৬৮/২০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৮৮ - নারীদের বাই‘আত ও শালীনতা
যিম্মি বা হারবীর কোনো মুশরিক বা খ্রিস্টান স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে।
وَقَالَ عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ خَالِدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِذَا أَسْلَمَتِ النَّصْرَانِيَّةُ قَبْلَ زَوْجِهَا بِسَاعَةٍ حَرُمَتْ عَلَيْهِ وَقَالَ دَاوُدُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الصَّائِغِ سُئِلَ عَطَاءٌ عَنْ امْرَأَةٍ مِنْ أَهْلِ الْعَهْدِ أَسْلَمَتْ ثُمَّ أَسْلَمَ زَوْجُهَا فِي الْعِدَّةِ أَهِيَ امْرَأَتُهُ قَالَ لَا إِلَّا أَنْ تَشَاءَ هِيَ بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ وَصَدَاقٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ إِذَا أَسْلَمَ فِي الْعِدَّةِ يَتَزَوَّجُهَا وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ﴿.وَقَالَ الْحَسَنُ وَقَتَادَةُ فِي مَجُوسِيَّيْنِ أَسْلَمَا هُمَا عَلَى نِكَاحِهِمَا وَإِذَا سَبَقَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ وَأَبَى الْآخَرُ بَانَتْ لَا سَبِيلَ لَهُ عَلَيْهَا وَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ قُلْتُ لِعَطَاءٍ امْرَأَةٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ جَاءَتْ إِلَى الْمُسْلِمِينَ أَيُعَاوِضُ زَوْجُهَا مِنْهَا لِقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾وَءَاتُوهُمْ مَا أَنْفَقُوا﴿ قَالَ لَا إِنَّمَا كَانَ ذَاكَ بَيْنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ أَهْلِ الْعَهْدِوَقَالَ مُجَاهِدٌ هَذَا كُلُّهُ فِي صُلْحٍ بَيْنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ قُرَيْشٍ.‘আবদুল ওয়ারিস (রহঃ) ........ ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, যদি কোনো খৃষ্টান নারী তার স্বামীর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে উক্ত মহিলা তার জন্য হারাম হয়ে যায়। দাউদ (রহঃ) ইবরাহীম সায়েগ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, ‘আত্বা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, চুক্তিবদ্ধ কোনো হারবীর স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে এবং ইদ্দতের মধ্যেই তার স্বামীও ইসলাম গ্রহণ করে, তবে কি মহিলা তার স্ত্রী থাকবে? তিনি উত্তর দিলেন, না। তবে সে মহিলা যদি নতুনভাবে বিয়ে ও মোহরে সম্মত হয়।মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, মহিলার ইদ্দতের মধ্যে স্বামী মুসলমান হলে সে তাকে বিয়ে করে নিবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “না তারা কাফিরদের জন্য হালাল, আর না কাফিরেরা তাদের জন্য হালাল” (সূরা মুমতাহিনা ৬০/১০)।অগ্নি উপাসক স্বামী-স্ত্রী মুসলমান হলে কাতাদা ও হাসান তাদের সম্বন্ধে বলেন, তাদের পূর্ব বিবাহ বলবৎ থাকবে। আর যদি তাদের কেউ আগে ইসলাম গ্রহণ করে, আর অন্যজন অস্বীকৃতি জানায়, তবে মহিলা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। স্বামীর জন্য তাকে গ্রহণ করার কোনো পথ খোলা থাকবে না। ইবন জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আমি ‘আত্বা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম: মুশরিকদের কোনো মহিলা যদি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের নিকট চলে আসে, তাহলে তার স্বামী কি তাকে বিনিময়ে গ্রহণ করতে পারবে? আল্লাহ তা‘আলা তো বলেছেন: “তারা যা ব্যয় করেছে তোমরা তাদেরকে তা দিয়ে দাও।” তিনি উত্তর দিলেন: না।এ আদেশ কেবল নবী (ﷺ) ও জিম্মীদের মধ্যে ছিল। (মুশরিকদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়)। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন: এ সব কিছু সে সন্ধির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল যা নবী (ﷺ) ও কুরাইশদের মধ্যে হয়েছিল।"
নারীদের বাই‘আত: কথার মাধ্যমে অঙ্গীকার গ্রহণের হাদিস
সহীহ বুখারী : ৫২৮৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৮৮
حَدَّثَنَا ابْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ،. وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ ﷺ قَالَتْكَانَتِ الْمُؤْمِنَاتُ إِذَا هَاجَرْنَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ ﷺ يَمْتَحِنُهُنَّ بِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ قَالَتْ عَائِشَةُ فَمَنْ أَقَرَّ بِهَذَا الشَّرْطِ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ فَقَدْ أَقَرَّ بِالْمِحْنَةِ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أَقْرَرْنَ بِذَلِكَ مِنْ قَوْلِهِنَّ قَالَ لَهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " انْطَلِقْنَ فَقَدْ بَايَعْتُكُنَّ "، لاَ وَاللَّهِ مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ، غَيْرَ أَنَّهُ بَايَعَهُنَّ بِالْكَلاَمِ، وَاللَّهِ مَا أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى النِّسَاءِ إِلاَّ بِمَا أَمَرَهُ اللَّهُ يَقُولُ لَهُنَّ إِذَا أَخَذَ عَلَيْهِنَّ " قَدْ بَايَعْتُكُنَّ ". كَلاَمًا.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে, নবী (ﷺ)- এর সহধর্মিণী 'আয়িশা (রাঃ) বলেন, ঈমানদার নারী যখন হিজরাত করে নবী (ﷺ)- এর কাছে আসত, তখন তিনি আল্লাহর এ নির্দেশঃ-“হে মু‘মিনগণ! ঈমানদার নারীরা যখন তোমাদের কাছে হিজরাত করে আসে তখন তাদেরকে পরখ করে দেখ” অনুসারে তাদেরকে পরখ করতেন। (তারা সত্যিই ঈমান এনেছে কি না) ....... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।” (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৬০ : ১০)'আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ ঈমানদার নারীদের মধ্যে যারা (আয়াতে উল্লেখিত) শর্তাবলী মেনে নিত, তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হত।তাই যখনই তারা এ সম্পর্কে মুখে স্বীকারোক্তি করত তখনই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদেরকে বলতেন যাও, আমি তোমাদের বাই‘আত গ্রহণ করেছি। আল্লাহ্র কসম! কথার দ্বারা বাই‘আত গ্রহণ ব্যতীত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর হাত কখনো কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি। আল্লাহ্র কসম! তিনি কেবল সেসব বিষয়েই বাই‘আত গ্রহণ করতেন, যে সব বিষয়ে বাই‘আত গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাই‘আত গ্রহণ শেষে তিনি বলতেনঃ আমি কথা দ্বারা তোমাদের বাই‘আত গ্রহণ করলাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) হিজরতকারী মুমিন নারীদের পরীক্ষা ও বাই‘আতের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। নারীরা যখন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে হিজরত করে আসত, তখন আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তাদেরকে পরখ করা হতো। যারা আয়াতে উল্লেখিত শর্ত মেনে নিত, তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতো। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের বলতেন, যাও, আমি তোমাদের বাই‘আত গ্রহণ করেছি। আয়েশা (রাঃ) স্পষ্ট করে বলেন, কথার মাধ্যমে বাই‘আত ছাড়া রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হাত কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি শুধু সেসব বিষয়ে বাই‘আত নিতেন, যা আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো নারীদের বাই‘আত, ঈমানের পরীক্ষা, মুখের স্বীকারোক্তি এবং শালীনতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিজরতকারী নারীদের আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষা করা হতো।
- নারীদের বাই‘আত কথার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর নির্দেশের বাইরে বাই‘আত নিতেন না।
- শালীনতা ও সীমারেখা রক্ষা এই বর্ণনায় স্পষ্ট।
