৬৮/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩১১ - লি‘আন, তাওবা ও মোহরানা
লি‘আনকারীণীর মোহর।
লি‘আনের পর মোহরানা: সত্য-মিথ্যা ও তাওবার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫৩১১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩১১
عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ رَجُلٌ قَذَفَ امْرَأَتَه“ فَقَالَ فَرَّقَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَ أَخَوَيْ بَنِي الْعَجْلاَنِ وَقَالَ اللهُ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ فَأَبَيَا وَقَالَ اللهُ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ فَأَبَيَا فَقَالَ اللهُ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ فَأَبَيَا فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا قَالَ أَيُّوبُ فَقَالَ لِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ إِنَّ فِي الْحَدِيثِ شَيْئًا لاَ أَرَاكَ تُحَدِّثُه“ قَالَ قَالَ الرَّجُلُ مَالِي قَالَ قِيلَ لاَ مَالَ لَكَ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَقَدْ دَخَلْتَ بِهَا وَإِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَهُوَ أَبْعَدُ مِنْكَ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবনু 'উমরকে জিজ্ঞেস করলাম, এক লোক তার স্ত্রীকে অপবাদ দিল- (তার বিধান কী?) তিনি বললেন, নবী (ﷺ) বনূ 'আজলানের স্বামী-স্ত্রীর দুজনকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেনঃ আল্লাহ তা'আলা জানেন তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাচারী। কাজেই তোমাদের কেউ তাওবাহ করতে রাজি আছ কি? তারা দু'জনেই অস্বীকার করল। তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা অবহিত আছেন তোমাদের একজন মিথ্যাচারী, সুতরাং কেউ তাওবাহ করতে প্রস্তুত আছ কি? তারা আবারও অস্বীকার করল। তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা অবহিত আছেন তোমাদের একজন মিথ্যাচারী সুতরাং কেউ তাওবাহ করতে প্রস্তুত আছ কি? তারা আবারও অস্বীকার করল। এরপর তিনি তাদেরকে পৃথক করে দেন।আইয়ুব (রহঃ) বলেনঃ আমাকে 'আম্র ইব্নু দীনার (রহঃ) বললেন, এ হাদীসে আরও কিছু কথা আছে, তোমাকে তা বর্ণনা করতে দেখছি না কেন? তিনি বলেন, লোকটি বললঃ আমার (দেয়া) মালের কী হবে? তাকে বলা হল তোমার মাল ফিরে পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও, (তবুও পাবে না)। (কেননা) তুমি তার সঙ্গে সহবাস করেছ। আর যদি তুমি মিথ্যাচারী হও, তবে তা পাওয়া তো বহু দূরের ব্যাপার।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ) বানু আজলানের স্বামী-স্ত্রীর লি‘আনের ঘটনা বর্ণনা করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বারবার বলেন, আল্লাহ জানেন তোমাদের একজন মিথ্যাচারী; তোমাদের কেউ কি তাওবা করতে রাজি আছ? কিন্তু তারা অস্বীকার করে। এরপর তিনি তাদেরকে পৃথক করে দেন। হাদিসে মালের কথাও এসেছে। লোকটি তার দেওয়া মালের কথা জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, সে মাল পাবে না। যদি সে সত্যবাদী হয়, তবুও সে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করেছে; আর যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে মাল পাওয়ার প্রশ্ন আরও দূরের। এখানে লি‘আন, তাওবা, বিচ্ছেদ এবং মোহরানার বিষয় খুব সরাসরি আছে। হাদিসটি শেখায়, দাম্পত্য অভিযোগে কথার ভার আছে এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহি আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লি‘আনের সময় তাওবার আহ্বান করা হয়েছে।
- আল্লাহ সত্য-মিথ্যা জানেন—এ কথা বারবার স্মরণ করানো হয়েছে।
- লি‘আনের পর স্বামী-স্ত্রীকে পৃথক করা হয়েছে।
- হাদিসে মালের বিষয়ে ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ আছে।
