৬৮/৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩১০ - অভিযোগ, দোয়া ও লি‘আনের ফয়সালা
নবী (ﷺ)-এর উক্তি আমি যদি সুস্পষ্ট প্রমাণ ব্যতীত রজম করতাম।
লি‘আনের ঘটনায় অভিযোগ ও প্রমাণ: বিনা প্রমাণে শাস্তি নয়
সহীহ বুখারী : ৫৩১০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩১০
سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ عَنْ يَحْيٰى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّه“ ذُكِرَ التَّلاَعُنُ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ عَاصِمُ بْنُ عَدِيٍّ فِي ذ‘لِكَ قَوْلاً ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَتَاه“ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِه„ يَشْكُو إِلَيْهِ أَنَّه“ قَدْ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِه„ رَجُلاً فَقَالَ عَاصِمٌ مَا ابْتُلِيتُ بِهٰذَا الأَمْرِ إِلاَّ لِقَوْلِي فَذَهَبَ بِه„ إِلَى النَّبِيِّﷺ فَأَخْبَرَه“ بِالَّذِي وَجَدَ عَلَيْهِ امْرَأَتَه“ وَكَانَ ذ‘لِكَ الرَّجُلُ مُصْفَرًّا قَلِيلَ اللَّحْمِ سَبْطَ الشَّعَرِ وَكَانَ الَّذِي ادَّعٰى عَلَيْهِ أَنَّه“ وَجَدَه“ عِنْدَ أَهْلِه„ خَدْلاً آدَمَ كَثِيرَ اللَّحْمِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺاللَّهُمَّ بَيِّنْ فَجَاءَتْ شَبِيهًا بِالرَّجُلِ الَّذِي ذَكَرَ زَوْجُهَا أَنَّه“ وَجَدَه“ فَلاَعَنَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَهُمَا قَالَ رَجُلٌ لِابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمَجْلِسِ هِيَ الَّتِي قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَوْ رَجَمْتُ أَحَدًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ رَجَمْتُ هٰذِه„ فَقَالَ لاَ تِلْكَ امْرَأَةٌ كَانَتْ تُظْهِرُ فِي الإِسْلاَمِ السُّوءَقَالَ أَبُو صَالِحٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ آدَمَ خَدِلاً.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে, নবী (ﷺ)- এর কাছে লি'আন করার ব্যাপারটি আলোচিত হল। 'আসিম ইবনু আদী (রাঃ) এ ব্যাপারে একটি কথা জিজ্ঞেস করে চলে গেলেন। এরপর তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তি তার কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তার স্ত্রীর সাথে অন্য এক লোককে পেয়েছে। 'আসিম (রাঃ) বললেনঃ অযথা জিজ্ঞাসার কারণেই আমি এ ধরনের বিপদে পড়তাম।এরপর তিনি লোকটিকে নিয়ে নবী (ﷺ)- এর কাছে গেলেন এবং অভিযোগকারীর ব্যাপারটি তাঁকে জানালেন। লোকটি ছিল হলদে শীর্ণকায় ও সোজা চুল বিশিষ্ট। আর ঐ লোকটি যাকে তার স্ত্রীর কাছে পেয়েছে বলে সে অভিযুক্ত করে সে ছিল প্রায় কালো, স্থুল দেহের অধিকারী। নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ! সমস্যাটি সমাধান করে দিন। এরপর মহিলা ঐ লোকটির আকৃতি বিশিষ্ট সন্তান জন্ম দিল, যাকে তার স্বামী তার কাছে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। নবী (ﷺ) তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয়কে লি'আন করালেন।এক ব্যক্তি ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)- কে সে মজলিসেই জিজ্ঞেস করলঃ এ মহিলা সম্বন্ধেই কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছিলেন? “আমি যদি কাউকে বিনা প্রমাণে রজম করতাম, তবে একেই রজম করতাম।” ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ না, সে ছিল এক মহিলা, যে মুসলিম সমাজে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকত।আবু সলিহ ও 'আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফের বর্ণনায় خَدِلاَ اَدَمَ শব্দ এসেছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আসিম ইবনু আদী (রাঃ)-এর সঙ্গে জড়িত একটি ঘটনা এসেছে। তার গোত্রের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য এক লোককে পেয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, হে আল্লাহ! সমস্যাটি সমাধান করে দিন। পরে মহিলা এমন সন্তানের জন্ম দেয় যার আকৃতি অভিযুক্ত লোকটির মতো ছিল। এরপর নবীজি তাদের মধ্যে লি‘আন করান। হাদিসের শেষ অংশে ইবনু আব্বাস (রাঃ) স্পষ্ট করেন যে বিনা প্রমাণে রজমের কথাটি এই মহিলার বিষয়ে নয়। তাই এখানে খুব বড় শিক্ষা হলো: সন্দেহ, সাদৃশ্য বা অভিযোগ থাকলেও শরঈ প্রমাণ ছাড়া শাস্তি দেওয়া হয় না। লি‘আন, প্রমাণ, অপবাদ এবং ন্যায়বিচার—এই বিষয়গুলো হাদিসে সরাসরি আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর অভিযোগে শরঈ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন আছে।
- নবীজি সমস্যার সত্য প্রকাশের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।
- লি‘আনের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বিষয় ফয়সালা করা হয়েছে।
- বিনা প্রমাণে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি হাদিসে সমর্থন করা হয়নি।
