৬৮/৩৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩১২ - লি‘আনে হিসাব আল্লাহর হাতে
লি‘আনকারীদ্বয়কে ইমামের এ কথা বলা যে, নিশ্চয় তোমাদের কোনো একজন মিথ্যাচারী, তাই তোমাদের কে তাওবা করতে প্রস্তুত আছ?
লি‘আনকারী দম্পতির হিসাব: আল্লাহর সামনে সত্য-মিথ্যা
সহীহ বুখারী : ৫৩১২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩১২
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ حَدِيثِ الْمُتَلاَعِنَيْنِ فَقَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِلْمُتَلاَعِنَيْنِ حِسَابُكُمَا عَلَى اللهِ أَحَدُكُمَا كَاذِبٌ لاَ سَبِيلَ لَكَ عَلَيْهَا قَالَ مَالِي قَالَ لاَ مَالَ لَكَ إِنْ كُنْتَ صَدَقْتَ عَلَيْهَا فَهُوَ بِمَا اسْتَحْلَلْتَ مِنْ فَرْجِهَا وَإِنْ كُنْتَ كَذَبْتَ عَلَيْهَا فَذَاكَ أَبْعَدُ لَكَ قَالَ سُفْيَانُ حَفِظْتُه“ مِنْ عَمْرٍو وَقَالَ أَيُّوبُ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ رَجُلٌ لاَعَنَ امْرَأَتَه“ فَقَالَ بِإِصْبَعَيْهِ وَفَرَّقَ سُفْيَانُ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطٰى فَرَّقَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَ أَخَوَيْ بَنِي الْعَجْلاَنِ وَقَالَ اللهُ يَعْلَمُ إِنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالَ سُفْيَانُ حَفِظْتُه“ مِنْ عَمْرٍو وَأَيُّوبَ كَمَا أَخْبَرْتُكَ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি লি'আনকারীদ্বয় সম্পর্কে ইবনু 'উমরকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) লি'আনকারীদ্বয়কে লক্ষ্য করে বলেছিলেনঃ তোমাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ্রই। তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাচারী। স্ত্রীর উপর তোমার কোন অধিকার নেই। লোকটি বললঃ তবে আমার মালের কী হবে? তিনি বললেনঃ তুমি কোন মাল পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও তাহলে এর বদলে তুমি তার লজ্জাস্থানকে হালাল করে নিয়েছিলে। আর যদি তার উপর মিথ্যারোপ করে থাক, তবে তা তো বহুদূরের ব্যাপার। সুফ্ইয়ান বলেনঃ আমি এ হাদীস 'আম্র (রহঃ)- এর নিকট হতে মুখস্থ করেছি।আইয়ুব (রহঃ) বলেন, সা'ঈদ ইবনু যুবায়র-এর কাছে শুনেছি, আমি ইবনু 'উমর (রাঃ)- কে জিজ্ঞেস করলামঃ এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে লি'আন করল (এখন তাদের বিধান কী?) তিনি তাঁর দু আঙ্গুল ইশারা করে বললেন, সুফ্ইয়ান তার তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল ফাঁক করে বললেন নবী (ﷺ) বনূ 'আজলানের এক দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্ক এভাবে ছিন্ন করে দেন এবং বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা জানেন যে, তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাচারী। সুতরাং কেউ তাওবাহ করতে প্রস্তুত আছ কি? এভাবে তিনি তিনবার বললেন। সুফ্ইয়ান বলেনঃ আমি তোমাকে যেভাবে হাদীসটি শুনাচ্ছি এভাবেই আমি 'আমর ও আইয়ুব (রহঃ) থেকে মুখস্থ করেছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ) লি‘আনকারী স্বামী-স্ত্রীর বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা বর্ণনা করেন। নবীজি বলেন, তোমাদের হিসাব আল্লাহর ওপর। তোমাদের একজন মিথ্যাচারী। এরপর স্বামীকে বলা হয়, স্ত্রীর ওপর তার আর কোনো অধিকার নেই। লোকটি তার মালের কথা জানতে চাইলে বলা হয়, সে মাল পাবে না। যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে তার সঙ্গে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক করেছে; আর যদি মিথ্যা বলে থাকে, তবে মাল পাওয়ার কথা আরও দূরের। হাদিসের দ্বিতীয় অংশে আঙুল ফাঁক করে বিচ্ছেদের ইশারাও এসেছে। এই হাদিসে লি‘আন, বিচ্ছেদ, আল্লাহর কাছে হিসাব এবং মোহরানার বিষয় একসঙ্গে আছে। তাই এটি দাম্পত্য অভিযোগের ভয়াবহতা বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লি‘আনের সত্য-মিথ্যার হিসাব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
- লি‘আনের পর স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার থাকে না—এ কথা এসেছে।
- মালের দাবির জবাবে হাদিসে স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়েছে।
- নবীজি বিচ্ছেদের বিষয়টি ইশারার মাধ্যমে বুঝিয়েছেন।
