৬৮/৪৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩৩২ - হায়েজ অবস্থায় তালাকের বিধান
মহান আল্লাহর বাণী: তালাকপ্রাপ্তাদের স্বামীরা (ইদ্দতের মধ্যে) তাদের ফিরিয়ে আনার অগ্রাধিকার রাখে। (সূরা আল-বাকারা ২/২২৮)
وَكَيْفَ يُرَاجِعُ الْمَرْأَةَ إِذَا طَلَّقَهَا وَاحِدَةً أَوْ ثِنْتَيْنِ.এবং এক বা দু’তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার নিয়ম সম্পর্কিত।"
হায়েজ অবস্থায় তালাক নয়: ইদ্দত মেনে তালাকের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫৩৩২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩৩২
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ طَلَّقَ امْرَأَةً لَه“ وَهِيَ حَائِضٌ تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً فَأَمَرَه“ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يُمْسِكَهَا حَتّٰى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ عِنْدَه“ حَيْضَةً أُخْر‘ى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتّٰى تَطْهُرَ مِنْ حَيْضِهَا فَإِنْ أَرَادَ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا حِينَ تَطْهُرُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُجَامِعَهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ وَكَانَ عَبْدُ اللهِ إِذَا سُئِلَ عَنْ ذ‘لِكَ قَالَ لِأَحَدِهِمْ إِنْ كُنْتَ طَلَّقْتَهَا ثَلاَثًا فَقَدْ حَرُمَتْ عَلَيْكَ حَتّٰى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَكَوَزَادَ فِيهِ غَيْرُه“ عَنْ اللَّيْثِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ قَالَ ابْنُ عُمَرَ لَوْ طَلَّقْتَ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ فَإِنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَمَرَنِي بِهَذَا.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু ‘উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় এক তালাক দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে আদেশ দিলেন, তিনি যেন তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন এবং মহিলা পবিত্র হয়ে আবার ঋতুবতী হয়ে পরবর্তী পবিত্রা অবস্থা আসা পর্যন্ত তাঁকে নিজের কাছে রাখেন। পবিত্র অবস্থায় যদি তাঁকে তালাক দিতে চায় তবে সঙ্গমের পূর্বে ত্বলাক দিতে হবে। এটাই ইদ্দাত, যে সময় স্ত্রীদেরকে তালাক দেয়ার জন্য আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন।‘আবদুল্লাহকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাদের বলেনঃ তুমি যদি তাঁকে তিন তালাক দিয়ে দাও, তবে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করা পর্যন্ত তোমার জন্য হারাম হয়ে যাবে। অন্য বর্ণনায় ইব্ন ‘উমর (রাঃ) বলতেন, ‘তুমি যদি এক বা দু’তালাক দিতে’ কারণ নবী (ﷺ) আমাকে এরকমই নির্দেশ দিয়েছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন উমর (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি তাঁর স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় এক তালাক দেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে নির্দেশ দেন, তিনি যেন স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেন এবং তাকে নিজের কাছে রাখেন, যতক্ষণ না সে পবিত্র হয়, আবার ঋতুবতী হয়, তারপর আবার পবিত্র হয়। এরপর যদি তালাক দিতে চান, তবে পবিত্র অবস্থায় সহবাসের আগে তালাক দিতে হবে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, তালাকেরও সময় ও নিয়ম আছে। রাগের মুহূর্তে বা ভুল সময়ে তালাক দেওয়া শরিয়তের নির্দেশের সঙ্গে মেলে না। ইদ্দত, পবিত্রতা এবং সহবাসের আগের অবস্থা—এসব বিষয় তালাকের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বর্ণনা মানুষকে সতর্ক করে, তালাকের সিদ্ধান্ত জ্ঞান ছাড়া নেওয়া উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ অবস্থায় তালাক দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- তালাক দিতে হলে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম জানা জরুরি।
- ভুল হলে সংশোধনের জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে।
- তিন তালাকের ফল গুরুতর—এ বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
