৬৮/৩৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩১৬ - সত্য প্রকাশের দোয়া ও লি‘আন

ইমামের উক্তি: হে আল্লাহ! সত্য প্রকাশ করে দিন।

সত্য প্রকাশের দোয়া: লি‘আনের ঘটনায় নবীজির শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩১৬

إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ عَنْ يَحْيٰى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ الْقَاسِمِ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّه“ قَالَ ذُكِرَ الْمُتَلاَعِنَانِ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ عَاصِمُ بْنُ عَدِيٍّ فِي ذ‘لِكَ قَوْلاً ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَتَاه“ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِه„ فَذَكَرَ لَه“ أَنَّه“ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِه„ رَجُلاً فَقَالَ عَاصِمٌ مَا ابْتُلِيتُ بِهٰذَا الأَمْرِ إِلاَّ لِقَوْلِي فَذَهَبَ بِه„ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَأَخْبَرَه“ بِالَّذِي وَجَدَ عَلَيْهِ امْرَأَتَه“ وَكَانَ ذ‘لِكَ الرَّجُلُ مُصْفَرًّا قَلِيلَ اللَّحْمِ سَبْطَ الشَّعَرِ وَكَانَ الَّذِي وَجَدَ عِنْدَ أَهْلِه„ آدَمَ خَدْلاً كَثِيرَ اللَّحْمِ جَعْدًا قَطَطًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺاللَّهُمَّ بَيِّنْ فَوَضَعَتْ شَبِيهًا بِالرَّجُلِ الَّذِي ذَكَرَ زَوْجُهَا أَنَّه“ وَجَدَ عِنْدَهَا فَلاَعَنَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بَيْنَهُمَا فَقَالَ رَجُلٌ لِابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمَجْلِسِ هِيَ الَّتِي قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ رَجَمْتُ أَحَدًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ لَرَجَمْتُ هٰذِه„ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لاَ تِلْكَ امْرَأَةٌ كَانَتْ تُظْهِرُ السُّوءَ فِي الإِسْلاَمِ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

লি'আনকারী দম্পতিদ্বয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)- এর সম্মুখে আলোচনা হচ্ছিল। ইতোমধ্যে আসিম ইবনু আদী (রাঃ) এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে গেলেন। এরপর তার গোত্রের এক লোক তার কাছে এসে জানাল যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক লোককে পেয়েছে। আসিম বললেন, অযথা জিজ্ঞাসাবাদের দরুনই আমি এ বিপদে পড়লাম।এরপর তিনি তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)- এর কাছে গেলেন এবং যে লোকটিকে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে পেয়েছে, তার সম্পর্কে নবী (ﷺ)- কে জানালেন। অভিযোগকারী ছিলেন হলদে শীর্ণকায় ও সোজা চুল বিশিষ্ট। আর তার স্ত্রীর কাছে পাওয়া লোকটি ছিল মোটা ধরনের স্থুলকায় ও খুব কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সত্য প্রকাশ করে দিন।এরপর মহিলা ঐ লোকটির আকৃতির একটি সন্তান জন্ম দেয়, যাকে তার স্বামী তার সঙ্গে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) উভয়কেই লি'আন করালেন। এক ব্যক্তি ইব্‌নু 'আব্বাস (রাঃ)- কে সেই মজলিসেই জিজ্ঞেস করল, ঐ মহিলা সম্বন্ধেই কি রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছিলেনঃ আমি যদি বিনা প্রমাণে কাউকে রজম করতাম তাহলে একে রজম করতাম? ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ না, সে ছিল অন্য এক মহিলা সে মুসলিম সমাজে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকত।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩১৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে লি‘আনকারী দম্পতির ঘটনা আবার এসেছে, তবে কিছু আলাদা বর্ণনা আছে। আসিম ইবনু আদী (রাঃ)-এর গোত্রের এক ব্যক্তি জানায় যে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য একজনকে পেয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ঘটনাটি জানানো হলে তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আপনি সত্য প্রকাশ করে দিন। পরে সন্তান এমন আকৃতির হয়, যা অভিযোগের সঙ্গে মিল ছিল। এরপর নবীজি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে লি‘আন করান। শেষে ইবনু আব্বাস (রাঃ) স্পষ্ট করেন, বিনা প্রমাণে রজমের কথাটি এই মহিলার বিষয়ে ছিল না। হাদিসটি শেখায়, গুরুতর অভিযোগে আবেগ নয়, সত্য, প্রমাণ এবং শরঈ পথের দরকার। কাউকে শুধু সন্দেহে শাস্তি দেওয়ার পথ এখানে নেই।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজি সত্য প্রকাশের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।
  • গুরুতর অভিযোগে লি‘আনের প্রক্রিয়া এসেছে।
  • বিনা প্রমাণে শাস্তির কথা এই ঘটনার জন্য বলা হয়নি।
  • সন্দেহের বিষয়ে শরঈ পদ্ধতি ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন