া হয়েছিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরার ঘটনার কয়েকটি বিষয় একসাথে এসেছে। আয়েশা (রাঃ) বারীরাকে কিনতে চাইলেন, কিন্তু মালিকরা ওলার শর্ত দিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তাকে কিনে আযাদ করে দাও, কারণ ওলার অধিকার তার, যে আযাদ করে। এরপর বারীরাকে সদকা করা গোশত নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এলে বলা হলো, এটি বারীরাকে সদকা করা হয়েছে। তিনি বললেন, এটি তার জন্য সদকা, আর আমাদের জন্য হাদিয়া। শেষে আরও বলা হয়েছে, স্বামীর সঙ্গে থাকা বা না থাকার বিষয়ে বারীরাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল। তাই এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আযাদ করা, ওলার অধিকার, সদকা-হাদিয়ার পার্থক্য এবং বারীরার ব্যক্তিগত এখতিয়ার। ব্যাখ্যায় এগুলোর বাইরে বাড়তি দাবি করা ঠিক হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওলার অধিকার সে ব্যক্তির, যে আযাদ করে।
- একই বস্তু এক পক্ষের জন্য সদকা এবং অন্য পক্ষের জন্য হাদিয়া হতে পারে।
- বারীরাকে স্বামীর বিষয়ে থাকার বা না থাকার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল।
- শর্তের বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
